দীনেশ দাস: শেখ মুজিবুর রহমান প্রাদেশিক বাণিজ্য, শিল্প ও শ্রমমন্ত্রী থাকাকালে তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে এবং সুবিধা দিয়ে ১৫শ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল৷ কিন\’ আদালতের রায়ে তিনি সেই মামলা থেকে বেকসুর খালাস পান৷
সে সময়ের দুর্নীতি দমন বুরোর দায়ের করা মামলার নথিপত্র অনুসন্ধান করে অভিযোগে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ জেলার সতীহাটিতে ‘আল আমিন ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে একটি কাপড় ক্যালেন্ডারিং কারখানা স্থাপনের জন্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ আনওয়ার আলী, হাজী সেকেন্দার আলী ও গোলাম হায়দার চৌধুরী ১৯৫৬ সালের আগস্ট মাসে একটি আবদন করেন৷ তারপর তারা ৭ সেপ্টেম্বর ১৫ আব্দুল গণি রোডের সরকারি বাসভবনে গিয়ে শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা করে লাইসেন্স প্রদানের অনুরোধ করেন৷ বিনিময়ে তিনি আবেদনকারীদের কাছে আওয়ামী লীগের তহবিলে ১৫শ টাকা চাঁদা দেয়ার এবং তার ভাই শেখ আবু নাসেরকে বিনামূল্যে ৩ আনা মালিকানা দেয়ার দাবি করেন৷ উপায়নত্মর না দেখে আবেদনকারী ১৯৫৭ সালের ২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কিসত্মিতে সেই টাকা পরিশোধ এবং মালিকানা দলিল প্রদান করেন৷
রাষ্ট্রীয় পদে থেকে এহেন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ আবু নাসের ১৯৪৭ সালের ২ নং আইনের ৫(২) ধারা এবং পাকিসত্মান দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা অনুযায়ী শাসত্মিযোগ্য অপরাধ করেছেন৷ দুর্নীতি দমন বুরো ইন্সপেক্টর আবদুল জলিল বাদী হয়ে ১৯৫৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রমনা থানায় এজাহার দায়ের করেন এবং বুরোর অপর ইন্সপেক্টর মেহরাব আলী চৌধুরীর তদনত্ম কাজের জন্য ভারপ্রাপ্ত হয়ে একই বছরের ৯ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন৷
দীর্ঘদিন মামলা চলার পর ঢাকা বিভাগের স্পেশাল জজ এএসএম রাশেদ ১৫ জনের সাক্ষ্য ও প্রমাণ বিচার করে ১৯৬০ সালের ৩১ মে মঙ্গলবার প্রদত্ত এক রায়ে অভিযোগ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ আবু নাসেরকে বেকসুর খালাস দেন৷ মামলায় প্রধান কেঁৗসুলী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী৷ তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, অ্যাডভোকেট জহীরউদ্দিন প্রমুখ৷ বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজউদ্দিন আহমদ৷ তাকে সহায়তা করেন মোয়াজ্জেম হোসেন খান৷
Wednesday, May 13, 2009
শিল্পমন্ত্রী থাকাকালে শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে ১৫শ টাকা চাঁদা গ্রহণের মামলা : আদালতের রায়ে বেকসুর খালাস
Subscribe to:
Post Comments (Atom)


No comments:
Post a Comment