আওয়ামীদের কবিতার বিরুদ্ধে অবস্থান....কবিতা নিষিদ্ধ/আবু জুবায়ের
অত্যন্ত দুঃখ,কষ্ট এবং ভারাক্রান্ত হ্নদয়ে এই লেখাটি লিখতে হচ্ছে।বাংলাদেশের অন্যতম কবি আবু করিমের একটি কাব্য গ্রন্থ নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।শুধু মাত্র তাই না তার বইএর প্রকাশনা সংস্থা “সূচীপত্র”এর মেলায় থাকা স্টলও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।পত্রিকাতে এই রিপোর্ট যেভাবে এসেছে-মেলার নীতিমালা লঙ্ঘন করে বই বিক্রির দায়ে একাডেমী কর্তৃপক্ষ শুক্রবার সূচীপত্রের স্টলে বই বিক্রি বন্ধ করে দেয়। এই স্টলে কবি আবু করিমের ‘বাগানে ফুটে আছে অসংখ্য গোলাপ’ বইটি বিক্রি করার প্রতিবাদে সন্ধ্যা ৬টায় একাডেমীর তথ্য কেন্দ্রের সামনে লেখক-কবি-সাহিত্যিকদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। লেখকরা আবু করিমের এই বই প্রকাশ করা এবং একাডেমীতে বিক্রি করার দায়ে সূচীপত্রের স্টল বন্ধ করে দেয়ার জন্য একাডেমী কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারক লিপি দেয়। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে সাড়ে ৬টার দিকে কর্তৃপক্ষ ওই স্টলে বই বিক্রি বন্ধ করে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে স্টলের সামনে সাদা পর্দা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। পুলিশ এসে স্টলে পাহারা বসায়। তথ্য কেন্দ্রের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই বইতে আবু করিম একটি কবিতায় বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের অবমাননা করেছেন। তারা লেখকেরও শাস্তি দাবি করেন। এতে রবীন্দ্রগোপ, শিল্পী বাবু রহমান, প্রত্যয় জসীম, আয়াতআলী পাটোয়ারি, দিলদার হোসেন, হানিফ খান, এম আর মঞ্জু প্রমুখ বক্তৃতা করেন।লেখার এই পর্যায়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং ধিক্কার জানাই।গনতন্ত্রের মানেই হচ্ছে তার সুবিধামতো মত প্রকাশ।একটা কবিতার যে এতো শক্তি তা আবার প্রমান হয়ে গেলো।কবি আবু করিম হয়ত তার লেখাকে ব্যাখ্যা করবেন।সে হয়ত সরকারের দ্বায়িত্বশীল অবস্থানে থাকার দরুন কবিতার মর্মাথটা পালটে দিতে পারেন।কিন্তু বিষয়টি সেখানে না ।কবিতার বইকে নিষিদ্ধ করবার এই যে অপপ্রয়াশ আমরা দেখলাম সেটা কিন্তু ভাল না।মেলাতে আমি মাঝে মাঝেই গেছি।আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কিছু অপরিচ্ছন্ন ব্যক্তিদের লম্ফ ঝম্ফ(হারুনুর রশিদের -মূর্খদের আস্ফালন)আমরা খেয়াল করেছি।মূলত ধান্দাবাজির জন্য সরকারের মনোযোগ আকর্ষন করাই তাদের কাজ।ব্যক্তিত্বহীন এই সমস্ত লেখক পরিচয়বাহী লোক গুলো ফালতু ইস্যূ তৈরী করে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারলো।আবু করিমের লেখা হয়তো ব্যপকভাবে পাঠকের কাছে পৌছাতো না এখন মেলায় এসে সাধারন পাঠককে আমি তার বই খুজঁতে দেখেছি।এতে কি হলো শেখ মুজিব সম্পর্কে মানুষের জানার আগ্রহ বেড়ে গেলো।জামাল-কামাল কে ছিলো এখন সবাই জানতে চায়।চলচ্চিত্র জগতে কাটপিসের জনক হিসাবে খ্যাত রবীন্দ্র গোপেরা কি সর্বনাশ করল নিজেদের সেটা বুঝতে হয়তো সময় নেবে।আবু করিমের পক্ষে সাফাই গাচ্ছি না।আমার পুরো বিষয়টা কবিতার জন্য।একটি কবিতার জন্য।আমি একটি কবিতা আন্দোলনের কথা এখানে বলতে চাই।যেটা আমাদের ভাষা সাহিত্যের মাইলফলক হয়ে থাকবে।বাংলা সাহিত্যে স্হিতাবস্হা ভাঙার আওআজ তুলে, ইশতাহার প্রকাশের মাধ্যমে, শিল্প ও সাহিত্যের যে একমাত্র আন্দোলন হয়েছে, তার নাম হাংরি আন্দোলন, যাকে অনেকে বলেন হাংরিয়ালিস্ট, ক্ষুধিত, ক্ষুৎকাতর, ক্ষুধার্ত আন্দোলন । আর্তি বা কাতরতা শব্দগুলো মতাদশর্টিকে সঠিক তুলে ধরতে পারবে না বলে, আন্দোলনকারীরা শেশাবধি হাংরি শব্দটি গ্রহণ করেন । হাংরি আন্দোলন, এই শব্দবন্ধটি বাংলাভাষায় ঠিক সেভাবে প্রবেশ করেছে যে ভাবে মুসলিম লিগ, কম্ম্যুনিস্ট পার্টি বা কংগ্রেস দল ইত্যাদি সংকরায়িত শব্দবন্ধগুলো । উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে ডিসকোর্সের সংকরায়ণকে স্বীকৃতি দেয়া তাঁদের কর্মকাণ্ডের অংশ ছিল । ১৯৬১ সালের নভেম্বরে পাটনা শহর থেকে একটি ইশতাহার প্রকাশের মাধ্যমে হাংরি আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিলেন সমীর রায়চৌধুরী, মলয় রায়চৌধুরী, শক্তি চট্টোপাধ্যায় এবং হারাধন ধাড়া ওরফে দেবী রায় ।হাংরি আন্দোলনকারীরা হাংরি শব্দটি আহরণ করেছিলেন ইংরেজি ভাষার কবি জিওফ্রে চসারের ইন দি সাওয়ার হাংরি টাইম বাক্যটি থেকে , অর্থাৎ দেশভাগোত্তর বাঙালির কালখণ্ডটিকে তাঁরা হাংরিরূপে চিহ্ণিত করতে চাইলেন । তাত্তিক ভিত্তি সংগ্রহ করা হয়েছিল সমাজতাত্ত্বিক অসওয়াল্ড স্পেংলারের দি ডিক্লাইন অব দি ওয়েস্ট গ্রন্হটির দর্শন থেকে । স্পেংলার বলেছিলেন, একটি সংস্কৃতি কেবল সরলরেখা বরাবর যায় না; তা একযোগে বিভিন্ন দিকে প্রসারিত হয় । তা হল জৈবপ্রক্রিয়া, এবং সেকারণে সমাজটির নানা অংশের কার কোনদিকে বাঁকবদল ঘটবে তা আগাম বলা যায় না । যখন কেবল নিজের সৃজনক্ষমতার ওপর নির্ভর করে, তখন সংস্কৃতিটি বিকশিত ও সমৃদ্ধ হয় । তার সৃজনক্ষমতা ফুরিয়ে গেলে, তা বাইরে থেকে যা পায় ত-ই আত্মসাৎ করতে থাকে, খেতে থাকে, তার ক্ষুধা তখন তৃপ্তিহীন । হাংরি আন্দোলনকারীদের মনে হয়েছিল দেশভাগের ফলে ও পরে পশ্চিমবঙ্গ এই ভয়ংকর অবসানের মুখে পড়েছে, এবং উনিশ শতকের মণীষীদের পর্যায়ের বাঙালির আবির্ভাব আর সম্ভব নয় । সেকারণে হাংরি আন্দোলনকে তাঁরা বললেন কাউন্টার কালচারাল আন্দোলন, এবং নিজেদের সাহিত্যকৃতিকে কাউন্টার ডিসকোর্স।তাঁরা বললেন, "ইউরোপের শিল্প-সাহিত্য আন্দোলনগুলো সংঘটিত হয়েছিল একরৈখিক ইতিহাসের ধারণার বনেদের ওপর; কল্লোল বা কৃত্তিবাস গোষ্ঠী যে নবায়ন এনেছিলেন সে কাজগুলো ছিল কলোনিয়াল ইসথেটিক রিয়্যালিটি বা ঔপনিবেশিক বাস্তবতার চৌহদ্দির মধ্যে, কেন না সেগুলো ছিল যুক্তিগ্রন্হনা-নির্ভর, এবং তাঁদের মনোবীজে অনুমিত ছিল যে ব্যক্তিপ্রতিস্বের চেতনা ব্যাপারটি একক, নিটোল ও সমন্বিত ।" তঁরা বললেন, "এই ভাবকল্পের প্রধান গলদ হল যে তার সন্দর্ভগুলো নিজেদেরকে পূর্বপুরুষদের তুলনায় উন্নত মনে করে, এবং স্হানিকতেকে ও অনুস্তরীয় আস্ফালনকে অবহেলা করে । ওই ভাবকল্পে যে বীজ লুকিয়ে থাকে, তা যৌথতাকে বিপন্ন আর বিমূর্ত করার মাধ্যমে যে-মননর্স্তাস তৈরি করে, তার দরুন প্রজ্ঞাকে যেহেতু কৌমনিরপেক্ষ ব্যক্তিলক্ষণ হিসাবে প্রতিষ্ঠা দেয়া হয়, সমাজের সুফল আত্মসাৎ করার প্রবণতায় ব্যক্তিদের মাঝে ইতিহাসগত স্হানাঙ্ক নির্ণয়ের হুড়োহুড়ি পড়ে যায় । গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ব্যক্তিক তত্ত্বসৌধ নির্মাণ । ঠিক এই কারণেই, ইউরেপীয় শিল্প-সাহিত্য আন্দোলনগুলো খতিয়ে দেখলে দেখা যায় যে ব্যক্তিপ্রজ্ঞার আধিপত্যের দামামায় সমাজের কান ফেটে এমন রক্তাক্ত যে সমাজের পাত্তাই নেই কোনো । কৃত্তিবাস গোষ্ঠীর দিকে তাকালে দেখা যাবে যে পুঁজিবলবান প্রাতিষ্ঠানিকতার দাপটে এবং প্রতিযোগী ব্যক্তিবাদের লালনে শতভিষা গোষ্ঠী যেন অস্তিত্বহীন । এমনকি কৃত্তিবাস গোষ্ঠিও সীমিত হয়ে গেছে মাত্র কয়েকজন মেধাসত্তবাধিকারীর নামে । পক্ষান্তরে, ঔপনিবেশিক ননগদনতন্ত্রের আগেকার প্রাকঔপনিবেশিক ডিসকোর্সের কথা ভাবা হয়, তাহলে দেখা যায় যে পদাবলী সাহিত্য নামক ম্যাক্রো পরিসরে সংকুলান ঘটেছে বৈষ্ণব ও শাক্ত কাজ, মঙ্গলকাব্য নামক পরিসরে সংকুলান ঘটেছে মনসা, চণ্ডী, শিব, কালিকা বা ধর্মঠাকুরের মাইক্রো-পরিসর । লক্ষ্মণিয় যে প্রাকৌপনিবেশিক কালখণ্ডে সন্দর্ভ গুরুত্ত্বপূর্ণ ছিল, তার রচয়িতা নয় ।(কবিতার ইতিহাস ও আন্দোলন থেকে নেয়া)।
এই আন্দলন ছিলো প্রচলিত আন্দোলনের বাইরে গড়া একটি প্লাটফর্ম।মনে রাখতে হবে কবিতাকে কেউ আটকিয়ে রাখতে পারিনি ,পারবেনা।এই বারের মেলাতে যে পরিমান প্রকাশনা এসেছে তার নব্বই শতাংশই বই নামের আবর্জনা।সুস্থ সমাজ গঠনে যে বিষয় সংক্রান্ত বই আসা প্রয়োজন ছিলো সে প্রকারের বই বেশি দেখা যাইনি।ভবিষতে এই পথ আরো বন্ধুর হয়ে গেলো এই ঘটনা ঘটে যাবার পর।কবিতা যতবার আক্রান্ত হয়েছে এটা আক্রমন কারির বিপক্ষে গেছে।মেলাতে তাসলিমা নাসরিনের মত পর্ণো লেখিকার নামে স্টল হতে পারে।বাংলাদেশী জাতির মহানায়ক জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বাজে বই লিখে এই জাতির সম্মান নষ্ট করবার চেষ্টা করা হচ্ছে সেই ব্যাপারে মেলা কতৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করে নাই।এটা অগ্রহনযোগ্য।মেলাতে সাহিত্যের নামে যে ধরনের ভন্ডামি হচ্ছে তার নেতৃত্বে কিছু গো-দালাল গোত্রীয় আসলাম,গোপ,দিলদার,জসিম,নিপু (যাদের নাম মেলা থেকে শুনতে পেরেছি) এরা লেখককুঞ্জে বসে টেন্ডারবাজির মত লেখকদেরকে আওয়ামী লীগের হাওয়া দিচ্ছে।এই সমস্ত কিছু বন্ধ না করা হলে এই সরকার সমস্যায় পরে যাবে।বাংলা একাডেমীর চত্বরের পরিবেশ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে।কবি আবু করিম সরকারি চাকুরে কৌশলগত ভাবে তিনি এখন কবিতার মানে সাময়িক ভাবে পাল্টে দিতে পারেন।তিনিতো জানেন কেন তিনি কবিতাটি লিখেছেন।সূচীপত্রের স্টল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।যে অজুহাতে বন্ধ করা হয়েছে সেটা পালন করলে পুরো মেলা বন্ধ করে দেয়া সবচেয়ে ভালো কাজ।হাংরি আন্দোলনের মত এমন একটা সাহিত্য আন্দোলন গড়ে উঠলে সামলানো সমস্যা হবে।যাইহোক ভাল থাকুন আবু করিম ,ভাল থাকুক কবিতা।আমরা চাইনা আপনার মত দক্ষ আমলা বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলুক।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment