Sunday, February 1, 2009

সন্ত্রাস-নির্যাতন বন্ধ না করলে সংসদের ভেতর-বাইরে আন্দোলন : খালেদা

সন্ত্রাস-নির্যাতন বন্ধ না করলে সংসদের ভেতর-বাইরে আন্দোলন : খালেদা

কাগজ প্রতিবেদক, বগুড়া : জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধভাবে দুই বছর দেশ শাসন করেছে। তারা জানতো আমরা ক্ষমতায় গেলে তাদের বৈধতা দেবো না। এ জন্য তারা ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিয়ে আমাদের পরাজিত করেছে।
তিনি আওয়ামী লীগকে ওয়াদা ভঙ্গকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, তারা কখনো কথা দিয়ে কথা রাখে না। তারা বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার দেয়ার কথা বললেও সেই ওয়াদা রাখতে পারেনি। সংসদে বিরোধী দলের আসন কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমাদের ঠিকমতো বসতে দিচ্ছে না। দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও কল্যাণের স্বার্থে কাজ করলে আমরা সরকারি দলকে
সহযোগিতা করবো। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকালে বগুড়ার বাগবাড়ীর শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বগুড়া জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জে. (অব) মাহবুবুর রহমান, সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সেলিমা রহমান, বেগম সরোয়ারী রহমান, মির্জা আব্বাস, ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, আমানউল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু প্রমুখ।
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন ষড়যন্ত্র করে ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপিকে হারিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর মাত্র ২৫ দিনের মাথায় সব প্রতিশ্র“তি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার যেন এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করে, যার জন্য আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হই। দেশবিরোধী কোনো চুক্তি ও হত্যা-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংসদের ভেতরে এবং প্রয়োজনে রাজপথে হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন করবো। ক্ষমতায় আসতে না আসতেই তারা সারাদেশে লুটপাট, সন্ত্রাস, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হল দখল ও মানুষ হত্যা শুরু করেছে। মানুষকে হত্যা করে ১৭ টুকরো করা হচ্ছে। দেশের মানুষ শান্তিতে নেই। এসব বন্ধ করার জন্য তিনি আওয়ামী নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করার দাবি জানান।
খালেদা জিয়া বলেন, কৃষকরা সার পাচ্ছে না। বিনামূল্যে কৃষকদের সার দেয়ার কথা থাকলেও তারা টাকা দিয়েও সার পাচ্ছে না। তারা নির্বাচনের আগে জনগণকে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল ১০ টাকা কেজি চাল, ৫ টাকা কেজি কাঁচা মরিচ, বিনামূল্যে সার বিতরণ ও প্রতিটি পরিবারের একজনকে চাকরি দেয়ার। আমরা দাবি করছি জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্র“তি তারা বাস্তবায়ন করবে। ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিএনপিকে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে আমাদের সকল প্রার্থীকে হারানো হয়েছে। সেই নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি।
সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বরে বিশাল পথসভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার নীল নকশার সাজানো ও পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে বাকশালী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বেড়েই চলেছে। বিভিন্নস্থানে হত্যা, খুন ও লুটপাট শুরু হয়েছে। বিএনপির ২০ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। দেশে সন্ত্রাসের রাজনীতি কায়েম হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাকশালীদের হল দখলের মহড়া চলছে। জনগণ এ দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে চায়। তিনি আরো বলেন, তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী ১০ টাকা সের চাল, বিনামূল্যে সার ও প্রতিটি পরিবারে একজন করে চাকরি জনগণ পেতে চায়।
তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা জ্বালাও, পোড়াও রাজনীতি পরিহার করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলনে নামুন। তিনি বর্তমান সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, বাকশালী সন্ত্রাস বন্ধ করে দেশ পরিচালনা করুন। ইসলামী মূল্যবোধ ও দেশের সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করে আমাদেরকে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না । পথসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রায়গঞ্জ-তাড়াশের সাবেক এমপি আব্দুল মান্নান তালুকদার, সাইফুল ইসলাম শিশির, রায়গঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এ বি এম সাত্তার প্রমুখ।

No comments: