দাউদ হায়দারের ‘জন্মই আমার আজন্ম পাপ’ কবিতাটি নিয়ে কিছু দিন আগে খুব হৈচৈ হয়ে গেছে। পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্টের পর থেকে এই কবিতাটির কথা রোজই আমার মনে পড়তো। না, কবিতাটির ভেতরকার কোনো পঙ্ক্তি বা শব্দও আমার মনে ছিল না। কবিতার নামটিই শুধু আমার স্মৃতিতে আমার সত্তায় বারবার হানা দিয়ে যেতো। আর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নানা সংশয় ও প্রত্যয় এবং আশঙ্কা ও আশ্বাসের দোলায় অবিরাম দোল খেতাম। আজও একুশ শতকের প্রথম দশকের শেষ প্রান্তে এসেও সেই দোল খাওয়া শেষ হয়নি। শেষ হবে কি কোনো দিন?
দাউদের কবিতাটি যখন লেখা হয়নি, কবিতার শীর্ষনামের এই শব্দগুলো আমার চেতনায় এমনভাবে বিন্যস্ত ছিল না যখন, তখন সেই পাকিস্তান আমলে একান্ত বাস্তব কারণেই আমার জন্মজনিত পাপে আমাকে প্রতিক্ষণ কুঁকড়ে থাকতে হতো। স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর সেই পাপ থেকে মুক্তি পেয়ে গেছি আমার মনে এমন দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে গিয়েছিল। কিন্তু ‘পনেরোই আগস্ট’ আমার সেই বিশ্বাসকে ভেঙে একেবারে খান খান করে দিয়ে গেল। প্রতি মুহূর্তেই কিছুটা প্রকাশ্যে এবং অনেকটাই আকারে ইঙ্গিতে, আমাকে মনে করিয়ে দেয়া হতে লাগলো : তুমি হিন্দু। কাজেই সম্ঝে চলো, বেশি বাড় বেড়ো না।
হ্যাঁ, আমি যে হিন্দু সেটা অবশ্যই মিথ্যা নয়, বরং একান্ত বাস্তব সত্য। কিন্তু সে তো আমার ইচ্ছানিরপেক্ষ বাস্তব। আমি তো ইচ্ছা করে হিন্দু পরিবারে জন্ম নিইনি, কিংবা জন্মের পর নিজের ইচ্ছায় হিন্দু হইনি। এই ইচ্ছানিরপেক্ষ হিন্দুত্বের জন্য আমার মনে কোনো গৌরববোধও নেই, গ্লানিও নেই। হিন্দু হওয়াটা আমার কোনো অপরাধও নয়, কৃতিত্বও নয়। একটি সভ্যরাষ্ট্রের নাগরিকরূপে আমার এই হিন্দু পরিচয় কি কোনো বিবেচনার বিষয় হতে পারে? পাকিস্তান নামক একটি অসভ্য রাষ্ট্রেই এমনটি হয়। বাংলাদেশে কেন এমন হবে? হিন্দু বলেই আমাকে সমঝে চলতে হবে কেন?
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের বায়াত্তরে রচিত ও গৃহীত সংবিধানের চারটি স্তম্ভের একটি ধর্মনিরপেক্ষতা। এই ধর্মনিরপেক্ষতাই বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সম্প�র্ণ বিপরীত অবস্খানে দাঁড় করিয়েছিল, বাংলাদেশ যে পাকিস্তানের থেকে সম্প�র্ণ স্বতন্ত্র একটি রাষ্ট্র সেকথা জানিয়ে দিয়েছিল। ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়েও বাংলাদেশ নামে একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বজায় থাকতে পারে, কিন্তু সে রাষ্ট্র রক্তের মূল্যে অর্জিত বাংলাদেশের মর্মসত্যকে ধারণ করতে পারে না। এক সময়ে যারা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়কে প্রতিরোধ করতে চেয়েছিল, বাস্তবে সেই রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পর সেটিকে তারা অনিচ্ছায় হলেও মেনে নিয়েছিল। কিন্তু সে রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে মেনে নেয়া তাদের জন্য ছিল খুবই অস্বস্তিকর। এখন তারা সেই অস্বস্তি থেকে মুক্ত। যদিও পনেরোই আগস্ট বা তারপরও বেশ কিছুদিন চার মূলনীতিসহ বাংলাদেশের আদি সংবিধানটি বহাল ছিল, তবু পাকিস্তনপন্থীরা সঠিকভাবেই বুঝে নিয়েছিল যে এই বহাল থাকাটা নিতান্তই আনুষ্ঠানিক, বাস্তবে মুজিব হত্যার সঙ্গে সঙ্গেই অন্তত ধর্মনিরপেক্ষতার আর অস্তিত্ব নেই। তাই প্রকাশ্যেই তারা সাম্প্রদায়িক বক্তব্য প্রচারের সাহস পেয়ে গিয়েছিল, পাকিস্তান আমলের মতোই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক ভাবতে শুরু করে দিয়েছিল। আর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিশেষ করে হিন্দুদের চৈতন্যে ও অনুভবেও পাকিস্তানি শাসনের দিনগুলোই ফিরে এল, সে সময়ের মতোই তারা নিজেদের গুটিয়ে নিতে বাধ্য হলো। জন্মই যে তাদের আজন্ম পাপ এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ প্রকাশের অধিকার থেকেও যেন তারা বঞ্চিত।
খোন্দকার মোশতাক এ-সময়ে খুব চতুরতার সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছিলেন। আগস্টের বিশ তারিখে এক ঘোষণা জারি করে তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ‘সামরিক আইন জারি সত্ত্বেও সংবিধান বহাল থাকবে; চারটি রাষ্ট্রনীতি (গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা) অটুট থাকবে; জাতীয় সংসদ বিলোপ করা হয়নি।’ এ-রকম ঘোষণা বহাল রেখেই দু’দিন পর (২২ আগস্ট, ১৯৭৫) পাকিস্তানের আইয়ুবি কায়দায় বিভিন্ন অপরাধের জন্য ‘প্রাণদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও চৌদ্দ বছরের কারাদণ্ড’ প্রদানের সামরিক বিধির নানা কথা জানিয়ে দিয়ে বলা হলো যে, ‘এ সব বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে; ট্রাইব্যুনালের রায় সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন উথাপন করা চলবে না, তবে বিশেষভাবে গঠিত আপীল ট্রাইব্যুনালে আপীল করা চলবে; আসামীর অনুপস্খিতিতে ট্রাইব্যুনাল বিচার করতে পারবে।’ ওই দিনেই বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকার খবরে জানা গেল যে, ‘সামরিক বাহিনীর মধ্যে মতবিরোধ চলছে; ক্যান্টনমেন্টে ট্রেঞ্চ খনন করা হচ্ছে’ এবং লন্ডন টাইমস, ডেইলি টেলিগ্রাফ, বিবিসি ও অন্যান্য সংবাদ সংস্খার বারোজন বিদেশি সাংবাদিককে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২২ আগস্টেই বাংলাদেশের এক সময়কার রাষ্ট্রপতি ও সে-সময়কার মোশতাক সরকারের অন্যতম মন্ত্রী আবু সাঈদ চৌধুরী জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য পেরুর রাজধানী লিমায় যাত্রা করলেন, আবার ওই দিনেই সামরিক আইনের অধীনে গ্রেফতার হলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, মনসুর আলী, আবদুস সামাদ, তাজউদ্দীন আহমদ, কোরবান আলী, শেখ আবদুল আজিজ, আবদুল কুদ্দুস মাখন, আবদুল মান্নান, আজহারুল হকসহ ছাব্বিশজন স্বাধীনতা সংগ্রামী রাজনীতিক নেতা। এর পর দিনই মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রধান সেনাপতি এমএজি ওসমানী নিযুক্ত হলেন খুনি রাষ্ট্রপতি মোশতাকের প্রধান উপদেষ্টা, বাকশাল নিয়ে মতানৈক্যের জন্য বঙ্গবুর মন্ত্রিসভা থেকে যিনি পদত্যাগ করেছিলেন। মোশতাকের উপদেষ্টা হয়ে ওসমানী তাঁকে কী উপদেশ দিয়েছিলেন, জানি না। তবে, আমরা দেখলাম : বেসামরিক রাষ্ট্রপতি মোশতাক তার সামরিক শাসনে পাকিস্তানি ঐতিহ্যেরই ঘনিষ্ঠ অনুসরণ করে চলেছেন। সে-সময়ে বাকশাল ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। মোশতাক এক অর্ডিন্যান্স জারি করে সেই বাকশাল বিলুপ্ত করে দিলেন, এবং কোনো রাজনৈতিক দল গঠন বা কোনো রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণও নিষিদ্ধ করে দিলেন।
প্রেসিডেন্টের গদিতে বসার দশ দিন পর, পঁচিশে আগস্ট, মোশতাক সাহেব ‘পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় আরম্ভ করার এবং উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আশা’ ব্যক্ত করে পাকিস্তানের ভুট্টোকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। একই দিনে ভারতের ইন্দিরা গাীর কাছে লেখা তাঁর চিঠিতেও বলেছিলেন যে, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বুত্ব, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তি অক্ষুণí রাখার জন্য দু’দেশের নিবিড় সহযোগিতাসহ কাজ করা উচিত।’ ইন্দিরা কয়েকদিন পরই এই চিঠির জবাবে ‘সার্বভৌমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা এবং সমতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা’ জানিয়ে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ-ভারতের এই পত্র বিনিময় ছিল বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের স্বাভাবিক আনুষ্ঠানিকতারই অংশ মাত্র। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটি তো তখন তেমন স্বাভাবিক ছিল না, তাই সে-সম্পর্ক স্খাপনের জন্য মোশতাক সরকারের ব্যগ্রতার তাৎপর্য ছিল অন্যরকম। মোশতাক অত্যন্ত সঠিকভাবেই এটিকে ‘এক নতুন অধ্যায় আরম্ভ করা’ রূপে দেখেছিলেন। পাকিস্তানের ভ�ত বাংলাদেশের ঘাড়ে ভর করার সেই অধ্যায়টি মুজিব-হত্যার মধ্য দিয়েই উন্মোচিত হয়ে গিয়েছিল, এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তার যবনিকা উন্মোচন করেছিলেন ভুট্টো সাহেবই। মুজিব হত্যার পরপরই খুনি মোশতাকের সরকারকে তড়িখড়ি স্বীকৃতি জানানো, এ-রকমই স্বীকৃতি ও সমর্থন দানের জন্য ইসলামি কনফারেন্সসহ অনেকগুলো রাষ্ট্রকে আহ্বান করা, এবং বিপুল পরিমাণে চাল ও কাপড় বাংলাদেশে পাঠানোর ঘোষণা দেয়া ভুট্টোর এসব পদক্ষেপ বা কর্মপ্রয়াসই সেই নতুন অধ্যায় শুরুর বার্তা বহন করেছিল। বাংলাদেশ ক্ষমতাদখলকারী নতুন সরকারের কাছে পাকিস্তানের এমন বার্তা ছিল একান্তই কা�িক্ষত। তাই সে-বার্তায় তড়িৎগতিতে সাড়া দিয়ে সে-সরকারটি নানা দমনমূলক সামরিক আইন বিধি জারি করতে থাকে, যাঁদের কাছ থেকে বিরোধিতা আসা সম্ভব তেমন নেতাদের গ্রেফতার করতে শুরু করে, এবং পূর্বতন সরকারের সময় গ্রেফতারকৃত পাকিস্তান সমর্থক নেতাদের মুক্ত করে দেয়। ক্ষমতা দখলের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই (১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫) প্রেসিডেন্টের সেক্রেটারিয়েট থেকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্খিতি সম্পর্কে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়।
এই শ্বেতপত্র প্রকাশের পরদিন এ সম্পর্কে তীক্ষ�ধী বুদ্ধিজীবী আবদুল হক তাঁর রোজনামচায় লিখেছিলেন
‘এতে বলা হয়েছে : পূর্বতন সরকার দেশে এক অর্থনৈতিক কোটারি ব্যবস্খার সৃষ্টি করেছিলেন এবং তার ফলে এক চরম অর্থনৈতিক অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছিল। শিল্প ও অন্যান্য ক্ষেত্রে উৎপাদন হন্সাস পেয়েছিল কোনো ক্ষেত্রেই ১৯৬৯-৭০ সালের পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেনি। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন দুরবস্খা সম্বে যে-সব কথা জানা ছিল সেই সবই একত্রে বলা হয়েছে অকার দিকটার কথা শুধু। অগ্রগতি কিছু হয়ে থাকলে তাকে ছোট করে দেখানো হয়েছে। মোটামুটি উদ্দেশ্য ছিল যেন এই বলা : (১) শেখ সাহেবের আমল খুব খারাপ ছিল; (২) এখন ভালো দিন এসেছে; (৩) পাকিস্তান আমল ভালো ছিল।’
বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ‘পাকিস্তান আমল ভালো ছিল’ বলে বলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যারা চোরাগোপ্তা আক্রমণ চালিয়ে আসছিল, পনেরোই আগস্টের পরবর্তী সরকারটি এখন তাদেরই পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠলো। এ রকম সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েই তারা বুক চিতিয়ে চলতে লাগলো, আর এরই বিপরীতে, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের ধারক সকলকে লুকিয়ে চুরিয়ে থেকে আত্মরক্ষার পথ খুঁজতে হলো।
বঙ্গবু হত্যার ঠিক এক মাস পর, ১৩ সেপ্টেম্বর, সে-সময়কার পরিস্খিতি সম্পর্কে আবদুল হক সাহেবের পর্যবেক্ষণ ছিল এ-রকম :
‘১৫ আগস্ট থেকে আজ একমাস। প্রেসিডেন্ট ভবন ও বেতার ভবন এখনও ট্যাঙ্কবেষ্টিত। কোনো মন্ত্রী অথবা প্রেসিডেন্ট এখনো জনতার সম্মুখীন হন নি। মাঝখানে চাল ইত্যাদির দাম কমেছিল। আগে থেকেই কমছিল, তবে ১৫ আগস্ট তারিখের ধাক্কায় বোধ হয় কিছু দ্রুত কমেছিল কিছুদিন। তারপর আবার বাড়তে আরম্ভ করেছে। চালের দাম প্রায় ১৪ আগস্টেরই সমান। চাল ও বিভিন্ন জিনিসের দাম কমেছে এমন কথা খবরের কাগজে আর লেখা হচ্ছে না। ১৫ আগস্টের ঘটনায় অবুঝ অজ্ঞ লোকদের মধ্যে যে খুশি খুশি ভাব দেখা গিয়েছিল এখন তা আর দেখা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে নানা রকমের গুজব, কখনো কখনো শোনা যাচ্ছে পাল্টা ঘটনার সম্ভাবনার কথা। এতদিনে মোটামুটি পরিষ্কার হয়েছে, ১৫ আগস্ট ঘটনা ঘটিয়েছিল কয়েকজন তরুণ অফিসার। তাদের পেছনে আছে আরও চার-পাঁচশ’ তরুণ অফিসার। যে কয়েকজন তরুণ অফিসার সব কিছুতে নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের মধ্যে আছে বরখাস্তকৃত অফিসার অতএব অভ্যুথানের পেছনে কাজ করেছে ব্যক্তিগত আক্রোশ। প্রধানত এই তরুণ অফিসাররা নীতিনির্ধারণ করে দিচ্ছে ঊর্ধ্বতন বাহিনী-নায়কদের কাছে। এই বাহিনী নায়কদের মন্ত্রিসভায় সেই নীতি সম্বে তদারক করেন এবং বেসামরিক মন্ত্রিসভা সেই সব নীতি অনুযায়ী কর্মপদ্ধতি উদ্ভাবন করেন অর্থাৎ আসল নায়কেরা সামনে তো নেই-ই, সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ স্খানেও নেই। সর্বোচ্চ স্খানীয় সামরিক ও অসামরিক ব্যক্তিবর্গ এভাবে কতদিন চালাবেন অথবা চালাতে পারবেন অথবা চালাতে চাইবেন?
বিশিষ্ট নেতৃবর্গ অথবা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এমপিবৃন্দ যে পদ্ধতিতে ক্ষমতা গ্রহণ করা হয়েছে তা সমর্থন করে অথবা বর্তমান সরকারকে সমর্থন করে বিবৃতি দেন নি। অধ্যাপকবৃন্দ ও বুদ্ধিজীবীরাও নীরব। কোনো রকম মতবাদী বিশিষ্ট লেখকবৃন্দ ও বর্তমান সরকারের সমর্থনে নিবাদি লেখেন নি।’
এটিকে একটি বস্তুনিষ্ট পর্যবেক্ষণ রূপেই আমরা গ্রহণ করতে পারি। তবে ‘অভ্যুথানের পেছনে কাজ করেছে ব্যক্তিগত আক্রোশ’ তাৎক্ষণিকভাবে সে-সময়ে অনেকের কাছেই এ-রকম মনে হলেও, পরে প্রমাণিত হয়েছে যে বিষয়টি মোটেই এত সরল ছিল না। পনেরোই আগস্টের চরম প্রতিক্রিয়াশীল অভ্যুথানটির শেকড় ছিল অনেক গভীরে প্রোথিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রুদের গভীর ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনার সার্থক বাস্তবায়নই ঘটে এর মধ্যে দিয়ে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment