বাংলা একাডেমীর “অস্তিত্ব” সংকট / আবু জুবায়ের
বাংলা একাডেমী আমাদের চিন্তা,চেতনা,সৃজন,মণনের প্রতিক ।এই বলার মধ্যে কারো কার্পণ্য থাকবার কথা না।বাংলা ভাষী জনগনের আবেগের একমাত্র আশ্রয় স্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকের মধ্যে ধারন করা এই বাংলা একাডেমী।এদেশের স্বাধীকার আন্দোলন থেকে আজ পর্যন্ত এই দেশের জাতীয়তাবাদি চেতনার জন্য আমাদের এই সমাজে বাংলা একাডেমীর অবদান অনস্বীকার্য। বাংলা একাডেমী ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা, গবেষণা ও প্রচারের লক্ষ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশে) এই একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়।রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন-পরবর্তী কালের প্রেক্ষাপটে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন "বর্ধমান হাউজ"-এ এই একাডেমীর সদর দপ্তর স্থাপিত হয়।
বাংলা একাডেমীর বর্তমান বিভাগগুলো হচ্ছে:
· গবেষণা, সঙ্কলন ও ফোকলোর বিভাগ
· ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পত্রিকা বিভাগ
· পাঠ্যপুস্তক বিভাগ
· প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ
এই বিভাগুলো তাদের সর্বচ্চ ক্ষমতা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।আমার একটা বিষয় অবাক লাগে যে এত কম লোকবল নিয়ে আমাদের অস্তিত্বের প্রতিক এই বাংলা একাডেমী কিভাবে কাজ করে।আমি এই জন্য বাংলা একাডেমীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।কম জনবল এবং তাদের সর্বচ্চ মেধা ব্যবহারের মাধ্যমে আমদের অহংকারের প্রান বাঁচিয়ে রেখেছেন।কিন্তু কিছু বিষয় আমদের সামনে এখন চলে আসছে সেটা হলো বাংলা একাডেমী কি শুধুমাত্র বাংলা ডিকশনারি ত্রুটি মুক্তকরন এবং নামকা ওয়াস্তে কিছু প্রকল্পের দ্বায়িত্ব পালন করবে।এখন বিষয়গুলো চিন্তা করবার সময় এসেছে যখন বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে শুনতে হয় বাংলা একাডেমীর কি দায়িত্ব হয়া উচিত।গত ১ লা ফেব্রুয়ারী বাংলা একাডেমীর সদস্য হিসাবে আমি অমর একুশে গ্রন্থ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেই।সদস্য আসনে জায়গা না হয়ায় আমি মঞ্চের একেবারে শেষে বসার জন্য একটা চেয়ার খুজে নেই।আমার আসনের পাশেই বসেছিলেন সদ্য ও এস ডি হোওয়া পরিকল্পনা সচিব কবি জাফর আহমেদ চৌধুরি।প্রানবন্ত মানুষটিকে নির্জন মনে হচ্ছিলো।মোস্তফা জামান আব্বাসী,বাংলা একাডেমীর ফেলো রাহিজা খানম ঝুনুসহ অনেকে তাদের সংরক্ষিত আসনে বসতে পারেন নি।আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা পুরো অনুষ্ঠান সরগরম করে রাখে।দেখতে দৃষ্টিকটূ লাগছিলো।বাংলা ভাষার অনেক সাহিত্যিককে আমি সেখানে উপস্থিত দেখিনি।বসন্তের কোকিলের ডাক হয়তো অনেকে সেখানে শুনতে পেয়েছিলেন।শুধুমাত্র রবীন্দ্র মুর্ছনা অনেককে রোমান্টিক করে তোলে।আমি বলছি না যে এটা খারাপ হয়েছিলো তবে রবীন্দ্র নাথের মুর্ছনার সাথে সাথে নজরুলের গানের মুর্ছনা বাজানো উচিত ছিলো বিষয়টি আমার কাছে সদ্য বিবাহিত দম্পত্তির হানিমুন অনুষ্ঠান হিসাবে মনে হচ্ছিলো।একুশের বই মেলা আয়োজন বাংলা একাডেমীর সবচেয়ে বড় আয়োজন।বাংলা একাডেমী সব সময় চেষ্ঠা করে তাদের সবচেয়ে ভাল আয়োজনটি করতে।কিন্তু এই ধরনের জাতীয় বিষয়ে আরো সচেতন হওয়া উচিত।এর পর অনুষ্ঠান শুরু হলো ।অনুষ্ঠান চলাকালে ভারতী লেখিকা মহাস্বেতা দেবী সেখানে উপস্থিত ছিলেন,প্রধান মন্ত্রী তাকে সম্মান দিয়ে তার আসনের পাশে বসালেন।সবায় করতালি দিয়ে এটাকে স্বাগত জানালো।মহাশ্বেতা দেবী একজন ভারতীয় বাঙালি লেখিকা । তিনি ১৯২৬ খ্রীষ্টাব্দে বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকায় জন্মগ্রহন করেন । তিনি মূলত সাঁওতাল ইত্যাদি উপজাতিদের উপর কাজ এবং লেখার জন্য বিখ্যাত । ইনি জ্ঞানপীঠ পুরষ্কার পেয়েছেন । তার লেখা শতাধিক বইয়েরর মধ্যে 'হাজার চুরাশির মা' অন্যতম। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০০৭ সালে তিনি সার্ক সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন।
gnv‡k¦Zv †`ex e‡jb, AvR‡K Avgvi gZ Ggb m¤§vb Avi †Kvb †jLK †c‡q‡Q wKbv Rvwb bv| wZwb e‡jb, evsjv GKv‡Wgxi eB‡gjvi gZ GZ eo eB‡gjv fvi‡Zi Avi †Kv_vI nq wKbv m‡›`n| XvKvi G †gjv Abb¨|
তার বক্তব্যে আমি ভাষা আন্দলনের শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন কিনা আমার স্মরণে আসছে না।শুধু মাত্র একজন বড় লেখককে মঞ্চে বসিয়ে বাহাবা নেবার এই ধরনের ইচ্ছা থেকে বেশি প্রয়োজন আমদের অস্তিত্বকে মর্যাদা দেয়া।
একাডেমির সভাপতি জনাব ড.হারুন অর রশিদ তার বক্তব্যে বলেন “weMZ w`b¸‡jv‡Z g~L©‡`i mxgvnxb Avùvjb wQj evsjv‡`‡ki ev¯ÍeZv| †kL nvwmbvi D‡Ï‡k wZwb e‡jb, G miKvi w`b e`‡ji K_v e‡j ÿgZvq bq `vwq‡Z¡ G‡m‡Q| miKvi Ggbfv‡e †`k cwiPvjbv Ki‡e hv‡Z mgv‡R BwZevPK cÖfve c‡o| GQvov wZwb cÖavbgš¿x‡K evsjv GKv‡Wgxi M‡elYv †K›`ª Pvjyi Rb¨ 10 †KvwU UvKv eivÏ †`qvi `vwe Rvbvb| †mBmv‡_ cwiwa evov‡bvi Rb¨ evsjv GKv‡Wgxi `ycv‡k XvKv wek¦we`¨vj‡qi RvqMv †Q‡o †`evi Av‡e`b Rvbvb| “
তিনি নিজেকে কিভাবে মুর্খ বললেন সেটা আমার বধগম্য নয়।তিনি শেখ হাসিনাকে যথেষ্ঠ তৈল মর্দন করে বাংলা একাডেমীর উন্নয়নের জন্য কিছু দাবী দাওয়া করলেন কিন্তু তাতে প্রধান মন্ত্রী মজলেন না।বাংলা একাডেমীর কি কাজ সেটা তিনি (প্রধান মন্ত্রী) ঠিক করে দিলেন।হারুন সাহেব চুপ মেরে গেলেন।প্রধান মন্ত্রীর ভাষন অনুসারে বাংলা একাডেমীর একমাত্র কাজ বাংলা ভাষায় কিছু গবেষনা করা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের উপর কাজ করা।মাননীয় প্রধান মন্ত্রী যেহেতু পরামর্শ চেয়েছেন সেই হিসাবেই বলতে চাই।বাংলা একাডেমীর কাজ শুধুমাত্র কিছু গবেষনা করা ,মেলা আয়োজন কিংবা বই প্রকাশ নই।এই বাংলা একাডেমী এদেশের মানুষের শ্বাস যন্ত্র।সার্বভৌমত্বের প্রতিক।এর কার্যক্রমকে খাটো করে না দেখে বিভিন্ন প্রকল্প নেবার মাধ্যমে একে শক্তিশালি করুন।বাংলা একাডেমিকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল করে আরেকটি ভাষা সম্পর্কিত জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা বাংলা একাডেমীকে দূর্বল করে দেবার সামিল।আমদের আবেগ কে প্রশ্রয় দিয়ে যে বাংলা একাডেমীকে দিনে দিনে এদেশের সমাজের সকলে গড়ে তুলেছে সেই প্রতিষ্ঠানকে অর্থ বরাদ্ধ দিতে আজ সংকোচ বোধ হয়।নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে না তুলে বাংলা একাডেমীকে য়ান্তর্জাতিক ভাষা গবেষনার পিঠস্থান হিসাবে গড়ে তুলুন।।শুধু মাত্র বিদেশে কিছু মানুষের হাততালি পাবার জন্য আরেকটি ভাষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে এদেশের মানুষ সহ্য করবে না।বাংলা একাডেমীকে আকাদেমিতে রুপান্তরের ইচ্ছা করলে আমরা মেনে নেবো বলে মনে হয়না।
বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উত্কর্ষ সাধনে ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলা একাডেমী৷ আমরা মনে করি এরই ধারাবাহিকতায় স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে৷ আমাদের বাংলা একাডেমী বাংলা ভাষার প্রসার ও প্রচারে গত ৫৩ বছর ধরে এক ধরনের গতানুগতিক কাজ করে যাচ্ছে৷ একমাত্র বইমেলা ছাড়া বছরের বাকি সময়ে বাংলা একাডেমী বাংলা ও বাংলা ভাষার চর্চা বাড়াতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে তেমন কোনো কাজই করেনি৷ একাডেমী সবচেয়ে বেশি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বর্তমান প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার কাজে৷আমার শেষ কথা হলো বাংলা একাডেমীকে এখনি শক্তিশালি করুন নইলে জাতি অস্তিত্বের সংকটে পরতে পারে।
লেখকঃকবি,লেখক,কলামিস্ট
No comments:
Post a Comment