ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণের এখনই সময় ঃ ক্রেইগ ব্যারেট
ক্রেইগ ব্যারেট বিগত দশকগুলোতে তার ব্যবসায়িক দক্ষতার সুনিপুনতায় ইন্টেলকে রূপান্তর করেছেন বিশ্বের এক নম্বর ও সবচেয়ে শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিতে। তিনি যে তার কর্মক্ষেত্রে সফল একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এখন তিনি নতুন এক চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন। এই চ্যালেঞ্জের নাম ‘ডিজিটাল ডিভাইড’ বা ডিজিাল পার্থক্য দূরীকর। এজন্য উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোতে কম দামে কম্পিউটার সরবরাহ, ক্লাসমেট পিসি প্রদান এবং শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা করে চলেছেন তিনি। ২০০৫ সালে ইন্টেলের সিইও পদ ছেড়ে দিয়ে এ সকল মানব সম্পদ উন্নয়নমূলক কাজগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছুদিন আগে ডিজিটাল ডিভাইড দূরীকরণ নিয়ে তিনি একটি পশ্চিমা মিডিয়াকে সাক্ষাতকার দিয়েছেন ও এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেছেন।
আফ্রিকার দেশ উগান্ডার দারিদ্র দূরীকরণে ইন্টেলের সাবেক সিইও ক্রেইগ ব্যারেট হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কিভা অরগ (িি.িশরাধ.ড়ৎম) ওয়েব সাইটের মাধ্যমে। অনলাইনে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা দিয়ে সাহায্য করে এই সংস্থা। মূলত ঋণটি দেওয়া হয় কম্পিউটার যন্ত্রাংশ মেরামত ও সংযোজন, কম্পিউটার একসেসরিজ বিক্রির জন্য ছোট দোকান কিংবা ছোটখাট আইটি সার্ভিস ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরিতে। উগান্ডায় এভাবে অনেক কম্পিউটারের দোকান খুলতে সাহায্য করেছে এই ঋণ। তবে এর ফলে কি ডিজিটাল ডিভাইড বা ডিজিটাল বৈষম্য দূর হচ্ছে? ক্রেইগ ব্যারেট এখানে দু’টি কারণ চিহ্নিত করেছেন যা তাকে আশা জোগায় এভাবে ডিজিটাল বৈষম্য ধীরে ধীরে দূর হচ্ছে। তার মতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আইসিটি মার্কেট ক্রমেই বৃহৎ পরিসরে উন্মুক্ত হচ্ছে, যার ফলাফল হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি। আফ্রিকার মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি। দ্বিতীয়ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নের স্রোতধারাটি বুঝতে হবে, প্রথমে তাদের কাছে কোন প্রযুক্তিই ছিল না, তারপর তাদের কাছে মোবাইল ফোন নতুন দ্রুত যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে এল আর এখন চলছে ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তা। লক্ষ্য করলে দেখবেন, এসব প্রযুক্তিগত উত্তরণের জন্য প্রতিটি উন্নয়নশীল দেশের ৫-৬ বছর সময় লেগেছে। আফ্রিকার মোবাইল ফোন ব্যবহারের জনপ্রিয়তা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। গত বছর কিলিমাঞ্জেরো পর্বতমালা ভ্রমণ করতে আমি আর আমার স্ত্রী আফ্রিকায় গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের যে গাইড ছিল, সে সারাদিন মোবাইল ফোনে কথা বলছিল তার পরিবারের সদস্যদের সাথে। আফ্রিকার উপর দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ গিয়েছে তাই সেখানে ব্রডব্যান্ড ও ওয়্যারলেস ইন্টারনেট অবকাঠামো খুব সহজেই গড়ে উঠছে।
এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকারও কিছু অর্থনৈতিক সহায়তা প্রকল্প চালু করে তথ্যপ্রযুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করছে। এ বিষয়ে উদাহরণ দিতে গেলে সবার আগে চলে আসে চীনের নাম। চীন বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সেলফোন মার্কেট আর দ্বিতীয় বৃহত্তম কম্পিউটার মার্কেট। দু’তিন বছরের মধ্যেই আশা করা হচ্ছে চীন বিশ্বের বৃহত্তম কম্পিউটার মার্কেটে পরিণত হবে। এ জন্য চীনের সরকারেরও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রকল্প রয়েছে। আর প্রতিবেশী দেশ ভারত চীন থেকে চার পাঁচ বছর প্রযুক্তিতে পিছিয়ে আছে, আফ্রিকা আবার ভারতের চেয়ে পাঁচ-ছয় বছর পিছিয়ে আছে। কিন্তু সবগুলো দেশই এগিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। এই চেষ্টা অব্যাহত রাখলে ডিজিটাল বৈষম্য খুব শীঘ্রই দূর না হলেও একদিন হয়ত থাকবে না। কিন্তু আমাদের ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে। এখন যে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করার জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে একে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণের এখনই সময়। তবে ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাস করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হল অশিক্ষা ও নিরক্ষরতা। বর্তমান পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে এমনকি অনেক উন্নত দেশের তরুণ ও কিশোর সমাজ শিক্ষার সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তারা সাধারণ শিক্ষারই যেখানে সুযোগ পাচ্ছে না সেখানে আইসিটি ভিত্তিক শিক্ষার বিষয়টি তুললে তা স্বপ্নই ধরে নিতে হবে। একইভাবে অনেক উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশও শিক্ষায় অগ্রসর হওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করছে। এর মানে হল হতাশার বিপরীতে যথেষ্ট আশাও রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার উপকরণের মধ্যে আমাদেরকে আইসিটি ছড়িয়ে দিতে হবে। কমমূল্যে ক্লাসমেট পিসি সরবরাহ করার ব্যবস্থা আমরা করেছি এবং অনেক দেশের সরকারই ভর্তুকী দিয়ে হলেও এ সুবিধা গ্রহণ করেছে। এভাবে শিশুদের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে আনা সম্ভব। যদি তরুণদের মধ্যে এই হতাশা ঢুকে যায় যে, তাদের কোন ভবিষ্যত নেই, কোন কিছু করার নেই, তাহলে তারা মনে মনে ফন্দি আটবে অন্য কাউকে বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করে দিতে। আমাদের এখনই সতর্ক হয়ে এ দিকগুলোও ভাবতে হবে নতুবা ডিজিটাল বৈষম্যের ফলাফল ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। আর প্রযুক্তিগত দিক দিয়েও একটি সমস্যা রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনীতির মতো শক্তিশালী না হওয়ায় সফটওয়্যার সুবিধা তারা খুব বেশি পাচ্ছে না। আবার বিভিন্ন দেশের ভাষা বিভিন্ন হওয়ায় ইন্টারনেটের বিষয়বস্তুগুলোও সবাই গ্রহণ করতে পারছেনা। কেবলমাত্র ভারতেই ১৪টি জাতীয় ভাষা রয়েছে আর অনেক উপভাষাত্ত ব্যবহার রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় ভাষা ১১টি। তাই ভাষাগত সমস্যা দূর করে প্রযুক্তিকে ছড়িয়ে দিতে হবে সব অঞ্চলের ভাষায়। এভাবে তথ্যপ্রযুক্তির জন্য অবকাঠামো সব জায়গায় তৈরি করতে হবে।
তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মাণে আমরা ক্লাসমেট পিসি তৈরি করেছি যা ১০০ থেকে ৩০০ ডলারের মধ্যে খরচ পড়ে। আর এর ফলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোও তাদের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তা পেতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তোলাকে আমি মনে করি ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণে প্রথম পদক্ষেপ। সেই সাথে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগও ছড়িয়ে দিতে হবে। অবশ্যই কম মূল্যে। তাহলে সেদিন আর খুব দূরে নয় যেদিন ডিজিটাল বৈষম্য একদম দূর হয়ে যাবে। ইন্টারনেটে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চীনের শিক্ষক প্রযুক্তির ক্লাস নিবে ব্রাজিলের ছাত্রদের।
Showing posts with label ডিজিতাল বাংলাদেশ. Show all posts
Showing posts with label ডিজিতাল বাংলাদেশ. Show all posts
Wednesday, February 4, 2009
Tuesday, February 3, 2009
বিস্মৃতির স্মৃতিতে আওয়ামী দূর্বৃত্ত্বপনা ও দুঃশাসন
বিস্মৃতির স্মৃতিতে আওয়ামী দূর্বৃত্ত্বপনা ও দুঃশাসন
১। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট কারচুপি দেশের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচনী অপরাধ।
২। স্বাধীন দেশের প্রজাতন্ত্রের নিয়োগে প্রথম আওয়ামী দূর্নীতি - বিসিএসে তোফায়েল ক্যাডার প্রতিষ্ঠা, তারই ধারাবাহিকতায় ৯৬ এর জনতার মঞ্চ; প্রশাসন দলীয়করনের নির্লজ্জ উদাহরন যার ক্ষত বাংলাদেশ আজো বয়ে বেড়াচ্ছে।
৩। সিরাজ সিকদার হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের সূচনা এবং সংসদে দাঁড়িয়ে 'কোথায় সিরাজ সিকদার' বলে শেখ মুজিবের দূর্বীনীত আস্ফালন।
৪। বিরুদ্ধ মত দমনের জন্য রক্ষী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা রাজনৈতিক কর্মী হত্যার মাধ্যমে রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের উদ্বোধন।
৫। রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক সমাবেশে হামলা করে তা পন্ড করে দিয়ে রাজনৈতিক দমন পীড়নের শুভ মহরত অনুষ্ঠান।
৬। দূর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষের জন্য আসা কম্বল চুরি করে রিলিফ চুরির প্রথম নজির স্থাপন এবং শেখ মুজিবের চোরের খনি আবিস্কারের সদর্প ঘোষনা।
৭। চরম লুটপাট আর অব্যাবস্থাপনায় দেশের ইতিহাসে প্রথম দূর্ভিক্ষ সৃষ্টি অথচ নেতার পুত্রের বিয়েতে অভুতপূর্ব সাড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন করে নিরন্ন, নিবস্ত্র বাসন্তিদের অসহায়ত্ব নিয়ে পরিহাস।
৮। বিরুদ্ধ মত প্রবল হলে অবস্থা বেগতিক দেখে গণতান্ত্রিক মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে চরম স্বৈরতান্ত্রিক,গণতন্ত্রবিরোধী একদলীয় বাকশাল কায়েম। দেশের সকল নাগরিককে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাকশালে যোগদানে বাধ্য করা, চারটি বাদে সকল পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগতকরণ।
৯। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে অচল করে দিয়ে রক্ষীবাহিনীকে দেশের সেনাবাহিনীর স্থলাভিসিক্ত করার দূরভিসন্ধি প্রনয়ন।
১০। নির্বাচিত সরকারকে হঠিয়ে ক্ষমতায় আসা এরশাদের স্বৈরশাসনকে সমর্থন দিয়ে ৮৬ এর নির্বাচনে অংশগ্রহন এবং স্বঘোষিত জাতীয় বেঈমানের কালিমা নিজের গায়ে লাগিয়ে স্বৈরশাসনকে দীর্ঘায়িতকরণ।
১১। '৯১ এর নির্বাচনে পরাজিত হয়ে সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগে সংসদ অকার্যকর করার সমুদয় হঠকারী কার্যক্রম গ্রহন এবং ততকালীন সরকারকে একদিনও শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না বলে প্রকাশ্য ঘোষনা প্রদান। তারই ধারাবাহিকতায় একের পর এক হরতাল দিয়ে দেশের ইতিহাসে ১৭৩ দিনের হরতালের রেকর্ড সৃষ্টিকরণ। দিনের পর দিন চট্টগ্রাম বন্দর অচল করে রাখা, তথাকথিত অসহযোগ আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসকরণ।
১২। চাতুর্যপূর্ণ ভন্ডামীপনায় হাতে তসবিহ, মাথায় হেজাব আর চোখে পানি রেখে ভোট ভিক্ষা চেয়ে চরম প্রশাসনিক কারসাজির নির্বাচনের মাধ্যমে ২১ বছর পর ক্ষমতারোহন।
১৩। ক্ষমতারোহনের দুই মাসের মাথায় শেয়ার বাজার কেলেংকারীর মাধ্যমে দেশের নিরীহ বিনিয়োগকারীদের পথে বসিয়ে ৬০০০ কোটি টাকা লুটপাট।
১৪। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার চাতুর্যপূর্ণ অভিপ্রায়ে সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়ে চোরাচালানকে উতসাহিত করে দেশীয় উতপাদন ব্যাহতকরণ এবং বাংলাদেশকে প্রতিবেশী দেশের পণ্যের বাজারে পরিণতকরণ।
১৫। একটা লাশ পড়লে দশটা লাশ ফেলার বাসনায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসকে উসকে দিয়ে দেশকে জয়নাল হাজারি, শামীম ওসমান, হাজি সেলিম, মকবুল, ডা. ইকবাল, কামাল মজুমদার, মায়া চৌধুরী, দীপু চোধুরী, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, শেখ হেলাল, গফরগাঁওয়ের গোলন্দাজ, সুনামগঞ্জের বোমা মানিক এবং আরো অসংখ্য সন্ত্রাসী গডফাদারদের চারণভূমিতে পরিণতকরণ।
১৬। হরতাল সফল করার জন্য গানপাউডার দিয়ে বাসে আগুন দিয়ে নিরীহ যাত্রী এবং গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে সিএনজি চালক হত্যা করা।
১৭। আওয়ামী নেতা মির্জা আজমের দুলাভাই শায়খ আব্দুর রহমানকে দিয়ে জংগী সৃষ্টি করে দেশকে মৌলবাদী নামে পরিচিতকরণ।
১৮। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রলীগের কর্মী মানিকদের দ্বারা ছাত্রী ধর্ষনের সেঞ্চুরী উদযাপন।
১৯। রাষ্ট্রীয় লুটপাট ও দূর্নীতির মাধ্যমে দেশকে বিশ্বের এক নম্বর দূর্নীতিবাজ উপাধি প্রথমবারের মত পাইয়ে দেওয়া।
২০। একুশ বছরের ক্ষুধার ক্ষুন্নিবৃত্তির খাতিরে রাষ্ট্রীয় সম্পদ খোদ গণভবণ গিলে খাওয়ার ন্যাক্কারজনক প্রচেষ্টা।
২১। আদালতের রায় নিজেদের অনুকুলে নেওয়ার জন্য উচ্চ আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে লাঠি মিছিল করা।
২২। আদালতের রায়ের প্রতি উপহাস করে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বস্তি স্থাপনের মত জঘন্য আদালত অবমাননাকরণ।
২৩। হাসিনার ডক্টরেট ডিগ্রী ক্রয় করতে যেয়ে দেশের অর্থ ব্যয়ের বিলাসিতা প্রদর্শন।
২৪। দেশের অর্থনীতি ধ্বংসকরণ ও পরিশেষে রাষ্ট্রের কোষাগারে দেশের ইতিহাসে সর্বনিন্ম বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেখে ক্ষমতা ত্যাগ।
২৫। ২০০১ সালের নির্বাচনে জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়ে স্থুল কারচুপির ধুয়া তুলে সরকার পতনের ট্রাম্পকার্ড খেলা শুরুকরণ।
২৬। বিরোধী দলে গেলেও হরতাল দেবে না বলে দেওয়া অংগীকারের প্রতি বুড়ো আংগুল দেখিয়ে একের পর এক হরতাল আহবান।
২৭। বিগত সরকারের বিদায়কালে প্রকাশ্য দিবালোকে রাজপথে লগি-বৈঠা দিয়ে মানূষ মেরে সেই লাশের উপর পৈশাচিক হিংস্রতায় নৃত্য প্রদর্শন।
২৮। বংগভবনের আলো, পানি ও অক্সিজেন বন্ধ করে দেওয়ার ধৃষ্টতাপূর্ণ আস্ফালন।
২৯। রাতের আঁধারে খেলফত মজলিসের ন্যায় চরম প্রতিক্রিয়াশীল দলের সাথে চুক্তি প্রনয়ন শুধুমাত্র ক্ষমতালাভের অসত অভিপ্রায়ে।
৩০। সর্বশেষ দেশের পতিত স্বৈরাচার, প্রমানিত দূর্নীতিবাজ ও সাজাপ্রাপ্ত আসামীর সংগে গাঁটছড়া বেঁধে নির্বাচনী বৈতরনী পার হবার চেষ্টা এবং পতিত স্বৈরাচার, লম্পট এরশাদকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন করবার চেষ্টা।
প্রিয় পাঠক, উপরোক্ত তালিকা আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আহরিত আওয়ামী দূর্বৃত্ত্বপনা ও দুঃশাসনের অতি সংক্ষিপ্ত এক সালতামামি। আগামী নির্বাচনে যদি এ তালিকা আপনার প্রার্থী নির্বাচনে ন্যুনতম সাহায্য করে থাকে তবে আমি আমার এ প্রচেষ্টা সার্থক বলে ধরে নেব।
১। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট কারচুপি দেশের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচনী অপরাধ।
২। স্বাধীন দেশের প্রজাতন্ত্রের নিয়োগে প্রথম আওয়ামী দূর্নীতি - বিসিএসে তোফায়েল ক্যাডার প্রতিষ্ঠা, তারই ধারাবাহিকতায় ৯৬ এর জনতার মঞ্চ; প্রশাসন দলীয়করনের নির্লজ্জ উদাহরন যার ক্ষত বাংলাদেশ আজো বয়ে বেড়াচ্ছে।
৩। সিরাজ সিকদার হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের সূচনা এবং সংসদে দাঁড়িয়ে 'কোথায় সিরাজ সিকদার' বলে শেখ মুজিবের দূর্বীনীত আস্ফালন।
৪। বিরুদ্ধ মত দমনের জন্য রক্ষী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা রাজনৈতিক কর্মী হত্যার মাধ্যমে রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের উদ্বোধন।
৫। রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক সমাবেশে হামলা করে তা পন্ড করে দিয়ে রাজনৈতিক দমন পীড়নের শুভ মহরত অনুষ্ঠান।
৬। দূর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষের জন্য আসা কম্বল চুরি করে রিলিফ চুরির প্রথম নজির স্থাপন এবং শেখ মুজিবের চোরের খনি আবিস্কারের সদর্প ঘোষনা।
৭। চরম লুটপাট আর অব্যাবস্থাপনায় দেশের ইতিহাসে প্রথম দূর্ভিক্ষ সৃষ্টি অথচ নেতার পুত্রের বিয়েতে অভুতপূর্ব সাড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন করে নিরন্ন, নিবস্ত্র বাসন্তিদের অসহায়ত্ব নিয়ে পরিহাস।
৮। বিরুদ্ধ মত প্রবল হলে অবস্থা বেগতিক দেখে গণতান্ত্রিক মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে চরম স্বৈরতান্ত্রিক,গণতন্ত্রবিরোধী একদলীয় বাকশাল কায়েম। দেশের সকল নাগরিককে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাকশালে যোগদানে বাধ্য করা, চারটি বাদে সকল পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগতকরণ।
৯। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে অচল করে দিয়ে রক্ষীবাহিনীকে দেশের সেনাবাহিনীর স্থলাভিসিক্ত করার দূরভিসন্ধি প্রনয়ন।
১০। নির্বাচিত সরকারকে হঠিয়ে ক্ষমতায় আসা এরশাদের স্বৈরশাসনকে সমর্থন দিয়ে ৮৬ এর নির্বাচনে অংশগ্রহন এবং স্বঘোষিত জাতীয় বেঈমানের কালিমা নিজের গায়ে লাগিয়ে স্বৈরশাসনকে দীর্ঘায়িতকরণ।
১১। '৯১ এর নির্বাচনে পরাজিত হয়ে সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগে সংসদ অকার্যকর করার সমুদয় হঠকারী কার্যক্রম গ্রহন এবং ততকালীন সরকারকে একদিনও শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না বলে প্রকাশ্য ঘোষনা প্রদান। তারই ধারাবাহিকতায় একের পর এক হরতাল দিয়ে দেশের ইতিহাসে ১৭৩ দিনের হরতালের রেকর্ড সৃষ্টিকরণ। দিনের পর দিন চট্টগ্রাম বন্দর অচল করে রাখা, তথাকথিত অসহযোগ আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসকরণ।
১২। চাতুর্যপূর্ণ ভন্ডামীপনায় হাতে তসবিহ, মাথায় হেজাব আর চোখে পানি রেখে ভোট ভিক্ষা চেয়ে চরম প্রশাসনিক কারসাজির নির্বাচনের মাধ্যমে ২১ বছর পর ক্ষমতারোহন।
১৩। ক্ষমতারোহনের দুই মাসের মাথায় শেয়ার বাজার কেলেংকারীর মাধ্যমে দেশের নিরীহ বিনিয়োগকারীদের পথে বসিয়ে ৬০০০ কোটি টাকা লুটপাট।
১৪। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার চাতুর্যপূর্ণ অভিপ্রায়ে সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়ে চোরাচালানকে উতসাহিত করে দেশীয় উতপাদন ব্যাহতকরণ এবং বাংলাদেশকে প্রতিবেশী দেশের পণ্যের বাজারে পরিণতকরণ।
১৫। একটা লাশ পড়লে দশটা লাশ ফেলার বাসনায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসকে উসকে দিয়ে দেশকে জয়নাল হাজারি, শামীম ওসমান, হাজি সেলিম, মকবুল, ডা. ইকবাল, কামাল মজুমদার, মায়া চৌধুরী, দীপু চোধুরী, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, শেখ হেলাল, গফরগাঁওয়ের গোলন্দাজ, সুনামগঞ্জের বোমা মানিক এবং আরো অসংখ্য সন্ত্রাসী গডফাদারদের চারণভূমিতে পরিণতকরণ।
১৬। হরতাল সফল করার জন্য গানপাউডার দিয়ে বাসে আগুন দিয়ে নিরীহ যাত্রী এবং গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে সিএনজি চালক হত্যা করা।
১৭। আওয়ামী নেতা মির্জা আজমের দুলাভাই শায়খ আব্দুর রহমানকে দিয়ে জংগী সৃষ্টি করে দেশকে মৌলবাদী নামে পরিচিতকরণ।
১৮। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রলীগের কর্মী মানিকদের দ্বারা ছাত্রী ধর্ষনের সেঞ্চুরী উদযাপন।
১৯। রাষ্ট্রীয় লুটপাট ও দূর্নীতির মাধ্যমে দেশকে বিশ্বের এক নম্বর দূর্নীতিবাজ উপাধি প্রথমবারের মত পাইয়ে দেওয়া।
২০। একুশ বছরের ক্ষুধার ক্ষুন্নিবৃত্তির খাতিরে রাষ্ট্রীয় সম্পদ খোদ গণভবণ গিলে খাওয়ার ন্যাক্কারজনক প্রচেষ্টা।
২১। আদালতের রায় নিজেদের অনুকুলে নেওয়ার জন্য উচ্চ আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে লাঠি মিছিল করা।
২২। আদালতের রায়ের প্রতি উপহাস করে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বস্তি স্থাপনের মত জঘন্য আদালত অবমাননাকরণ।
২৩। হাসিনার ডক্টরেট ডিগ্রী ক্রয় করতে যেয়ে দেশের অর্থ ব্যয়ের বিলাসিতা প্রদর্শন।
২৪। দেশের অর্থনীতি ধ্বংসকরণ ও পরিশেষে রাষ্ট্রের কোষাগারে দেশের ইতিহাসে সর্বনিন্ম বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেখে ক্ষমতা ত্যাগ।
২৫। ২০০১ সালের নির্বাচনে জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়ে স্থুল কারচুপির ধুয়া তুলে সরকার পতনের ট্রাম্পকার্ড খেলা শুরুকরণ।
২৬। বিরোধী দলে গেলেও হরতাল দেবে না বলে দেওয়া অংগীকারের প্রতি বুড়ো আংগুল দেখিয়ে একের পর এক হরতাল আহবান।
২৭। বিগত সরকারের বিদায়কালে প্রকাশ্য দিবালোকে রাজপথে লগি-বৈঠা দিয়ে মানূষ মেরে সেই লাশের উপর পৈশাচিক হিংস্রতায় নৃত্য প্রদর্শন।
২৮। বংগভবনের আলো, পানি ও অক্সিজেন বন্ধ করে দেওয়ার ধৃষ্টতাপূর্ণ আস্ফালন।
২৯। রাতের আঁধারে খেলফত মজলিসের ন্যায় চরম প্রতিক্রিয়াশীল দলের সাথে চুক্তি প্রনয়ন শুধুমাত্র ক্ষমতালাভের অসত অভিপ্রায়ে।
৩০। সর্বশেষ দেশের পতিত স্বৈরাচার, প্রমানিত দূর্নীতিবাজ ও সাজাপ্রাপ্ত আসামীর সংগে গাঁটছড়া বেঁধে নির্বাচনী বৈতরনী পার হবার চেষ্টা এবং পতিত স্বৈরাচার, লম্পট এরশাদকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন করবার চেষ্টা।
প্রিয় পাঠক, উপরোক্ত তালিকা আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আহরিত আওয়ামী দূর্বৃত্ত্বপনা ও দুঃশাসনের অতি সংক্ষিপ্ত এক সালতামামি। আগামী নির্বাচনে যদি এ তালিকা আপনার প্রার্থী নির্বাচনে ন্যুনতম সাহায্য করে থাকে তবে আমি আমার এ প্রচেষ্টা সার্থক বলে ধরে নেব।
Labels:
আওয়ামী লীগ,
ডিজিতাল বাংলাদেশ,
দিন বদলের কথা
Sunday, February 1, 2009
ডিজিটাল বাংলাদেশের বইমেলায় ডিজিটাল স্পর্শ নেই
ডিজিটাল বাংলাদেশের বইমেলায় ডিজিটাল স্পর্শ নেই
মোস্তাফা জব্বার : ৬ জানুয়ারি শপথ নেয়ার পর ৭ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে কার্যকর শেখ হাসিনা সরকারের সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়ের নাম ডিজিটাল বাংলাদেশ। হাটে-মাঠে-ঘাটে, আমলাদের মুখে বা মন্ত্রীদের বক্তৃতায় এই একটি শব্দই বারবার উচ্চারিত হচ্ছে। গত ২৭ জানুুয়ারি ২০০৯ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার সঙ্গে এক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে জানালেন যে, তাকে সংসদে এই প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে কী বোঝায়। ১২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করার পর শেখ হাসিনাকে এমন শত শত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ তিনি একটি নতুন স্বপ্ন একটি নতুন লক্ষ্যের কথা বলেছেন। পত্রিকার পাতা বা টিভির পর্দা, মোবাইল ফোন বা চায়ের আড্ডা; সবখানেই ডিজিটাল বাংলাদেশ। ভালো কি বা মন্দ, আশার বা নিরাশার এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ঘোষণা করতে হচ্ছে আমলা, মন্ত্রী এবং রাজনীতিকদেরকে। বুঝে হোক আর না বুঝেই হোক তাদের কণ্ঠ থেকে এই কথা নিঃসৃত হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
শেখ হাসিনা এই একটি শব্দ উচ্চারণ করে প্রথমে আতঙ্ক তৈরি করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার মাঝে। তড়িঘড়ি বেগম জিয়া হাসিনার আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু তাতেও তার শেষ রক্ষা হয়নি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার ভরাডুবি হয়। ধারণা করা হয় যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ শব্দটি দিয়েই শেখ হাসিনা নির্বাচনে বাজিমাত করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, হাসিনা সরকারের কাজে কি ডিজিটাল বাংলাদেশ এর সরব উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে? সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো কি আদৌ উপলব্ধি করতে পারছে যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ করার জন্য তাদের পুরোনো সব ধারণা বদলাতে হবে এবং যে কোনো অবস্থাতেই হোক না কেন কর্মপদ্ধতির মাঝে ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ঠাঁই দিতে হবে? আমরা প্রকাশনার বিবর্তন ও এর রূপান্তর নিয়ে আলোচনা করতে পারি যখন বাংলা একাডেমীর একুশের বইমেলা শুরু হয়েছে।
যেহেতু সরকারটি শেখ হাসিনার বা তিনি সরকার প্রধান এবং হাসিনার প্রত্যয় হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার, সেহেতু সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের কাজ হচ্ছে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো। কিন্তু তেমনটি কি শুরু হয়েছে? বিশেষত বাংলা একাডেমী নামক যে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি ভাষা শহীদদের নামে জন্ম নিয়ে ঐতিহ্যবাহী একুশে বই মেলার আয়োজন করে আসছে তাদের মাথায় ডিজিটাল বাংলাদেশ তো দূরের কথা ডিজিটাল শব্দটিই প্রবেশ করানো যাচ্ছে না।
স্মরণ করতে পারি, প্রায় এক যুগ আগেই আমি বাংলা একাডেমীকে কাগজের প্রকাশনার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রকাশনার দিকে যাত্রা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তখন আমার একজন শিক্ষক এই প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে একমতও হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এই লক্ষ্যে কোনো পদক্ষেপ নেননি। মহাপরিচালকের পদ থেকে বিদায় নেয়ার সময় তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, স্যার ডিজিটাল প্রকাশনার কী হলো? তিনি বলেছিলেন, একাডেমীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাথায় ডিজিটাল শব্দ ঢোকানো সম্ভব হয়নি। হতে পারে, তিনি সত্য বলেছিলেন। হতে পারে তার নিজের মাথায়ও ডিজিটাল শব্দটি ঢুকেনি। এরপর হাসিনা-খালেদার আমল মিলিয়ে আমার আরো দুইজন শিক্ষক এই প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু তাদের কেউ ডিজিটাল প্রকাশনা তো দূরের কথা সেই শব্দটিই উচ্চারণ করেননি। সেই লক্ষ্যে কোনো কাজও করেননি। আমি তাদের কাছে কলিকাতা ও ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার নজির দিয়েছি। ফ্রাঙ্কফুর্ট মেলায় যে ডিজিটাল বইয়ের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে সেই কথাটিও বলেছি। কলিকাতা বইমেলায় যে ডিজিটাল প্রকাশনাকে অবারিতভাবে প্রবেশ করতে দেয়া হয় এবং দিনে দিনে যে এসব প্রকাশনার পরিধি সম্প্রসারিত হয় সেটিও জানিয়েছি। কিন্তু বইমেলা নিয়ে আলোচনা এলেই তারা ডিজিটাল প্রকাশনাকে মেলায় ঠাঁই দেন না। এবার ২০০৯ সালেও যে কটি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল প্রকাশনা নিয়ে বইমেলায় স্থান বরাদ্দ চেয়েছিল তার একটিকেও স্টল বরাদ্দ করা হয়নি। দুনিয়ার কোথাও এমন নজির আছে বলে আমার মনে হয় না।
এই সংকট বাংলা একাডেমীর অস্থিমজ্জায় আছে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ না খাওয়ানোতে এই প্রতিষ্ঠানটি অনড়। কথা ছিল এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলা ভাষার উন্নয়নে কাজ করবে, কারণ কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড এর সঙ্গে একীভূত হয়েছে। কিন্তু প্রকাশনা, যা এ দেশেরই আরো শত শত প্রতিষ্ঠান করে থাকে, তার বাইরে কিছু লোকের জন্মদিন ও মৃত্যু দিবস পালন করার বাইরে বাংলা একাডেমী আর কোনো কাজ করে না। বরং বাংলা ভাষার উন্নয়নে তারা সংকটই তৈরি করে। আমি একাডেমীর টাইপরাইটার উন্নয়ন প্রকল্পের কথা স্মরণ করতে পারি। ঐ প্রকল্পে বিপুল টাকা ঢেলে, দেশ-বিদেশ সফর করে একটি তিন স্তরের কিবোর্ড প্রস্তাব করা হয়েছিল যা কোনোদিন জন্মই নেয়নি। এই প্রতিষ্ঠানটি একাডেমী কিবোর্ড নামে একটি কম্পিউটারের কিবোর্ড অনুমোদন দিয়েছিল যা ছিল বিজয় কিবোর্ড এর হুবহু নকল। একই প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রনিক টাইপরাটারের জন্য ফেরদৌস কোরেশীর একটি কিবোর্ডকে মনোপলি হিসেবে অনুমোদন দিয়ে কোরেশীর ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছিল। কিন্তু কখনো বাংলা ভাষার উন্নয়নে তেমন কোনো অবদান রাখেনি। বারবার অনুরোধ করার পরও একাডেমী প্রকাশনায় বিবর্তন আনার জন্যও কোনো কাজ করেনি। একবাক্যে বলা যায়, যন্ত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য শহীদ মুনীর চৌধুরীর প্রচেষ্টার পর বাংলা একাডেমীর কাজকর্ম ছিল ন্যক্কারজনক ও ব্যর্থতায় ভরা।
আমি প্রস্তাব করি একাডেমীর উচিত অবিলম্বে তাদের পুরোনো অবয়ব ফেলে দিয়ে দেশ ও জাতির মননশীলতাকে ভিন্ন অবয়বে নিয়ে যাওয়ার। এতোদিন আমরা ভাবতাম একাডেমী যা করছে তা তাদের পুরোনো ছকে করছে, এদের সামনে কোনো লক্ষ্য ছিল না। কিন্তু এখন এটি অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলা যায় যে, কেবল বাংলা একাডেমী নয়, পুরো জাতির একটি ভিশন বা লক্ষ্য আছে। সেই লক্ষ্যটি হলো ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। যারা ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে কেবল কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যারকে বোঝেন তাদের জন্য এই কথাটি বলা দরকার যে, ধারণাটি সঠিক নয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে একটি দেশের একুশ শতকের তথ্যযুগে রূপান্তরের প্রত্যাশা। প্রধানত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের জীবনযাপনের মান উন্নত করা হলো ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল ভিত্তি। দারিদ্র্য ও বৈষম্যহীন একটি দেশে সকল মানুষের জন্য অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভিশন দূর করা এবং দেশের নাগরিকদের মাথাপিছু আয় বাড়ানো ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাষাগুলোর উন্নয়ন ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন। আমার ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির ৪.৭ অনুচ্ছেদে রয়েছে, ‘রাষ্ট্রকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙ্গালির সংস্কৃতিসহ দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি রক্ষার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ডিজিটাল দুনিয়াতে রাষ্ট্রভাষাসহ বাংলাদেশের সকল ভাষার প্রচার, প্রকাশ ও বিকাশসহ বাঙালি ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির সার্বিক সমৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে। রাষ্ট্রকে ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা ছাড়াও ডিজিটাল প্রকাশনাকে সর্বপ্রকারে উৎসাহিত ও সহায়তা করতে হবে।
আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম একাডেমী নিজে ডিজিটাল প্রকাশনা না করলেও ডিজিটাল প্রকাশনায় জড়িতদেরকে সহায়তা করবে। কিন্তু তারা পরিবর্তনের স্পর্শটি উপলব্ধিই করতে পারেনি। খুব সঙ্গত কারণেই আমরা আরো একটি গতানুগতিক বইমেলা দেখতে পেলাম। জানি না কবে এর রূপান্তর হবে। অথবা বলা যায় আদৌ এটি বদলাবে কিনা!
২৯ জানুয়ারি, ২০০৯
মোস্তাফা জব্বার : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, লেখক।
মোস্তাফা জব্বার : ৬ জানুয়ারি শপথ নেয়ার পর ৭ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে কার্যকর শেখ হাসিনা সরকারের সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়ের নাম ডিজিটাল বাংলাদেশ। হাটে-মাঠে-ঘাটে, আমলাদের মুখে বা মন্ত্রীদের বক্তৃতায় এই একটি শব্দই বারবার উচ্চারিত হচ্ছে। গত ২৭ জানুুয়ারি ২০০৯ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার সঙ্গে এক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে জানালেন যে, তাকে সংসদে এই প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে কী বোঝায়। ১২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করার পর শেখ হাসিনাকে এমন শত শত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ তিনি একটি নতুন স্বপ্ন একটি নতুন লক্ষ্যের কথা বলেছেন। পত্রিকার পাতা বা টিভির পর্দা, মোবাইল ফোন বা চায়ের আড্ডা; সবখানেই ডিজিটাল বাংলাদেশ। ভালো কি বা মন্দ, আশার বা নিরাশার এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ঘোষণা করতে হচ্ছে আমলা, মন্ত্রী এবং রাজনীতিকদেরকে। বুঝে হোক আর না বুঝেই হোক তাদের কণ্ঠ থেকে এই কথা নিঃসৃত হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
শেখ হাসিনা এই একটি শব্দ উচ্চারণ করে প্রথমে আতঙ্ক তৈরি করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার মাঝে। তড়িঘড়ি বেগম জিয়া হাসিনার আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু তাতেও তার শেষ রক্ষা হয়নি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার ভরাডুবি হয়। ধারণা করা হয় যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ শব্দটি দিয়েই শেখ হাসিনা নির্বাচনে বাজিমাত করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, হাসিনা সরকারের কাজে কি ডিজিটাল বাংলাদেশ এর সরব উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে? সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো কি আদৌ উপলব্ধি করতে পারছে যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ করার জন্য তাদের পুরোনো সব ধারণা বদলাতে হবে এবং যে কোনো অবস্থাতেই হোক না কেন কর্মপদ্ধতির মাঝে ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ঠাঁই দিতে হবে? আমরা প্রকাশনার বিবর্তন ও এর রূপান্তর নিয়ে আলোচনা করতে পারি যখন বাংলা একাডেমীর একুশের বইমেলা শুরু হয়েছে।
যেহেতু সরকারটি শেখ হাসিনার বা তিনি সরকার প্রধান এবং হাসিনার প্রত্যয় হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার, সেহেতু সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের কাজ হচ্ছে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো। কিন্তু তেমনটি কি শুরু হয়েছে? বিশেষত বাংলা একাডেমী নামক যে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি ভাষা শহীদদের নামে জন্ম নিয়ে ঐতিহ্যবাহী একুশে বই মেলার আয়োজন করে আসছে তাদের মাথায় ডিজিটাল বাংলাদেশ তো দূরের কথা ডিজিটাল শব্দটিই প্রবেশ করানো যাচ্ছে না।
স্মরণ করতে পারি, প্রায় এক যুগ আগেই আমি বাংলা একাডেমীকে কাগজের প্রকাশনার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রকাশনার দিকে যাত্রা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তখন আমার একজন শিক্ষক এই প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে একমতও হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এই লক্ষ্যে কোনো পদক্ষেপ নেননি। মহাপরিচালকের পদ থেকে বিদায় নেয়ার সময় তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, স্যার ডিজিটাল প্রকাশনার কী হলো? তিনি বলেছিলেন, একাডেমীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাথায় ডিজিটাল শব্দ ঢোকানো সম্ভব হয়নি। হতে পারে, তিনি সত্য বলেছিলেন। হতে পারে তার নিজের মাথায়ও ডিজিটাল শব্দটি ঢুকেনি। এরপর হাসিনা-খালেদার আমল মিলিয়ে আমার আরো দুইজন শিক্ষক এই প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু তাদের কেউ ডিজিটাল প্রকাশনা তো দূরের কথা সেই শব্দটিই উচ্চারণ করেননি। সেই লক্ষ্যে কোনো কাজও করেননি। আমি তাদের কাছে কলিকাতা ও ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার নজির দিয়েছি। ফ্রাঙ্কফুর্ট মেলায় যে ডিজিটাল বইয়ের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে সেই কথাটিও বলেছি। কলিকাতা বইমেলায় যে ডিজিটাল প্রকাশনাকে অবারিতভাবে প্রবেশ করতে দেয়া হয় এবং দিনে দিনে যে এসব প্রকাশনার পরিধি সম্প্রসারিত হয় সেটিও জানিয়েছি। কিন্তু বইমেলা নিয়ে আলোচনা এলেই তারা ডিজিটাল প্রকাশনাকে মেলায় ঠাঁই দেন না। এবার ২০০৯ সালেও যে কটি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল প্রকাশনা নিয়ে বইমেলায় স্থান বরাদ্দ চেয়েছিল তার একটিকেও স্টল বরাদ্দ করা হয়নি। দুনিয়ার কোথাও এমন নজির আছে বলে আমার মনে হয় না।
এই সংকট বাংলা একাডেমীর অস্থিমজ্জায় আছে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ না খাওয়ানোতে এই প্রতিষ্ঠানটি অনড়। কথা ছিল এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলা ভাষার উন্নয়নে কাজ করবে, কারণ কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড এর সঙ্গে একীভূত হয়েছে। কিন্তু প্রকাশনা, যা এ দেশেরই আরো শত শত প্রতিষ্ঠান করে থাকে, তার বাইরে কিছু লোকের জন্মদিন ও মৃত্যু দিবস পালন করার বাইরে বাংলা একাডেমী আর কোনো কাজ করে না। বরং বাংলা ভাষার উন্নয়নে তারা সংকটই তৈরি করে। আমি একাডেমীর টাইপরাইটার উন্নয়ন প্রকল্পের কথা স্মরণ করতে পারি। ঐ প্রকল্পে বিপুল টাকা ঢেলে, দেশ-বিদেশ সফর করে একটি তিন স্তরের কিবোর্ড প্রস্তাব করা হয়েছিল যা কোনোদিন জন্মই নেয়নি। এই প্রতিষ্ঠানটি একাডেমী কিবোর্ড নামে একটি কম্পিউটারের কিবোর্ড অনুমোদন দিয়েছিল যা ছিল বিজয় কিবোর্ড এর হুবহু নকল। একই প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রনিক টাইপরাটারের জন্য ফেরদৌস কোরেশীর একটি কিবোর্ডকে মনোপলি হিসেবে অনুমোদন দিয়ে কোরেশীর ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছিল। কিন্তু কখনো বাংলা ভাষার উন্নয়নে তেমন কোনো অবদান রাখেনি। বারবার অনুরোধ করার পরও একাডেমী প্রকাশনায় বিবর্তন আনার জন্যও কোনো কাজ করেনি। একবাক্যে বলা যায়, যন্ত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য শহীদ মুনীর চৌধুরীর প্রচেষ্টার পর বাংলা একাডেমীর কাজকর্ম ছিল ন্যক্কারজনক ও ব্যর্থতায় ভরা।
আমি প্রস্তাব করি একাডেমীর উচিত অবিলম্বে তাদের পুরোনো অবয়ব ফেলে দিয়ে দেশ ও জাতির মননশীলতাকে ভিন্ন অবয়বে নিয়ে যাওয়ার। এতোদিন আমরা ভাবতাম একাডেমী যা করছে তা তাদের পুরোনো ছকে করছে, এদের সামনে কোনো লক্ষ্য ছিল না। কিন্তু এখন এটি অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলা যায় যে, কেবল বাংলা একাডেমী নয়, পুরো জাতির একটি ভিশন বা লক্ষ্য আছে। সেই লক্ষ্যটি হলো ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। যারা ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে কেবল কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যারকে বোঝেন তাদের জন্য এই কথাটি বলা দরকার যে, ধারণাটি সঠিক নয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে একটি দেশের একুশ শতকের তথ্যযুগে রূপান্তরের প্রত্যাশা। প্রধানত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের জীবনযাপনের মান উন্নত করা হলো ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল ভিত্তি। দারিদ্র্য ও বৈষম্যহীন একটি দেশে সকল মানুষের জন্য অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভিশন দূর করা এবং দেশের নাগরিকদের মাথাপিছু আয় বাড়ানো ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাষাগুলোর উন্নয়ন ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন। আমার ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির ৪.৭ অনুচ্ছেদে রয়েছে, ‘রাষ্ট্রকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙ্গালির সংস্কৃতিসহ দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি রক্ষার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ডিজিটাল দুনিয়াতে রাষ্ট্রভাষাসহ বাংলাদেশের সকল ভাষার প্রচার, প্রকাশ ও বিকাশসহ বাঙালি ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির সার্বিক সমৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে। রাষ্ট্রকে ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা ছাড়াও ডিজিটাল প্রকাশনাকে সর্বপ্রকারে উৎসাহিত ও সহায়তা করতে হবে।
আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম একাডেমী নিজে ডিজিটাল প্রকাশনা না করলেও ডিজিটাল প্রকাশনায় জড়িতদেরকে সহায়তা করবে। কিন্তু তারা পরিবর্তনের স্পর্শটি উপলব্ধিই করতে পারেনি। খুব সঙ্গত কারণেই আমরা আরো একটি গতানুগতিক বইমেলা দেখতে পেলাম। জানি না কবে এর রূপান্তর হবে। অথবা বলা যায় আদৌ এটি বদলাবে কিনা!
২৯ জানুয়ারি, ২০০৯
মোস্তাফা জব্বার : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, লেখক।
Subscribe to:
Posts (Atom)