কাউন্সিলের মাধ্যমে দল পুনর্গঠনের দাবি জানালেন বিএনপির তৃণমূল নেতারা
।। ইত্তেফাক রিপোর্ট ।।
বিএনপির তৃণমূল নেতারা চাপিয়ে দেয়া কমিটির পরিবর্তে কাউন্সিলের মাধ্যমে দল পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, বিতর্কিত ও দুঃসময়ে দলের বিরোধিতাকারী নেতাদের বহিষ্কার করে নতুন নেতৃত্বেরও দাবি জানান। গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেলা ১১ টা থেকে রাত পর্যন্ত থানা পর্যায়ের নেতাদের বৈঠকে তৃণমূল নেতারা এসব দাবি জানান। তৃণমূল নেতাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের মধ্য দিয়ে গতকালই প্রথম আনুষ্ঠানিভাবে দল পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু করল বিএনপি। গতকাল রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ ও ঢাকা বিভাগের শেরপুর জেলা ও থানা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।
দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। দলের সার্বিক অবস্থা অবহিত হওয়ার জন্য প্রতিটি জেলা ও থানা পর্যায়ের নেতাদের একটি ফরম বিতরণ করা হয়। বৈঠকে থানা পর্যায়ের নেতাদের আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে লিখিত বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।
বিভাগীয় কমিটি নেতা মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এই প্রথম। আগে এভাবে দলকে পুনর্গঠনের জন্য সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়নি। পূর্বপরিকল্পিতভাবে দলকে ধ্বংস করার চক্রান্ত নস্যাৎ করতে এই কার্যক্রম সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তৃণমূল নেতাদের কাছে পাঠানো ফরমে ২১টি প্রশ্নের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ফরমে উল্লেখযোগ্য প্রশ্নগুলো হচ্ছে- দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র সম্পর্কে অবগত আছেন কিনা, কমিটি গঠনের পর কতজন সদস্য মারা গেছে, কমিটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও সাজার বিস্তারিত তথ্য, সংগঠন পরিচালনার আয়ের উৎস কি, সংশ্লিষ্ট ইউনিটের অধীনে গ্রাম, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটিগুলোর সাংগঠনিক অবস্থা কী, সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আহবায়ক বা পূর্ণাঙ্গ কমিটি আছে কিনা। এছাড়া বিগত জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ভূমিকা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ জানতে চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া নেতৃবৃন্দের নাম, বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, স্থানীয় কার্যালয়ের ঠিকানা, ফোন নম্বর, কমিটি গঠনের তারিখ, কমিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠন করা হয়েছিল কিনা, কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ, কমিটিতে কতজন মহিলা সদস্য আছে, কমিটির কতজন এলাকার শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, কমিটি গঠন হওয়ার পর কতবার সভা হয়েছে এবং সভার কার্যবিবরণী বই আছে কিনা সেই ব্যাপারেও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার সকাল ১১টায় খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলার সকল উপজেলা, থানা এবং পৌরসভা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া কর্মসূচি অনুযায়ী ৫,৭, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরগুনা, পিরোজপুর, বরিশাল দক্ষিণ ও বরিশাল সদর, বরিশাল উত্তর এবং ভোলা জেলার সকল উপজেলা, থানা এবং পৌরসভা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment