Showing posts with label জামাত. Show all posts
Showing posts with label জামাত. Show all posts

Thursday, February 5, 2009

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জাতির পিতা?

লিখেছেন: বাউল
মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০০৮ – ৭:০৭ অপরাহ্ণ52 টি মন্তব্য

ধর্মের ভিত্তিতে দেশবিভক্তির সমালোচিত দ্বিজাতি তত্ত্ব ভুল ছিল না বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী।

মঙ্গলবার বিজয় দিবস উপলক্ষে মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার জন্য দায়ী হিসেবে কুখ্যাত আল বদর বাহিনীর প্রধান নিজামী বলেছেন,”‘কায়েদে আজম’ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বের যথার্থতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরও প্রমাণিত হয়েছে।” পাকিস্থানের জাতির পিতা বাংলাদেশেও ,”‘কায়েদে আজম’ !

মগবাজারের আলফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত মাহফিলে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ‘কায়েদে আজম’ (জাতির জনক) আখ্যায়িত করে জামায়াতের আমির বলেন, “১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বরের পরে ভারতের আকাশবাণী রেডিওতে বারবার প্রচার করা হচ্ছিল যে, কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের মিত্রবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বদর বাহিনী প্রধান বলেন,”ভারতীয় বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এদেশে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে। তারা শুধু পাকবাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্রই নয়, এদেশের কলকারখানার নাট-বল্টু, কলেজের বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি এমনকি ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্তও লুট করে নিয়ে গিয়েছে।”

নিজামী বলেন, “জাতির স্থপতি শেখ মজিবুর রহমান কুশলী রাজনীতিবিদ ছিলেন। তাই তার অনুপস্থিতিতে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের সংবিধানের চার মূলনীতি ঘোষণার পর তিনি বাংলাদেশে এসেই দেশকে মুসলিম দেশগুলোর কাতারে নিয়ে গেছেন।

“কোরান-সুন্নাহ বিরোধী কোনও আইন না করার আওয়ামী লীগের সা、প্রতিক ঘোষণাকে দলটির ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে বিগত জোট সরকারের প্রভাবশালী এই মন্ত্রী বলেন,”তাহলে এতদিন তারা ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে যা বলেছেন সবই ভুল ছিল!” ধর্ম নিরপেক্ষতা মানেই কি ধর্মের বিরুদ্ধে যাওয়া?

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে নিজামী বলেন, “আবার তারা বলছেন ক্ষমতায় গেলে ‘৭২ এর সংবিধানে ফেরত যাবেন। ‘৭২ এর সংবিধান পুনরায় প্রণয়ন আর কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন প্রণয়ন তো একই কথা।” ৭২ এর সংবিধান কোরান ও সুন্নাহ বিরোধী?

আসন্ন নির্বাচনে চারদলীয় জোটকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত প্রধান বলেন, “দেশকে এই অবস্থা থেকে মুক্ত করতে ও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকিমুক্ত করতে চারদলীয় জোটের কোনও বিকল্প নেই।” ২০০১-২০০৬ এর চেয়ে এই অবস্থা ঢের ভালো।

বিজয় দিবসে নিজামীর তরফ থেকে দেশবাসীকে এর চেয়ে ভালো শুভেচ্ছা বানী আর কি হতে পারে?

Monday, February 2, 2009

hy×vcivax‡`i wePvi evsjv‡`‡ki Af¨šÍixY welq: gwiqvwU©

÷vd wi‡cvU©vi: XvKvq gvwK©b ivóª`~Z †Rgm Gd gwiqvwU© hy×vcivax‡`i wePv‡ii D‡`¨vM‡K ïf D‡`¨vM wn‡m‡e D‡jøL K‡i‡Qb| Z‡e G welqwU GKvšÍfv‡e evsjv‡`‡ki Af¨šÍixY welq wn‡m‡eI D‡jøL K‡ib wZwb| MZKvj ivRviev‡M cywjk evwnbxi m‡½ gvwK©b `~Zvev‡mi GK cÖxwZ ev‡¯‹Uej g¨v‡P Ask †bqvi ci wZwb GK_v e‡jb| cywjk evwnbxi m‡½ IB cÖxwZ g¨v‡P gvwK©b `~Zvevm `j Rqx nq| Abyôv‡b cÖavb AwZw_ wQ‡jb cywj‡ki AvBwR b~i †gvnv¤§`| wZwb c‡i weRqx‡`i g‡a¨ cyi¯‹vi weZiY K‡ib|

Sunday, February 1, 2009

যুদ্ধাপরাধীদের দেশত্যাগ ঠেকাতে সব রুটে তালিকা

যুদ্ধাপরাধীদের দেশত্যাগ ঠেকাতে সব রুটে তালিকা

নজরদারিতে অর্ধ শতাধিক গোয়েন্দা
নেসারুল হক খোকন : জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে বিল পাস করার সঙ্গে সঙ্গেই নড়েচড়ে বসেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আগেই তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী গত দুদিনে যুদ্ধাপরাধীদের দেশত্যাগের ব্যাপারে স্পষ্ট ঘোষণা দেয়ার পর প্রায় অর্ধ শতাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা তাদের নজরদারির আওতায় রেখেছেন। স্থল, জল ও বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে দেশদ্রোহীদের প্রাথমিক তালিকা।
গত শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ আইন সমিতির বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন যুদ্ধাপরাধীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে প্রথম মুখ খোলেন। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি ছিল
ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্র“তি। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপন হলে সর্বসম্মতভাবে তা পাস হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে গতকাল শনিবার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ সাংবাদিকদের বলেছেন, কোনো যুদ্ধাপরাধীকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে দেয়া হবে না। যুদ্ধাপরাধীরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করে সীমান্তসহ বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে গতকাল সকালে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ক্যামেরা ট্রায়ালে নয়, স্বচ্ছ আইনী প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হওয়া উচিত। প্রয়োজনে দেশের বাইরের পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে এ বিচার কাজ শুরু করা যেতে পারে। স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত রুম টু রোড-এর কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম নিয়ে যেন কেউ কোন প্রশ্নের সৃষ্টি না হয় সেদিকেও সরকারকে দৃষ্টি রাখতে হবে। সমাজকে সামনে এগিয়ে নিতে এ বিচার দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত বলে মনে করেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নির্বাচনের দিন থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের একটি তালিকা জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠানোর পাশাপাশি দেশের শীর্ষ গোয়েন্দাসহ ১২ কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক মোতায়েন রাখা হয়। স¤প্রতি জাতীয় সংসদে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে গোয়েন্দা সদস্যের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে গোয়েন্দাদের দেয়া হয়েছে বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট। এদের মধ্যে সামরিক, এসবিসহ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যও রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা আরোপিত ব্যক্তিরা যাতে কোনোভাবেই দেশত্যাগ করতে না পারে সেজন্য পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন তারা।
সূত্র জানায়, গোয়েন্দারা প্রাথমিক অবস্থায় প্রায় ৩০ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করলেও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের ঘোষিত তালিকায় যুদ্ধাপরাধীর সংখ্যা প্রায় অর্ধ শতাধিক। সেগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করে অপরাধ সংঘটন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ আহরণ এবং দেশের ভেতরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা উল্লেখযোগ্য যুদ্ধাপরাধীরা হচ্ছেনÑ জামাত নেতা গোলাম আজম, মওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, আবদুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আবু ইউসুফ, আবুল কালাম আজাদ, আব্দুস সোবাহান, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ প্রায় ৩০ জন।
সূত্র জানায়, গত ১ জানুয়ারি যুদ্ধাপরাধীদের তালিকাটি জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সবগুলো সীমান্তে কর্তব্যরত গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তিনটি গোয়েন্দা সংস্থার অর্ধ শতাধিক কর্মকর্তাকে এ সকল ব্যক্তিরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। দেশের ভেতরে সকল এয়ারলাইন্সকে তালিকাভুক্ত যুদ্ধাপরাধীর অনুকূলে টিকেট ইস্যুর আগে গোয়েন্দা সংস্থাকে জানাতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য দেশের অন্য ইমিগ্রেশন পয়েন্টগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
গোয়েন্দাদের মধ্যে সামরিক গোয়েন্দা, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

৪ দল থেকে ছিটকে পড়ছে জামাত

৪ দল থেকে ছিটকে পড়ছে জামাত

আন্দোলন, নির্বাচন, সরকার গঠন- জোট সৃষ্টির ৩ এজেন্ডাই উধাও য় সামনে কেবল যুদ্ধাপরাধ ইস্যু

আফজাল বারী : নির্বাচনে ভরাডুবির পর এরার চারদলীয় জোটের শরিকরা একে অপরের মুখোশ উন্মোচন করছে। ১১ জানুয়ারি পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিএনপিকে দুর্নীতিগ্রস্ত দল হিসেবে আখ্যায়িত করে দূরত্ব বজায় রেখেছিল জামাত। এবার যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে বিএনপিও দূরে ঠেলে দিয়েছে জামাতকে। পরস্পরের দোষারোপের ফলে দীর্ঘ ১০ বছরের বিএনপি-জামাতের সেই মৈত্রীবন্ধ থেকে এবার ছিটকে পড়ছে জামাত।
জোটের শরিক দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে পরাজয়ের পর ১৯৯৮ সালে তিনটি ইস্যুকে সামনে রেখে জোট গঠন করা হয়। বিএনপির নেতৃত্বে জোটের শরিক হয় জামাত, বিজেপি ও ইসলামী ঐক্যজোট (আমিনী)। আর এজেন্ডা ছিল আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠন। জোট গঠনের কিছুদিন পর থেকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু করে তারা। ২০০০ সালে এসে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে সক্ষম হয় তারা। এরপর ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে নির্বাচন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। এ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২১৯টি আসনে বিজয় লাভ করে তারা। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে পায় ১৯৫টি আসন। আর শরীক দল জামাত ১৭টি, বিজেপি ৪টি ও ইসলামী ঐক্যজোট পায় ৩টি আসন। এরপর ১০ অক্টোবর ৬০ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদে জামাতকে ২টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। ক্ষমতার স্বাদও নিয়েছে জোটগতভাবে। কিন্তু ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পর নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছিল জামাত।
রাজনৈতিক সিডরে বিধ্বস্ত বিএনপির দুর্দিনে শরিক দল হিসেবে পা বাড়ায়নি তারা। খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারেও কোনো প্রতিবাদও জানানো হয়নি জামাতের পক্ষ থেকে। উল্টো বিবৃতি দিয়ে বলেছে, কারো দুর্নীতির দায়ভার কাঁধে নেবে না জামাত। ওই সময় থেকেই পরস্পরের মধ্যে টানাপড়েন অবস্থা বিরাজ করছিল। নির্বাচনের খাতিরে ফের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনী লড়াইয়ে নামে চারদল। গত ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ৩৩টি আসন পায়। এর মধ্যে বিএনপি ৩০টি, জামাত ২টি ও বিজেপি ১টি আসন পায়। নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিএনপি-জামাত। জামাতের বক্তব্য ছিল বিএনপির মনোনয়ন ঠিক ছিল না। সংগঠন ছিল দুর্বল। তাদের প্রার্থীর অনেকেই ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত। তাই দলের ভরাডুবি হয়েছে।
অপরদিকে বিএনপির সকল স্তরের নেতাকর্মীর অভিযোগ ছিল নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধ ইস্যুটি কাজে লাগিয়ে চারদলীয় প্রার্থীকে ধরাশায়ী করেছে প্রতিপক্ষ। সেই দোষে দোষী স্বয়ং জামাত। তাই জামাতকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করাই ছিল তাদের বড় ভুল। নির্বাচনের পর বিএনপির দলের মুক্তিযুদ্ধ সমর্থক, তৃণমূল নেতাকর্মী ও কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ তরুণ নেতাসহ সারা দেশে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ‘জামাত মুক্ত বিএনপি’ স্লোগান জোরালো হয়ে উঠেছে। জামাতের কারণে নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে মনে করে তারা জামাতপ্রীতি বাদ দিয়ে দলকে নিজেদের মতো করে ঢেলে সাজানোর দাবি করছে। সারা দেশের মাঠ কর্মীরাই এ অবস্থান নিয়েছে। হাইকমান্ড তাই ২২ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাচন জোটগতভাবে করেনি।
এদিকে ২৯ জানুয়ারি সরকার সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রস্তাব পাস করলে বিএনপির তরফ থেকে ৩০ জানুয়ারি সে সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়। ওইদিন বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে নীতিগতভাবে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। জোটের প্রধান দল বিএনপির এ মন্তব্যে নাখোশ জামাত। তার এ মন্তব্যের সময়ই চলছিল জামাতের মজলিসে শুরার বৈঠক। বিএনপির এ অবস্থান জানার পর জামাত গত ৩০ জানুয়ারি সংগঠনের মজলিসে শুরার বৈঠক করে একলা চলো নীতি অবলম্বন করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র জানায়, খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মন্তব্যের পর ওই দিন রাতেই জামাতের পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে খালেদা জিয়া জানিয়ে দিয়েছেন, জোট গঠনের এজেন্ডার বিষয়ে নজর দিন। রাজনৈতিকভাবে কিছু করা হলে তা রাজনীতি দিয়েই মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিন। ওই দূতের বার্তা পেয়ে তুমুল আলোচনা চলছে জামাতে। শুরা কমিটির একজন সদস্য বলেন, জোটগতভাবে শরিকরা তাদের সহযোগিতা করবে না এমনটি তাদের মগজে আছে। তাই তারাও বিকল্প সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। বিএনপি তাদের এ অবস্থান পরিবর্তন না করলে ভবিষ্যতে উচিত শিক্ষা দিতেই আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবে। আলাপকালে জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, জামাতে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই। তার পরও সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জামাত নেতাদের বিরুদ্ধে হাঁটলে জামাতও রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে মোকাবেলা করবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জোট গঠন করা হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙার ঘোষণা দেয়া হয়নি। তবে শরিকরা সহযোগিতা না করলে একলা চলো নীতিতে চলবে সংগঠন।
জোটের অপর শরিক দল বিজেপির মহাসচিব শামীম আল মামুন বলেন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায় না এমন মানুষ নেই। দেরিতে হলেও সে বিচার আমরাও চাই। তবে কাউকে যেন রাজনৈতিকভাবে হয়রানি না করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো দলের কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার মোকাবেলা সে দলই করবে। যে এজেন্ডা নিয়ে জোট তার বাইরে আমরা যেতে পারি না।
অপর শরিক ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী বলেন, আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠন Ñ এ তিন এজেন্ডা সামনে রেখে ৯৮ সালে জোট গঠন করা হয়েছে। এখন তিন এজেন্ডার কোনোটিই নেই। তাই জোটের কার্যক্রমও নেই। শুধু জামাত নেতা কেন যে কোনো দলের নেতাই যুদ্ধাপরাধী হলে আইন তার গতিতে চলবে। বিচার হবে। তাতে জোটগতভাবে কিছু করার আছে বলে আমার মনে হয় না।
এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো হয়েছে। সত্যিকারের যুদ্ধাপরাধীর বিচার হোক। তিনি বলেন, আমরা জিয়ার আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাই। আর জামাতের সঙ্গে ঐক্য থাকবে নাকি থাকবে না তা জামাতের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করবে। আইন তার নিজ গতিতে চলবে। কোন দলের নেতারা ফেঁসে গেলো তাতে বিএনপির চিন্তার কিছু নেই। ইস্যুভিত্তিক গড়া জোট থেকে কোনো দল ছিটকে পড়লে কারো কিছু করার নেই। আজকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জোটের জামাতের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হবে বলে তিনি জানান।
বিএনপি ও বিজেপির একাধিক নেতা জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে চারদল থেকে জামাতকে বাদ না দেয়ার ঘোষণা না হলেও আগামী সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জোটে তাদের অবস্থান সম্পর্কে জাতি জানতে পারবে।