আ'লীগের ভোট বেড়েছে ৮ শতাংশ; বিএনপিরও কমেছে একই
মঈনুল হক চৌধুরী
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদক
ঢাকা, ডিসেম্বর ৩১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নবম সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে আওয়ামী লীগ। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি পেয়েছে ৩২ শতাংশ ভোট। আর অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এবার মোট ভোট পড়েছে ৮৭ শতাংশ।
২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের তুলনায় আওয়ামী লীগের ভোট এবার ৮ শতাংশ বেড়েছে। অপরদিকে বিএনপির কমেছে একই পরিমাণ।
অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল। অর্থাৎ এবার প্রদত্ত ভোটের পরিমাণ বেড়েছে ১১ দশমিক ৪১ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার ২৯৯ আসনে মোট ভোটার ছিল ৮ কোটি ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৪০৬ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছে ৭ কোটি ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৪৪৯ জন; অর্থাৎ ৮৭ দশমিক ১৭ শতাংশ ভোটার। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে বাতিল হয়েছে ৬ লাখ ২৫ হাজার ১৮৪ ভোট। বৈধ ভোটের সংখ্যা ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৩২ হাজার ২৬৫টি।
প্রার্থী নুরুল ইসলামের মৃত্যুর কারণে নোয়াখালী-১ আসনে নির্বাচন গত ২৯ ডিসেম্বর হয়নি। এ আসনে নির্বাচন হবে আগামী ১২ জানুয়ারি।
এবার আওয়ামী লীগের ভোট বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৪০ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট পায়। এর বিপরীতে বিএনপির ভোট কমেছে ৮ শতাংশের কিছু বেশি। ২০০১ এর নির্বাচনে বিএনপি পায় ৪০ দশমিক ৮৬ শতাংশ ভোট।
এবার ৪৮ শতাংশ ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৩০টি আসন। তাদের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৩ কোটি ৪২ লাখ ৭২ হাজার ৯১০টি। তবে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের মিত্র কয়েকটি দলও নির্বাচনে অংশ নেয়।
১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০ দশমিক ৮ এবং ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদে ৩৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পায়। ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে দলটি পায় ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোট।
এবার ৩২ শতাংশ ভোট নিয়ে বিএনপি পেয়েছে ২৯টি আসন। তারা ভোট পেয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৮ হাজার ২৬৪টি। বিএনপিরও কয়েকটি মিত্র দল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়।
বিএনপি পঞ্চম সংসদে ৩০ দশমিক ৮১ এবং সপ্তম সংসদে ৩৩ দশমিক ৬০ শতাংশ ভোট পায়। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৪১ দশমিক ১৬ শতাংশ ভোট পায়।
নবম সংসদ নির্বাচনে এইচএম এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি পেয়েছে ৭ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৪ শতাংশ ভোট। লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টি ভোট পেয়েছে ৪৯ লাখ ৫ হাজার ৪১৭টি; আর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াত পেয়েছে ৩২ লাখ ৯ হাজার ২২ ভোট।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৪৭ জন পেয়েছেন প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৩ শতাংশ। অন্য দলগুলোর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন ১ দশমিক ৫ শতাংশ, জাসদ (জেএসডি) দশমিক ৭৪, এলডিপি দশমিক ৩৮, বিজেপি দশমিক ২৭, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম দশমিক ২৬, বিকল্পধারা দশমিক ২৫, জাকের পার্টি দশমিক ২১, ইসলামী ঐক্যজোট দশমিক ১৬, জাগপা ও কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ দশমিক ১৫, গণফোরাম দশমিক ১০, বাসদ ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি দশমিক ০৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
এবার সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে, ৯৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সবচেয়ে কম পড়েছে ঢাকা-১১ (তেজগাঁও) আসনে, ৭২ দশমিক ৪২ শতাংশ।
১৯৭৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আটটি সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের হার ছিল যথাক্রমে (প্রথম থেকে অষ্টম)- ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ; ৫০ দশমিক ৯৪ শতাংশ; ৬০ দশমিক ৩১ শতাংশ; ৫৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ; ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ; ২৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ; ৭৫ দশমিক ৬০ শতাংশ; ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
প্রথম বার প্রবর্তিত হলেও নবম সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের প্রতিটিতেই 'না' ভোট পড়েছে। এর মোট সংখ্যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৫টি। 'না' ভোটের হার প্রদত্ত ভোটের দশমিক ৪৬ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি 'না' ভোট পড়েছে পার্বত্য রাঙামাটি আসনে, ৩২ হাজার ৬৭টি। সবচেয়ে কম পড়েছে নীলফামারী-১ (ডিমলা-ডোমার) আসনে, ৭০টি।
No comments:
Post a Comment