Wednesday, February 4, 2009

রাত হলেই রাস্তা চলে যায় ছিনতাইকারীদের দখলে

রাত হলেই রাস্তা চলে যায় ছিনতাইকারীদের দখলে

।। জামিউল আহসান সিপু ।।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত নামলেই রাজধানীর অধিকাংশ রাস্তা চলে যায় ছিনতাইকারীর দখলে। রাজপথ থেকে শুরু করে অলিগলি সবখানেই চলে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য। ট্যাক্সিক্যাবযোগে ভ্রাম্যমাণ ছিনতাইকারীদের তৎপরতা আর রাস্তার মোড়ে মোড়ে ছদ্মবেশে অবস্থান নেয়ায় নগরবাসী ছিনতাইকারীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। রাতে একটু ফাঁকা রাস্তায় রিকশায় যাতায়াত করলেই রক্ষা নেই। ট্যাক্সিক্যাব অথবা প্রাইভেট কারে রিকশার গতিরোধ করে যাত্রীর কাছ থেকে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়।

রাতে সিএনজি অটো রিকশা বা ট্যাক্সিক্যাবে একা যাতায়াত করলে মলম পার্টির বা অজ্ঞান পার্টির অথবা ভ্রাম্যমাণ ছিনতাইকারীর খপ্পরে পড়েন নগরবাসী। প্রতিদিন রাজধানীতে শতাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। গড়ে ৭/৮টি ঘটনায় থানায় মামলা হচ্ছে। পুলিশ ও র‌্যাব ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ টিম গঠন করলেও কোন কাজে আসছে না। ডিএমপি’র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত ৬ মাসে রাজধানীতে যেসব ছিনতাইকারী গ্রেফতার হয়েছে তার বেশিরভাগ জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে এ পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যের মধ্যে অন্তত ১৫ জন দলনেতা রয়েছে যারা ডিবির হাতে ৩/৪ বার করে গ্রেফতার হয়েছে। এ ব্যাপারে র‌্যাব মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, ছিনতাইকারীদের ধরতে ছদ্মবেশে বেশ কয়েকটি টিম রাতে রাজধানীতে টহল দেয়। এ অভিযানে চিহ্নিত ছিনতাইকারীও ধরা পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছিনতাইকারী গ্রেফতারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাবের প্রায় ৫০টি টিম বিশেষ দায়িত্ব পালন করে। এদের হাতে প্রায় ছিনতাইকারী গ্রেফতার হলেও কার্যত ছিনতাইয়ের ঘটনা কমছে না। মহানগরের বিভিন্ন স্পটে ছিনতাইয়ের ঘটনা পর্যালোচনা করে ডিএমপি ৪৪১টি ছিনতাই স্পট নির্ধারণ করেছে। এসব স্পটের মধ্যে প্রায় ৫০টি স্পট রয়েছে যেগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নির্দিষ্ট স্পট অনুযায়ী মহানগরে ছিনতাইয়ের ঘটনা কমে গেছে। ঐসব স্পটে পুলিশের টহল জোরদার ও চেকপোস্ট বসানোয় ছিনতাইকারীরা সতর্ক হয়ে গেছে। এখন ছিনতাইকারীরা ট্যাক্সিক্যাব বা প্রাইভেট কারে গোটা রাজধানীতে ঘুরে বেড়ায়। নিরিবিলি সড়ক পেলে অবস্থা বুঝে যেকোন রিকশার গতিরোধ করে মোবাইল ফোনসেট ও মানিব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। ছিনতাইকারীরা গাড়ি ব্যবহার করে বলে একজন রিকশার যাত্রীর পক্ষে ছিনতাইকারীর পিছু নেয়া সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছিনতাইকারীরা কোন অস্ত্রও ব্যবহার করে না। ফলে কোন একটি নির্দিষ্ট চেকপোষ্টে ঐসব গাড়ি তল্লাশি করে পুলিশ ছিনতাইকারী সনাক্ত করতে পারে না। ছিনতাইয়ের শিকার অনেকেই লোকলজ্জা ও পুলিশী ঝামেলার ভয়ে থানায় মামলা করেন না। আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তি থানায় মামলার পরিবর্তে জিডি করেন।

গত সোমবার রাত ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরে ডায়াবেটিস সমিতি সেন্টারের সামনে তানভীর আলম রিকশায় যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। একই দিনে রাত ১১টার দিকে ২৬, নয়াপল্টনের রুমা ফার্মেসি থেকে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। সোমবার দুপুরে উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর রোডের ১০ নম্বর বাড়ির সামনে রিকশায় যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীরা রিকশার গতিরোধ করে আফরোজা আলমের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোনসেট নিয়ে যায়। রবিবার রাত ১টার দিকে বাংলামোটর মোড়ে ডিম ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে অর্ধশত ডিম ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার দিলে পুলিশ সোহেল নামে এক ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলে। ঐদিন একই সময়ে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের সামনে আবু জাফর নামে এক রিকশা যাত্রীর কাছ থেকে ছিনতাইকারীরা ১টি মোবাইল ফোনসেট ও ৫শ’ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ডিএমপি’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রাজধানীতে ছিনতাই রোধ করা পুলিশের পক্ষ সম্ভব নয়। কারণ ছিনতাইকারী গ্রেফতার হওয়ার পর ৩/৪ মাসের মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে ডিবির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, ছিনতাইকারী গ্রেফতারে পুলিশের অভিযানের পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতা প্রয়োজন। কারণ রাতে কেউ একাই ট্যাক্সিক্যাব বা সিএনজি অটোরিকশায় চড়লে তিনি মোবাইল ফোনে তার কোন আত্মীয়কে ঐ গাড়ির নম্বর ও চালকের নাম জানিয়ে দিতে হবে। এছাড়া গাড়ি বা রিকশায় চলার সময় নির্দিষ্ট সড়কের পরিবর্তে অন্য রাস্তা দিয়ে যেন না যায় সেক্ষেত্রে যাত্রীকে সতর্ক থাকতে হবে।

No comments: