| আমরা প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করি না : শেখ হাসিনা |
![]() আমরা প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করি না : শেখ হাসিনা যাযাদি রিপোর্ট কোটালীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন শেখ হাসিনা Ñযাযাদি দেশের উন্নয়নে জনগণকে ধৈর্য ধারণ ও সহনশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি উন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘পিছিয়ে পড়া বঞ্চিত’ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমতা আনার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। রাজধানীর ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতসন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কোটালী-পাড়া উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় শেখ হাসিনা একথা বলেন। বিডিনিউজ প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র হবে, বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হবে। এরপরও উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে জনগণকে সহনশীল থাকতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে। গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ দেশের অনেক এলাকায় গত জোট সরকারের সময় কোনো উন্নয়ন হয়নিÑ এ অভিযোগ করে হাসিনা বলেন, আমাদের সময় নেয়া প্রকল্পগুলো গত জোট সরকারের সময় বন্ধ করে দেয়া হয়। আমরা সব এলাকার সুষম উন্নয়ন চাই। উন্নয়নবঞ্চিত এলাকায় আগে কাজ করে সমতা আনা হবে। তিনি বলেন, তাদের (বিরোধী দল) টাকার অভাব নেই। তারা বিদেশে লুটের টাকার পাহাড় করেছে। বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে এ টাকা দুহাতে ছড়াবে তারা। খালেদা জিয়া ও সাইফুর রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করেছেন। তারা জনগণের লুট করা টাকাই সাদা করেছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমাতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, সীমিত আয়ের মানুষ যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে সেজন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করি না। তবে যাদের বিরুদ্ধে অন্যায় করা হয়েছে তাদের প্রতিকার করা হবে। মিথ্যা মামলাগুলো দেখা হবে। শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমরা কী পাবো সেটা বড় কথা নয়, কতোটুকু দিতে পারবো সেটাই বড় কথা। দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। সবার দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া হবে। শিক্ষার প্রতি জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের মানুষকে শিক্ষিত করতে চাই। যেন বিশ্বসভায় আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি। আমাদের ওপর আস্থা ছিল বলেই জনগণ বিপুল ভোটে জয়ী করেছে। আমরা যেন জনগণের এ আস্থা রাখতে পারি সেজন্য কাজ করে যেতে হবে। আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ে আমাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। এখন অনেক বড় দায়িত্ব নিয়ে চলতে হবে। চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে এগিয়ে যেতে হবেÑ বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে দলের মুখপাত্র এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, এখন আমাদের কাজের সময়। নির্বাচনই শেষ নয়। আগে সমতা আনা হবে। গত সরকারের সময় যেসব এলাকায় কাজ হয়নি সেসব এলাকায় আগে কাজ করা হবে। আমরা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। তিনি জানান, গোপালগঞ্জ জেলার জন্য বিশেষ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এ সময় কোটালীপাড়া উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বিমল বিশ্বাস, কোটালীপাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি সুভাষ জয়ধর, সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ূন কবীর, উপদেষ্টা কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার ২৬ দিনের মাথায় শেখ হাসিনা গতকাল প্রথম তার দলীয় কার্যালয়ে যান। দলীয় সভানেত্রী আসবেন বলে ঢাকা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতারা উপস্থিত হন সেখানে। তবে নিরাপত্তার কারণে অনেক নেতাকর্মী এদিন দলীয় সভানেত্রীর কাছে যেতে পারেননি। শেখ হাসিনা তার বক্তব্যের সময় দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর উদ্দেশে বলেন, যারা দূরে রয়েছেন তারা মনে করবেন না তারা দূরে রয়েছেন। তারা আমার আত্মার অনেক কাছে রয়েছেন। |
Monday, February 2, 2009
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment