Showing posts with label ইত্তেফাক. Show all posts
Showing posts with label ইত্তেফাক. Show all posts

Thursday, February 12, 2009

জোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুনর্ীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে

সংসদে প্রধানমন্ত্রী আরো বললেন

০ বিচার বহিভর্ূত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

০ অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে নিরীহ মানুষকে নির্যাতন করা হয়েছে।

।। ইত্তেফাক রিপোর্ট ।।

বিগত চারদলীয় জোট সরকার আমলের দুনর্ীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে বর্তমান মহাজোট সরকার। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মজিবুল হকের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, জোট সরকার আমলে যে পরিমাণ দুনর্ীতি হয়েছে তাতে দুনর্ীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা প্রয়োজন এবং এ ব্যাপারে যথাযথ পদৰেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী যদি কালো টাকা সাদা করেন, তাহলে বুঝতে হবে এদেশে কি পরিমাণ দুনর্ীতি হয়েছে। তাদের ছেলেরা দুনর্ীতির মাধ্যমে কত টাকা বানিয়েছে তাও দেখা প্রয়োজন। একজন সদস্যের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিচার বহিভর্ূত হত্যাকাণ্ড বন্ধেরও অঙ্গিকার করেন। তিনি বলেন, জোট সরকার আমলেই র্যাব গঠনের মাধ্যমে বিচার বহিভর্ূত হত্যাকাণ্ড শুরম্ন হয়েছে। এসব বিচার বহিভর্ূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি সংসদকে জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, বিগত জোট সরকার আমলে দেশে ব্যাপক দুনর্ীতি হয়েছে। তাদের দুনর্ীতির চিত্র ও বিদেশে অর্থ পাচারের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ঘুষ নেয়ার কথাও পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে। যেহেতু এ ব্যাপারে তদনত্দ চলছে তাই তদনত্দের স্বার্থে এখন সব বলা ঠিক হবে না। আমার কাছেও অনেক তথ্য আছে। দেশ-বিদেশ থেকে অনেক তথ্য আমার কাছে এসেছে। আমরা সব দুনর্ীর্তিরই তদনত্দ করব। ইতিমধ্যেই বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস'া নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উত্তরের জন্য গতকাল সংসদে লিখিতভাবে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর মধ্যে প্রথম প্রশ্নটি ছিল বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারম্নকের। তবে বিরোধী দল সংসদের বাইরে থাকায় তার পৰে প্রশ্নটি উত্থাপন করেন নোয়াখালী-৬ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ফজলুল আজিম। এই প্রশ্নে দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান মহাজোট সরকারের পরিকল্পনা ও পদৰেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লৰ্যে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস'াসমূহকে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সকল ধরনের অপরাধ দমন, অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধী, সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও চরমপন'িদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জঙ্গি সংগঠনগুলোর অর্থায়নের উৎস, দেশী ও আনত্দর্জাতিক সম্পৃক্ততা, দেশি-বিদেশি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র ও প্রশিৰণ সংক্রানত্দ প্রাপ্ত তথ্যাদির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস'া গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অস্ত্র ও মাদক পাচার রোধে বিডিআর ও কোস্টগার্ডের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নারী ও শিশু পাচার রোধের লৰ্যে কার্যকর পদৰেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লৰ্যে সরকারি ও বেসরকারি সংস'ার সমন্বয়ে গঠিত কমিটির কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বিচার বহিভর্ূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে কিনা এবং এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস'া নেয়া হবে কিনা- ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের এমন এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে জোট সরকারেরই সময় এসব বিচার বহিভর্ূত হত্যাকাণ্ড শুরম্ন হয়েছে। অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে নিরীহ মানুষকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। র্যাব তৈরি করে মানুষ ধরে এনে হত্যা করা হয়েছে। এটার বিরম্নদ্ধে কিছু বলা যাবে না- এটা কেমন কথা। আমি প্রথম এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলাম। যে যত বড়ই অপরাধী হোক না কেন, তার বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। আইনের শাসন হাতে নেয়া যায় না। ভবিষ্যতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড যাতে আর না ঘটে সেই ব্যবস'া নিতে সচেষ্ট হব। তবে বাঘ একবার রক্তের স্বাদ পেলে সেই স্বাদ ভুলতে পারে না। এ অভ্যাস দূর করতে সময় লাগবে। যারা এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়েছে। নতুন সৃষ্ট এ কমিশনকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে যা যা করা প্রয়োজন আমরা দ্রম্নততার সঙ্গে তার সবই করব। বর্তমান সরকার গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী। দেশে মানবাধিকার যাতে কোনভাবে লঙ্ঘিত না হয় সে বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে এবং থাকবে।

সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরম্নর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের পুরস্কৃত করা শুরম্ন হয়েছে ৭৫ সালে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে। গত জোট সরকার আমলে শত শত আওয়ামী লীগ নেতা-কমর্ীকে হত্যা করা হয়েছিল। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলার পরিস'িতি নিয়ে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আর যাতে কোন মানবাধিকার লঙ্ঘন না ঘটে সেই ব্যবস'া নেয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনীর মধ্যে কেউ চিহ্নিত সন্ত্রাসী থাকলে তার বিরম্নদ্ধে ব্যবস'া নেয়া হবে। আইন-শৃৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনীর সদস্যদের গাফলতির জন্য জবাবদিহিতা সৃষ্টি করা হবে।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সরকারের পদৰেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত হ"েছ গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে না পারলে নাগরিক অধিকার, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর বার বার আঘাত আসবে। যেমনটি ঘটেছে ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ও ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস'ায় জাতীয় ৪ নেতার হত্যাকাণ্ডে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ এবং শানত্দিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচন গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছে। বর্তমান সরকার তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরো সুদৃঢ় করার অঙ্গিকারবদ্ধ।

তিনি আরো বলেন, নির্বাহী বিভাগ থেকে ইতিমধ্যে বিচার বিভাগকে পৃথক করা হয়েছে। স্বাধীন এবং শক্তিশালী বিচার ব্যবস'া গড়ার লৰ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সকল আইন সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার লৰ্যে আমরা জাতীয় সংসদকে সরকারের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।

শেখ হাসিনা বলেন, গত ২২ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যথাসময়ে শানত্দিপূর্ণ ও নিরপেৰভাবে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও আমরা আশা করি। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লৰ্যে আমরা কার্যকর শক্তিশালী স'ানীয় সরকার ব্যবস'া গড়ে তুলতে চাই। প্রশাসনের সকল ৰেত্রে স্ব"ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লৰ্যে কাজ করছি। অফিস-আদালতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, স্ব"ছতা ও জবাবদিহিতা সৃষ্টির ৰেত্রে সহায়তা করবে। সমাজের সকল সত্দর থেকে দুনর্ীতি নিমর্ূল করার কার্যকর পদৰেপ গ্রহণ করা হ"েছ।

রংপুরকে কবে বিভাগ হিসাবে ঘোষণা করা হবে এ প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, রংপুর বিভাগ করার ঘোষণা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল। বিভাগ সৃষ্টি করার জন্য সরকারের কিছু আনুষ্ঠানিকতা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করতে হয়। এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রংপুরকে বিভাগে উন্নীত করার কার্যকর পদৰেপ গ্রহণ করা হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে ছাত্র ভর্তি চলছে। এ সরকারের বেগম রোকেয়ার নামে রোকেয়া স্মৃতি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় করারও পরিকল্পনা রয়েছে। এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সৈয়দপুরকে জেলা করার বিষয়ে জনসংখ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরীৰা-নিরীৰা করার পর ব্যবস'া গ্রহণ করতে হবে। তবে সৈয়দপুর যাতে জেলার মতো সুযোগ-সুবিধা পায়, সেই ব্যবস'া গ্রহণ করা হবে এবং ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য রেললাইন স'াপন করা হবে। [][]

Thursday, February 5, 2009

জাবিতে ছাত্রদল নেতা প্রহৃত

জাবিতে ছাত্রদল নেতা প্রহৃত


পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের হাতে এক ছাত্রদল নেতা আহত হয়েছে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাম বরকত হলের ছাত্রদল নেতা আবু সায়েম সোহেল সকালের খাবার শেষে হলে ফেরার সময় একই হলের ছাত্রলীগের জুনিয়র নেতা-কর্মীরা তাকে হলের গেস্টরুমে নিয়ে রড, লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। এ প্রসঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল হাদী ভুঁইয়া শরীফ বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না, তবে পূর্বের কোন শত্রুতার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

জা’নগর বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
ইত্তেফাক, ৩১ ডিসেম্বর ২০০৮

Wednesday, February 4, 2009

ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণের এখনই সময় ঃ ক্রেইগ ব্যারেট

ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণের এখনই সময় ঃ ক্রেইগ ব্যারেট

ক্রেইগ ব্যারেট বিগত দশকগুলোতে তার ব্যবসায়িক দক্ষতার সুনিপুনতায় ইন্টেলকে রূপান্তর করেছেন বিশ্বের এক নম্বর ও সবচেয়ে শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিতে। তিনি যে তার কর্মক্ষেত্রে সফল একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এখন তিনি নতুন এক চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন। এই চ্যালেঞ্জের নাম ‘ডিজিটাল ডিভাইড’ বা ডিজিাল পার্থক্য দূরীকর। এজন্য উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোতে কম দামে কম্পিউটার সরবরাহ, ক্লাসমেট পিসি প্রদান এবং শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা করে চলেছেন তিনি। ২০০৫ সালে ইন্টেলের সিইও পদ ছেড়ে দিয়ে এ সকল মানব সম্পদ উন্নয়নমূলক কাজগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছুদিন আগে ডিজিটাল ডিভাইড দূরীকরণ নিয়ে তিনি একটি পশ্চিমা মিডিয়াকে সাক্ষাতকার দিয়েছেন ও এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেছেন।

আফ্রিকার দেশ উগান্ডার দারিদ্র দূরীকরণে ইন্টেলের সাবেক সিইও ক্রেইগ ব্যারেট হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কিভা অরগ (িি.িশরাধ.ড়ৎম) ওয়েব সাইটের মাধ্যমে। অনলাইনে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা দিয়ে সাহায্য করে এই সংস্থা। মূলত ঋণটি দেওয়া হয় কম্পিউটার যন্ত্রাংশ মেরামত ও সংযোজন, কম্পিউটার একসেসরিজ বিক্রির জন্য ছোট দোকান কিংবা ছোটখাট আইটি সার্ভিস ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরিতে। উগান্ডায় এভাবে অনেক কম্পিউটারের দোকান খুলতে সাহায্য করেছে এই ঋণ। তবে এর ফলে কি ডিজিটাল ডিভাইড বা ডিজিটাল বৈষম্য দূর হচ্ছে? ক্রেইগ ব্যারেট এখানে দু’টি কারণ চিহ্নিত করেছেন যা তাকে আশা জোগায় এভাবে ডিজিটাল বৈষম্য ধীরে ধীরে দূর হচ্ছে। তার মতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আইসিটি মার্কেট ক্রমেই বৃহৎ পরিসরে উন্মুক্ত হচ্ছে, যার ফলাফল হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি। আফ্রিকার মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি। দ্বিতীয়ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নের স্রোতধারাটি বুঝতে হবে, প্রথমে তাদের কাছে কোন প্রযুক্তিই ছিল না, তারপর তাদের কাছে মোবাইল ফোন নতুন দ্রুত যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে এল আর এখন চলছে ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তা। লক্ষ্য করলে দেখবেন, এসব প্রযুক্তিগত উত্তরণের জন্য প্রতিটি উন্নয়নশীল দেশের ৫-৬ বছর সময় লেগেছে। আফ্রিকার মোবাইল ফোন ব্যবহারের জনপ্রিয়তা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। গত বছর কিলিমাঞ্জেরো পর্বতমালা ভ্রমণ করতে আমি আর আমার স্ত্রী আফ্রিকায় গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের যে গাইড ছিল, সে সারাদিন মোবাইল ফোনে কথা বলছিল তার পরিবারের সদস্যদের সাথে। আফ্রিকার উপর দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ গিয়েছে তাই সেখানে ব্রডব্যান্ড ও ওয়্যারলেস ইন্টারনেট অবকাঠামো খুব সহজেই গড়ে উঠছে।

এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকারও কিছু অর্থনৈতিক সহায়তা প্রকল্প চালু করে তথ্যপ্রযুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করছে। এ বিষয়ে উদাহরণ দিতে গেলে সবার আগে চলে আসে চীনের নাম। চীন বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সেলফোন মার্কেট আর দ্বিতীয় বৃহত্তম কম্পিউটার মার্কেট। দু’তিন বছরের মধ্যেই আশা করা হচ্ছে চীন বিশ্বের বৃহত্তম কম্পিউটার মার্কেটে পরিণত হবে। এ জন্য চীনের সরকারেরও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রকল্প রয়েছে। আর প্রতিবেশী দেশ ভারত চীন থেকে চার পাঁচ বছর প্রযুক্তিতে পিছিয়ে আছে, আফ্রিকা আবার ভারতের চেয়ে পাঁচ-ছয় বছর পিছিয়ে আছে। কিন্তু সবগুলো দেশই এগিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। এই চেষ্টা অব্যাহত রাখলে ডিজিটাল বৈষম্য খুব শীঘ্রই দূর না হলেও একদিন হয়ত থাকবে না। কিন্তু আমাদের ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে। এখন যে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করার জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে একে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণের এখনই সময়। তবে ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাস করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হল অশিক্ষা ও নিরক্ষরতা। বর্তমান পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে এমনকি অনেক উন্নত দেশের তরুণ ও কিশোর সমাজ শিক্ষার সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তারা সাধারণ শিক্ষারই যেখানে সুযোগ পাচ্ছে না সেখানে আইসিটি ভিত্তিক শিক্ষার বিষয়টি তুললে তা স্বপ্নই ধরে নিতে হবে। একইভাবে অনেক উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশও শিক্ষায় অগ্রসর হওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করছে। এর মানে হল হতাশার বিপরীতে যথেষ্ট আশাও রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার উপকরণের মধ্যে আমাদেরকে আইসিটি ছড়িয়ে দিতে হবে। কমমূল্যে ক্লাসমেট পিসি সরবরাহ করার ব্যবস্থা আমরা করেছি এবং অনেক দেশের সরকারই ভর্তুকী দিয়ে হলেও এ সুবিধা গ্রহণ করেছে। এভাবে শিশুদের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে আনা সম্ভব। যদি তরুণদের মধ্যে এই হতাশা ঢুকে যায় যে, তাদের কোন ভবিষ্যত নেই, কোন কিছু করার নেই, তাহলে তারা মনে মনে ফন্দি আটবে অন্য কাউকে বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করে দিতে। আমাদের এখনই সতর্ক হয়ে এ দিকগুলোও ভাবতে হবে নতুবা ডিজিটাল বৈষম্যের ফলাফল ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। আর প্রযুক্তিগত দিক দিয়েও একটি সমস্যা রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনীতির মতো শক্তিশালী না হওয়ায় সফটওয়্যার সুবিধা তারা খুব বেশি পাচ্ছে না। আবার বিভিন্ন দেশের ভাষা বিভিন্ন হওয়ায় ইন্টারনেটের বিষয়বস্তুগুলোও সবাই গ্রহণ করতে পারছেনা। কেবলমাত্র ভারতেই ১৪টি জাতীয় ভাষা রয়েছে আর অনেক উপভাষাত্ত ব্যবহার রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় ভাষা ১১টি। তাই ভাষাগত সমস্যা দূর করে প্রযুক্তিকে ছড়িয়ে দিতে হবে সব অঞ্চলের ভাষায়। এভাবে তথ্যপ্রযুক্তির জন্য অবকাঠামো সব জায়গায় তৈরি করতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মাণে আমরা ক্লাসমেট পিসি তৈরি করেছি যা ১০০ থেকে ৩০০ ডলারের মধ্যে খরচ পড়ে। আর এর ফলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোও তাদের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তা পেতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তোলাকে আমি মনে করি ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণে প্রথম পদক্ষেপ। সেই সাথে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগও ছড়িয়ে দিতে হবে। অবশ্যই কম মূল্যে। তাহলে সেদিন আর খুব দূরে নয় যেদিন ডিজিটাল বৈষম্য একদম দূর হয়ে যাবে। ইন্টারনেটে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চীনের শিক্ষক প্রযুক্তির ক্লাস নিবে ব্রাজিলের ছাত্রদের।

সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক পরিচয় দিতে সাহস পাইতেছে- বিষয়টি উদ্বেগজনক

সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক পরিচয় দিতে সাহস পাইতেছে- বিষয়টি উদ্বেগজনক

নব নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসিবার পর জাতীয় জীবনে নতুন আশা-উদ্দীপনা সৃষ্টি হইয়াছে সত্য, তবে কোথাও কোথাও হঠাৎ করিয়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে জনমনে উদ্বেগ-উৎকক্তারও সৃষ্টি হইয়াছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারির ইত্তেফাকের এক খবরে বলা হইয়াছে, কারামুক্ত দাগী, খুনি, চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা তাহাদের পূর্বের এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করিতেছে। কারামুক্ত সন্ত্রাসীদের র‌্যাব ও পুলিশ পুনরায় সন্দেহভাজন হিসাবে গ্রেফতার করার উদ্যোগ লইলে রাজনৈতিক চাপের মুখে অনেক ক্ষেত্রে উহা সম্ভব হয় নাই। পুলিশ ও র‌্যাবের একাধিক কর্মকর্তা সূত্রে রাজনৈতিক চাপের কথা বলা হইয়াছে। বিষয়টি সত্যই উদ্বেগজনক। কারণ দলীয় রাজনীতি সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক হইয়া উঠিলে, গোটা রাজনীতি কীভাবে সন্ত্রাস কবলিত হইয়া পড়ে- পুরনো সেই রক্তাক্ত ও তিক্ত অভিজ্ঞতার স্মৃতি জাতি এখনো ভুলিয়া যায় নাই।

আইনি প্রক্রিয়ায় সন্ত্রাসীরা মুক্ত হইলে উহাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর করার কিছু নাই। কিন্তু মুক্ত হইবার পর সন্ত্রাসীদের পুনরায় অপরাধমূলক কার্যক্রমে তৎপর হওয়ার প্রমাণ পাইলেও পুলিশ-র‌্যাব যদি উপরওয়ালার ভয়ে হাত গুটাইয়া বসিয়া থাকে, তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পতন কেহ ঠেকাইতে পারিবে না। কারা সূত্রে জানা গিয়াছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নোটিশ বোর্ডে প্রতিদিন এখন সাড়ে ৪শ হইতে সাড়ে ৫শ আসামির নাম জামিনের জন্য টানানো হইতেছে। গত ২ বছরে র‌্যাব ও পুলিশের হাতে যেসব সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্রসহ ধরা পড়িয়াছে, তাহার অর্ধেকই ইতিমধ্যে জামিনে কারামুক্ত। ইহাছাড়া সন্ত্রাসের গডফাদার হিসাবে পরিচিত এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গা ঢাকা দিয়াছিল যাহারা, এখন প্রকাশ্যেই তাহারা ফিরিতে শুরু করিয়েছে। তাহাদের ব্যাপারে সরকার বিশেষ কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়াছে বলিয়া জানা যায় নাই। এই পরিস্থিতিতে অবশিষ্ট সন্ত্রাসীরাও আইনি প্রক্রিয়ায় কারাগার হইতে বাহির হইবার পর যদি পুরনো গডফাদারের পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তাহারা তৎপর হইয়া ওঠে, তবে অবধারিতভাবে খুনখারাপির ঘটনা বাড়িতে থাকিবে। সন্ত্রাসীরা সুযোগ পাইলেই কতোটা নৃশংস ও ভয়ঙ্কর হইয়া ওঠে, অতীতে অসংখ্য ঘটনায় উহার প্রমাণ রাখিয়াছে। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যে কয়েকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ সারা দেশে অপরাধের মাত্রা বাড়িয়া যাওয়ার লক্ষণ সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হইয়াছে। শিক্ষাঙ্গনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশের প্রবণতাও স্পষ্ট। সরকারের সময়োচিত কঠোর পদক্ষেপে শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি এখন অনেকটা শান্ত হইয়া আসিয়াছে। জমি দখল, ক্যাব সার্ভিস সেন্টার দখল ইত্যাকার কয়েকটি ক্ষেত্রেও সরকার যথেষ্ট কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করিয়া যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়াছে। কিন্তু দেশব্যাপী ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ খুন-খারাপির মাত্রা যদি বাড়িতেই থাকে এবং সেইসব ঘটনায় জামিনে কারামুক্ত সন্ত্রাসী বা দলীয় রাজনীতির সংযোগ জনমনে সন্দেহ জাগায়, তাহা হইলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে ক্রমেই সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলিয়া যাওয়ার আশঙ্কা বাড়িবে ইহাতে সন্দেহ করার কোনই কারণ থাকিবে না।

অতীতেও দেখা গিয়াছে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকার আমলে নানা অভিযোগে গ্রেফতারকৃতদের ছাড়ানোর একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়। কারণ রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী বা সমর্থকদের বিভিন্ন মামলা দিয়া হয়রানি করার দৃষ্টান্ত কমবেশি সব সরকারের আমলে দেখা গিয়াছে। কিন্তু রাজনৈতিক হয়রানির শিকারদের মুক্ত করিবার সুযোগে যদি চিহ্নিত সন্ত্রাসীরাও মুক্ত হইতে থাকে, তাহা হইলে গোটা রাজনীতি আবার সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হইয়া পড়ার ভয় অমূলক নহে। তাহাছাড়া অতীতে আরো দেখা গিয়াছে, একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সন্ত্রাসীদের ক্ষমতাসীন দলে ভিড়িয়া যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এবং ইহাও অনস্বীকার্য, সরকারি দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকিয়াই সন্ত্রাস রাজনীতিকে গ্রাস করিতে উদ্যত হইয়াছিল। অতীতের পুনরাবৃত্তি রোধে বর্তমান দিন বদলের পক্ষের সরকারকে অবশ্যই সর্বোচ্চ সতর্কতা দেখাইতে হইবে। রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব ধরনের সন্ত্রাসের লাগাম শক্ত হাতে টানিয়া ধরিতে হইবে এখনই।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নানা সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা থাকিলেও, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। কোনো প্রকার রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করিয়াছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। সদিচ্ছা থাকিলে নির্বাচিত সরকারের পক্ষেও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন নহে। জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থী নির্মূলের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাহার সরকারের শক্ত অবস্থানের কথা ঘোষণা করিয়াছেন। পাশাপাশি অন্যান্য সন্ত্রাসী-অপরাধীদের দমনের ব্যাপারেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিরপেক্ষ কঠোর ভূমিকা নিশ্চিত করিতে হইবে। সন্ত্রাসী-অপরাধী যেই হউক, তাহাকে গ্রেফতার করিবার নির্দেশ দিয়াছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। তাহার পরও সন্ত্রাসীদের অনেকে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়া পুলিশের উপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করিতে সাহস পাইতেছে।

রাত হলেই রাস্তা চলে যায় ছিনতাইকারীদের দখলে

রাত হলেই রাস্তা চলে যায় ছিনতাইকারীদের দখলে

।। জামিউল আহসান সিপু ।।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত নামলেই রাজধানীর অধিকাংশ রাস্তা চলে যায় ছিনতাইকারীর দখলে। রাজপথ থেকে শুরু করে অলিগলি সবখানেই চলে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য। ট্যাক্সিক্যাবযোগে ভ্রাম্যমাণ ছিনতাইকারীদের তৎপরতা আর রাস্তার মোড়ে মোড়ে ছদ্মবেশে অবস্থান নেয়ায় নগরবাসী ছিনতাইকারীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। রাতে একটু ফাঁকা রাস্তায় রিকশায় যাতায়াত করলেই রক্ষা নেই। ট্যাক্সিক্যাব অথবা প্রাইভেট কারে রিকশার গতিরোধ করে যাত্রীর কাছ থেকে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়।

রাতে সিএনজি অটো রিকশা বা ট্যাক্সিক্যাবে একা যাতায়াত করলে মলম পার্টির বা অজ্ঞান পার্টির অথবা ভ্রাম্যমাণ ছিনতাইকারীর খপ্পরে পড়েন নগরবাসী। প্রতিদিন রাজধানীতে শতাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। গড়ে ৭/৮টি ঘটনায় থানায় মামলা হচ্ছে। পুলিশ ও র‌্যাব ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ টিম গঠন করলেও কোন কাজে আসছে না। ডিএমপি’র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত ৬ মাসে রাজধানীতে যেসব ছিনতাইকারী গ্রেফতার হয়েছে তার বেশিরভাগ জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে এ পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যের মধ্যে অন্তত ১৫ জন দলনেতা রয়েছে যারা ডিবির হাতে ৩/৪ বার করে গ্রেফতার হয়েছে। এ ব্যাপারে র‌্যাব মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, ছিনতাইকারীদের ধরতে ছদ্মবেশে বেশ কয়েকটি টিম রাতে রাজধানীতে টহল দেয়। এ অভিযানে চিহ্নিত ছিনতাইকারীও ধরা পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছিনতাইকারী গ্রেফতারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাবের প্রায় ৫০টি টিম বিশেষ দায়িত্ব পালন করে। এদের হাতে প্রায় ছিনতাইকারী গ্রেফতার হলেও কার্যত ছিনতাইয়ের ঘটনা কমছে না। মহানগরের বিভিন্ন স্পটে ছিনতাইয়ের ঘটনা পর্যালোচনা করে ডিএমপি ৪৪১টি ছিনতাই স্পট নির্ধারণ করেছে। এসব স্পটের মধ্যে প্রায় ৫০টি স্পট রয়েছে যেগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নির্দিষ্ট স্পট অনুযায়ী মহানগরে ছিনতাইয়ের ঘটনা কমে গেছে। ঐসব স্পটে পুলিশের টহল জোরদার ও চেকপোস্ট বসানোয় ছিনতাইকারীরা সতর্ক হয়ে গেছে। এখন ছিনতাইকারীরা ট্যাক্সিক্যাব বা প্রাইভেট কারে গোটা রাজধানীতে ঘুরে বেড়ায়। নিরিবিলি সড়ক পেলে অবস্থা বুঝে যেকোন রিকশার গতিরোধ করে মোবাইল ফোনসেট ও মানিব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। ছিনতাইকারীরা গাড়ি ব্যবহার করে বলে একজন রিকশার যাত্রীর পক্ষে ছিনতাইকারীর পিছু নেয়া সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছিনতাইকারীরা কোন অস্ত্রও ব্যবহার করে না। ফলে কোন একটি নির্দিষ্ট চেকপোষ্টে ঐসব গাড়ি তল্লাশি করে পুলিশ ছিনতাইকারী সনাক্ত করতে পারে না। ছিনতাইয়ের শিকার অনেকেই লোকলজ্জা ও পুলিশী ঝামেলার ভয়ে থানায় মামলা করেন না। আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তি থানায় মামলার পরিবর্তে জিডি করেন।

গত সোমবার রাত ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরে ডায়াবেটিস সমিতি সেন্টারের সামনে তানভীর আলম রিকশায় যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। একই দিনে রাত ১১টার দিকে ২৬, নয়াপল্টনের রুমা ফার্মেসি থেকে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। সোমবার দুপুরে উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর রোডের ১০ নম্বর বাড়ির সামনে রিকশায় যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীরা রিকশার গতিরোধ করে আফরোজা আলমের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোনসেট নিয়ে যায়। রবিবার রাত ১টার দিকে বাংলামোটর মোড়ে ডিম ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে অর্ধশত ডিম ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার দিলে পুলিশ সোহেল নামে এক ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলে। ঐদিন একই সময়ে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের সামনে আবু জাফর নামে এক রিকশা যাত্রীর কাছ থেকে ছিনতাইকারীরা ১টি মোবাইল ফোনসেট ও ৫শ’ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ডিএমপি’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রাজধানীতে ছিনতাই রোধ করা পুলিশের পক্ষ সম্ভব নয়। কারণ ছিনতাইকারী গ্রেফতার হওয়ার পর ৩/৪ মাসের মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে ডিবির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, ছিনতাইকারী গ্রেফতারে পুলিশের অভিযানের পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতা প্রয়োজন। কারণ রাতে কেউ একাই ট্যাক্সিক্যাব বা সিএনজি অটোরিকশায় চড়লে তিনি মোবাইল ফোনে তার কোন আত্মীয়কে ঐ গাড়ির নম্বর ও চালকের নাম জানিয়ে দিতে হবে। এছাড়া গাড়ি বা রিকশায় চলার সময় নির্দিষ্ট সড়কের পরিবর্তে অন্য রাস্তা দিয়ে যেন না যায় সেক্ষেত্রে যাত্রীকে সতর্ক থাকতে হবে।