শুরু হলো ভাষার মাস ফেব্র“য়ারি
বাঙালির মনে বপন করা হলো অসন্তোষের বীজ
কাগজ প্রতিবেদক : একুশে ফেব্র“য়ারি বাঙালি ও বাংলাদেশের আত্মপরিচয়ের উৎসবিন্দু। ভাষাভিত্তিক অসা¤প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ অমর একুশেরই চেতনা। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এক বিরাট আন্দোলন সংঘটিত হয়, যা ভাষা আন্দোলন নামে খ্যাত।
১৯৪৭ সালে দুটি ভাগে বিভক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে প্রায় ২০০ বছরের ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে। সা¤প্রদায়িক ভেদবুদ্ধির এক কলঙ্কময় ইতিহাসের মধ্য দিয়ে হিন্দু আর মুসলমান পরস্পরের রক্তে হাত রঞ্জিত করে এই স্বাধীনতা লাভ করে। প্রতিষ্ঠিত হয় দুটি রাষ্ট্রÑ ভারত আর পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রটি পূর্ব আর পশ্চিমে ভৌগোলিকভাবে বিভক্ত হয়ে থাকলো সহস্রাধিক মাইলের ব্যবধানে। শুধু ভৌগোলিকই নয়, ব্যবধান ছিল ধর্ম ব্যতিত জাতিগত, ভাষাগত, নৃতাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক Ñ সব ক্ষেত্রেই। পাকিস্তানের অধিকাংশ (৫৫%) নাগরিক পূর্ব পাকিস্তানি বা বাঙালি, যাদের মাতৃভাষা বাংলা। পশ্চিম পাকিস্তানের অধিবাসীদের ছিল কয়েকটি ভাষা, যেমন Ñ পাঞ্জাবি, সিন্ধি, বেলুচি, পশতু। স্বাধীনতার পর ভারত থেকে আগত অভিবাসীদের কারণে উর্দু ভাষা সেখানে যুক্ত হয় এবং ক্রমে তা প্রাধান্য বিস্তার করে। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ক্ষমতাসীন পশ্চিম পাকিস্তানি নেতৃবৃন্দ সব ব্যাপারে এরূপ অভিব্যক্তি প্রকাশ করছিলেন যে, পাকিস্তানের প্রধান অংশ পশ্চিম পাকিস্তান, পূর্ব বাংলা (পূর্ব পাকিস্তান) তার লেজুড় মাত্র। ভারতের স্বাধীনতার আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে তখন ভবিষ্যতের স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর রূপটি কেমন হবে, তা নিয়ে হিন্দু-মুসলিম নেতৃবৃন্দের মধ্যে চরম মতানৈক্য দেখা দেয়। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে ভারতের মুসলিম প্রধান উত্তরÑপশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছিল মুসলিম লীগ। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা তো নয়ই স্বায়ত্তশাসনও দেয়া হলো না। এভাবে অসন্তোষের বীজ পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের মনে শুরুতেই বপণ করা হলো। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নির্ধারণের প্রশ্নেও বাংলা ভাষার দাবিকে চরম অন্যায়ভাবে পদদলিত করা হলো।
তথ্য সূত্র : ভাষা সৈনিক অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের বই ‘একুশ : ভাষা আন্দোলনের সচিত্র ইতিহাস’।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment