Sunday, February 1, 2009

বঙ্গবল্পব্দু হত্যাকা-ের পর ফারুক রশিদ শাহরিয়ার দেশ চালাতেন জেনারেল মইনের স্ট§ৃতিচারণ

বঙ্গবল্পব্দু হত্যাকা-ের পর ফারুক রশিদ শাহরিয়ার দেশ চালাতেন
জেনারেল মইনের স্ট§ৃতিচারণ
সমকাল ডেস্ট‹

সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ মনে করেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগ¯দ্ব বঙ্গবল্পব্দু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনাটি ছিল কয়েকজন কনিষ্ঠ পদবির অফিসারের ব্যক্তিগত আত্রেক্রাশের বহিঃপ্রকাশ। পুরো সেনাবাহিনী তাতে কোনোভাবেই স¤ক্সৃক্ত ছিল না। ওই হত্যাকা-ের পর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারুক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল রশিদ, মেজর শাহরিয়ার বঙ্গভবনে থেকে দেশ চালাতেন। খোন্দকার মোশতাক আহমেদ রা®দ্ব্রপতি হয়েও রা®দ্ব্র পরিচালনার স্ট^াদ নিতে পারেননি।
গত বৃহ¯ক্সতিবার প্রকাশিত তার ™ি^তীয় বই ‘শাšিøর স্ট^পেু : সময়ের স্ট§ৃতিচারণ’-এ এভাবেই ১৯৭৫ সালের ঘটনাপ্রবাহের মহৃল্যায়ন করেছেন সেনাপ্রধান। ৩৮৩ পৃষ্ঠার বইটির ‘ওয়ান ইলেভেন’ অধ্যায়ে ২০০৭ সালে ক্ষমতার পালাবদল ও এর পেছনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও খোলামেলা

আলোচনা করেছেন তিনি।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবল্পব্দুকে যখন হত্যা করা হয় মইন তখন সেনাবাহিনীতে সদ্য কমিশন পাওয়া সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট। ২৩ বছর পর নিজের স্ট§ৃতিকথায় সেই ঘটনার মহৃল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘১৫ আগ¯দ্ব, ১৯৭৫ সালের রক্তক্ষয়ী এক সামরিক অভ্যুত্থানে বঙ্গবল্পব্দু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলে খোন্দকার মোশতাক প্রেসিডেন্ট হিসেবে আবির্ভূত হন। দেশের মানুষ নির্মম এ হত্যাকা-ে ভীষণভাবে ব্যথিত ও আলোড়িত হয়েছিল। কেননা বঙ্গবল্পব্দু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন দেশের অবিসংবাদিত নেতা। তিনিই দেশের মানুষকে স্ট^াধীনতার স্ট^পু দেখিয়েছিলেন।... কাজেই তাঁর এ রকম নির্মম মৃত্যু দেশের মানুষ সহজভাবে নেয়নি। ¯ক্স®দ্বতই সর্বত্র একটা চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল।’
১৫ আগ¯দ্ব রাতের ঘটনার বিস্টøারিত বিবরণ মইন দেননি। বইটির বিবরণ অনুযায়ী, খাদ্য-পরিবহন ব্যবস্ট’া নিরাপদ রাখতে দায়িÍ^প্রাপ্টø একটি ইউনিটের সঙ্গে ১৪ আগ¯দ্ব তিনি জামালপুর অবস্ট’ান করছিলেন। পরদিন ঘুম থেকে উঠে বঙ্গবল্পব্দুকে নৃশংসভাবে হত্যা করার কথা জানতে পারেন।
এরপর সেপ্টেল্টল্ফ^রে ঢাকায় ফেরেন মইন। নভেল্ফ^রে সেনাবাহিনীর মধ্যকার একাধিক অভ্যুত্থান-পাল্কল্টাঅভ্যুত্থান দেখেন খুব কাছ থেকে। ৬ নভেল্ফ^র রাতে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের সময় তিনি ছিলেন বঙ্গভবন ও তখনকার রা®দ্ব্রপতি খোন্দকার মোশতাকের নিরাপত্তার দায়িÍে^। বইটির ‘বঙ্গভবন : নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি’ অধ্যায়ে মহৃলত সেই রাতের অভিজ্ঞতাই লিপিব™ব্দ করেছেন তিনি।
মইনের বিবরণ অনুযায়ী, জুনিয়র অফিসারদের নির্দেশনায় রা®দ্ব্রতšú চলতে থাকায় সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্ট’ অফিসারদের অস্ট^স্টিø বাড়তে থাকে। সেনাবাহিনীর সর্বস্টøরে এক ধরনের সমল্প^য়হীনতা দেখা দেয়। এ প্রেক্ষাপটে ৩ নভেল্ফ^রে সেনাবাহিনীর অসন্তু®দ্ব সিনিয়র অফিসাররা সেনাবাহিনী ও রা®দ্ব্রতšেú শৃগ্ধখলা ফিরিয়ে আনতে ১৫ আগ¯েদ্বর অভ্যুত্থানকারীদের বিরু™েব্দ পাল্কল্টা অভ্যুত্থান করেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল রশিদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারুকরা সবকিছুর ওপর একচেটিয়া নিয়šúণ হারায়। ওইদিনই তাদের থাইল্যান্ড পাঠিয়ে দেওয়া হয়। খোন্দকার মোশতাক বঙ্গভবনে গৃহবন্দি হন এবং তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াকে গৃহবন্দি করে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে পদোল্পুতি দিয়ে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করা হয়।
ওই ঘটনার পর বঙ্গভবনে খোন্দকার মোশতাককে ‘দেখে রাখার’ দায়িÍ^ পড়ে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট মইন উ আহমেদের ওপর। সেই দায়িÍ^ নিয়ে বঙ্গভবন থেকে ৬ নভেল্ফ^র রাতে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান প্রত্যক্ষ করেন মইন।
বঙ্গভবনে গৃহবন্দি খোন্দকার মোশতাক আজকের সেনাপ্রধানের স্ট§ৃতিকথায় ধরা পড়েছেন এভাবেÑ ‘রাজ্য ও ক্ষমতা হারিয়ে তিনি (মোশতাক) তখন একজন ভ¹ু হƒদয়ের মানুষ। যদিও কোনো সময়ই তাঁর হাতে প্রকৃত ক্ষমতা ছিল না, তবুও তিনি ক্ষমতার বলয়ের মধ্যেই ছিলেন।’
সেই রাতের বিবরণ দিতে গিয়ে মইন লিখেছেন, ‘গুলিস্টøান সিনেমা হল আর দৈনিক বাংলার মোড় থেকে অনেক গাড়ি বঙ্গভবনের দিকে আসতে থাকে; সঙ্গে ট্যাগ্ধক আর হাজার হাজার মানুষ। এলোপাতাড়ি গোলাগুলিও চলে কোথাও কোথাও।... আমি একজন নবীন সেনা কর্মকর্তা। আমার দায়িÍ^ ছিল খোন্দকার মোশতাককে আͧহত্যা করতে না দেয়া। এখন আমার উপর পুরো বঙ্গভবন রক্ষা করার দায়িÍ^ চেপেছে।... ভাবছিলাম আজ আমার মৃত্যু নিশ্চিত।... হাজার হাজার বিদ্রোহী মানুষ, সৈনিক, সবার সল্ফি§লিত আত্রক্রমণ। এই আত্রক্রমণে পুরো বঙ্গভবন ধুলায় মিশে যাওয়ার কথা।’
৬ নভেল্ফ^র রাতে নানা স্টøরের মানুষ আর সেনাসদস্যরা কীভাবে বঙ্গভবনের দখল নেয়, কীভাবে লুটপাট চলে এবং কীভাবে মোশতাক আহমেদকে উ™ব্দার করা হয় তারও বিস্টøারিত বিবরণ দিয়েছেন মইন।
শাšিøরক্ষা মিশন থেকে সৈন্য
ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি
থেকে ওয়ান ইলেভেন
২০০৭ সালর ১১ জানুয়ারির পটপরিবর্তনে সশস্টú বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও খোলামেলাভাবে লিখেছেন সেনাপ্রধান। তিনি লিখেছেন, ‘রাজনীতিবিদদের সৃ®দ্ব’ এ সংকটে সেনাবাহিনীকে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার ছিল না। কিন্তু শাšিøরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশের সৈন্যদের ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে এমন হুমকিতে তিনি সি™ব্দাšø বদলাতে বাধ্য হন।
মইন লিখেছেন, ‘এক সময় ক্ষমতাধর কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি আমার সাথে দেখা করে জানালো, সব দলের অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী সহায়তা করলে জাতিসংঘ শাšিøরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহারের জন্য তারা জাতিসংঘকে অনুরোধ করবে। প্রচ্ছল্পু এ হুমকির অবশ্যল্ফ¢াবী পরিণতি অনুধাবন করতে আমার অসুবিধা হলো না।’
১১ জানুয়ারির ঘটনাপ্রবাহের বিবরণ মইন দিয়েছেন এভাবে, ‘দেশের সার্বিক পরিস্টি’তি ও জাতিসংঘের মনোভাব নিয়ে আমি নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানের সাথেও কথা বললাম। তারাও সবাই একমত হলো, রা®েদ্ব্রর এ পরিস্টি’তি মহামান্য প্রেসিডেন্টকে অবগত করে তাঁর দিক-নির্দেশনা চাওয়া প্রয়োজন। আমরা প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলার জন্য সময় চাইলাম।...১৫:৩০ ঘটিকায় দেখা করার জন্য আমাদের সময় দেয়া হলো। ঠিক হলো আমরা তিন বাহিনীর প্রধান, সশস্টú বাহিনী বিভাগের পিএসও এবং ডিজিএফআই-এর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারী একসাথে রা®দ্ব্রপতির সাথে কথা বলবো।’
‘নির্ধারিত সময়ের প্রায় একঘণ্টা পর বিকেল চারটায় বঙ্গভবনের ভেতরের বসার ঘরে আমাদের ডাক পড়লো।... আমি প্রেসিডেন্টকে দেশের সর্বশেষ পরিস্টি’তি, নির্বাচন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের আলটিমেটাম, বিদেশি রা®দ্ব্রসমহৃহের অবস্ট’ান বিশেষ করে নির্বাচনের ব্যাপারে জাতিসংঘের দৃঢ় অবস্ট’ানের কথা জানালাম।...নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানও নিজ নিজ অবস্ট’ানে থেকে প্রেসিডেন্টকে পরিস্টি’তির গুরুÍ^ বোঝাতে সচে®দ্ব হলো।... আলোচনার মাধ্যমেই বের হয়ে এলো সংকট হতে উত্তরণের জন্য আমাদের সম্মুখে তিনটি পথ খোলা আছে।
এর প্রথম পথটি ছিল সেই পরিস্টি’তির ভেতরই নির্বাচন অনুষ্ঠানের চে®দ্বা করা। ™ি^তীয়ত, দেশে সামরিক আইন জারি করে সুবিধাজনক সময়ে নির্বাচনের ব্যবস্ট’া করা। আর তৃতীয় এবং শেষ উপায় ছিল দেশে সংবিধান সমুল্পুত রেখে জরুরি অবস্ট’া জারির মাধ্যমে আইন-শৃগ্ধখলা পরিস্টি’তির উল্পুতিসাপেক্ষে যত দ্র“ত সল্ফ¢ব নির্বাচন করে গণতšú পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
সেনাপ্রধান লিখেছেন, ‘সার্বিক বিবেচনায় আমরা সকলে জরুরি অবস্ট’া জারির পক্ষে আমাদের যুক্তি তুলে ধরলাম। মহামান্য প্রেসিডেন্ট আমাদের সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন কিন্তু কোনো মšøব্য করলেন না। দীর্ঘক্ষণ চুপ করে থেকে মহামান্য প্রেসিডেন্ট আরো কিছুটা সময় চাইলেন।... আমি জানতাম ইতোপহৃর্বে উপদে®দ্বা পরিষদের অনেক ইতিবাচক সি™ব্দাšø অজানা কোনো কারণ ও প্রভাবে পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। যার কারণে আমরা কোনো দু®দ্বচত্রক্রকে আবার নতুন কোনো খেলা শুরু করার সুযোগ দিতে চাচ্ছিলাম না। এক সময় আমরা সবাই প্রেসিডেন্টের কথা শোনার জন্য নিশ্চুপ হয়ে থাকলাম।’
‘দীর্ঘ নীরবতা ভেঙ্গে প্রেসিডেন্ট এক সময় সারা দেশে জরুরি অবস্ট’া জারির পক্ষে মত দিলেন। সি™ব্দাšø হলো বর্তমান উপদে®দ্বা পরিষদ তিনি ভেঙ্গে দেবেন এবং প্রধান উপদে®দ্বার পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।... আমাদের বুক থেকে যেন একটা জগদ্দল পাথর সরে গেলো। মুহহৃর্তের ভেতর কামরার পরিবেশ কেমন উৎসবমুখর হয়ে উঠলো। সবাই আবার হাসিমুখে কথা বলা শুরু করলো। সহৃর্য রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হলে তার উজ্জ্বলতা যেমন বৃ™িব্দ পায়, তেমনি প্রেসিডেন্টের চোখে-মুখেও হঠাৎ করে একরাশ মুক্তির আলো উদ্ভাসিত হলো।’
‘শাšিøর স্ট^পেু : সময়ের স্ট§ৃতিচারণ’ বইটি প্রকাশ করেছে এশিয়া পাবলিকেশন্স। দাম ৪০০ টাকা। গত বৃহ¯ক্সতিবার বইটির মোড়ক উšে§াচন হয়।

No comments: