Thursday, February 5, 2009

কামালের ১০২ কোটি, আইএসআই'র ২শ কোটি, এরশাদের টাকার বস্তা

কামালের ১০২ কোটি, আইএসআই'র ২শ কোটি, এরশাদের টাকার বস্তা

পীর হাবিবুর রহমান : বিশেষ সংবাদদাতা, দৈনিক যুগান্তর:

কারাবন্দি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি আদালতে বলেছেন ড. কামাল হোসেন ১০২ কোটি টাকা সাদা করেছেন। জানতে চেয়েছেন এই টাকার উৎস কোথায়? পরে আদালতে সাংবাদিকদের সংশোধনী দিলেও সাংবাদিকরা আমাকে বলেছেন, হাসিনা অভিযোগ করেছিলেন। অন্যদিকে কলহপ্রিয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতি শেখ হাসিনার দুর্বলতা জেনেও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ড. কামাল বলেছেন, ১০০ কোটি টাকা তিনি দেখেননি। এতে কতটা শূন্য বসাতে হয় তাও জানা নেই। আর শেখ হাসিনা তার মেয়ের মতো মনত্দব্য করে বিনয়ের সঙ্গে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ষাটের দশকে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তরুণ ও মেধাবী আইনজীবী ড. কামাল হোসেনকে বুকভরা ভালবাসা দিয়ে দলে নিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কন্যাই শুধু নন, আওয়ামী লীগের মতো ৫৮ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী দলেরও প্রধান। বঙ্গবন্ধু যে ড. কামাল হোসেনকে সম্মান দিয়ে দলে এনেছিলেন, হাসিনা সে কামাল হোসেনকে অসম্মান করে তাড়িয়ে দেন। তারপরও ড. কামালের প্রতি তার এত আক্রোশ কেন? কামাল কি তবে পরিবারতন্ত্রের অবসান চান। তিনি তো দীর্ঘদিন থেকে লড়ছেন রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, কালো টাকা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। অসুস্থ রাজনীতি কামাল হোসেনের গুরুতর শত্রু। মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে ড. কামাল আপসহীন। রাজনৈতিক দল গঠনে তার ব্যর্থতা থাকতে পারে। কবিতার রাজপুত্র কবি শামসুর রাহমান আমার চেয়ে শেখ হাসিনার অতি ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কবি জীবিতকালে বলেছেন, হাসিনা বাবার কোনো গুণই পাননি। রাজনীতির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর পুত্রস্নেহ আর গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সংসদীয় রাজনীতির আলোয় আলোকিত হয়েছিলেন আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। রাষ্ট্র পরিচালনায় বঙ্গবন্ধুর নানা ব্যর্থতা থাকলেও রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে নজির তিনি তৈরি করেছিলেন তার পরবর্তীতে আর কেউ দেখাতে পারেননি। তার সাগরের মতো বিশাল হৃদয় ছিল বলেই সবুর খান, শাহ আজিজুর রহমানের মতো লোকজন মুক্তি পান। অনেক রাজনীতিবিদ ভিন্নমতের হলেও তারা আর্থিক সহযোগিতা পান। সবাই এক বাক্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু অন্য দলই হোক আর নিজের দলের নেতাকর্মীই হোক সবাইকে সম্মান করে বড় হতেন। আর তার কন্যা শেখ হাসিনা অন্যকে অসম্মান করতে গিয়ে নিজে ছোট হন। ৯০ সালে এরশাদের পতনের পর '৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করছে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হবেন_ সব চূড়ানত্দ হলে চরম পরাজয় ঘটলো ভোট গণনায়। যে বিএনপির দল ছিল না, হাসিনার মতো খালেদা জিয়ার এত সমর্থক ছিল না_ সেই বিএনপি ক্ষমতায় এলো। খালেদা জিয়া হলেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা স্বভাবসুলভ কায়দায় সবসময় খালেদা জিয়াকে অশিক্ষিত বলতে ছাড়তেন না। অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করীর মতো তার শাসনামলে খালেদা জিয়ার এসএসসির মার্কশিট পর্যনত্দ সভায় প্রকাশ করলেন। '৮৬ সালে যারা জাতীয় নির্বাচনে যাবে তারা হবে জাতীয় বেইমান এমন কথা বলে দেশবাসীকে চমকে দিয়ে নিজেই নির্বাচনে যোগ দিলেন। তার আচরণে দিনে দিনে খালেদা জিয়ার ইমেজ হাসিনাকে কখন যে অতিক্রম করেছে তা তিনি নিজেই বুঝতে পারেননি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আত্দসমালোচনা, আত্দশুদ্ধির চেষ্টা করেছেন বলে মনেও হয় না। বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদকে অপমান করার নজির শেখ হাসিনার দ্বারাই সম্ভব হয়েছে। তাকে চার্লি চ্যাপলিন বলেও তিনি ব্যঙ্গ করতেন। একদিন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের লালমাটিয়ার বাসভবনে গেলে হাসিনার আচরণে তিনি যে কতটা ব্যথিত তা উপলব্ধি করেছিলাম। নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস রাজনীতিতে আসার উদ্যোগ নিলে শেখ হাসিনা তাকে সুদখোর বানিয়ে দেন। '৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর শত নির্যাতন ষড়যন্ত্রের মুখে মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন আব্দুল মোমেন ও আব্দুল মান্নান। হাসিনা তাদের দল থেকে বের করেননি। তারা দলের প্রেসিডিয়ামে ছিলেন। দলের হয়ে রাজপথের সংগ্রাম করেছেন। দল ক্ষমতায় গেলে প্রবীণ এই দুই নেতাকে মন্ত্রিসভায় নেয়া দূরের কথা তাদের মৃতু্যতে ফুলের তোড়া নিয়ে শেষ বিদায় জানাতেও যাননি। একবিংশ শতাব্দীর এই রাজনীতির দোড়গোড়ায় শেখ হাসিনা যে নেলসন ম্যান্ডেলাকে সংবর্ধনা দেয়ার গর্ববোধ করেন সেই ম্যান্ডেলা তার বাড়িতে আক্রমণকারী রাজনৈতিক শত্রুটিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। ভারতে রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির আসামির দণ্ড মওকুফ করেছেন সোনিয়া। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তো জেলে গিয়েই তার সঙ্গে কথা বলেছেন। এতটা উদার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি শেখ হাসিনার কাছে প্রত্যাশা করা যায় না। তবে তিনি যদি বিনয়ী হন, কলহের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসেন, অপরকে সম্মান দেয়ার প্রচেষ্টা বাড়ান, নতুন প্রজন্ম অনেক কিছু শিখতে পারবে। ইতিহাস বলে, বঙ্গবন্ধু যা বলতেন তা বিশ্বাস করতেন আর তা করেই ছাড়তেন। তার কন্যা শেখ হাসিনা যা বলেন তা বিশ্বাস করেন না, তা করেনও না। লালদীঘির ময়দানে নির্বাচন বয়কট করে নারায়ণগঞ্জের জনসভায় নির্বাচনের অংশগ্রহণের ঘোষণা তিনি দিতে পারেন। তিনি সংসদে জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিএনপির ভোটে বিভক্তি আনতে। ২৩ দফার অসাম্প্রদায়িক অঙ্গীকার করে তিনি আব্দুল জলিলকে দিয়ে খেলাফত মজলিসের সঙ্গে ৫ দফা চুক্তি করেছিলেন। এমনকি ২২ জানুয়ারির নির্বাচন হবে না জেনেও তার রাখাল বালকদের দিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন। শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার মতো তার পুত্রকেও রাজনীতির উত্তরাধিকার বানাতে গিয়ে দলকে নিজের মতো সাজিয়েছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর তার সুধা সদনের কর্মচারী সাবেক অর্থমন্ত্রী (পরে গ্রেনেড হামলায় নিহত) শাহ এএসএম কিবরিয়াকে অপমান করেছিল। যে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী লন্ডন থেকে হাসিনার জন্য লিখছেন সেই গাফ্ফার চৌধুরী '৯৭ সালে এসে হাসিনার কাছ থেকে চায়ের দাওয়াতও পাননি। '৯৯ সালে লন্ডনে টয়েনবি হলে হাসিনা তার সঙ্গে কুশলবিনিময় করেননি। ৭৫ সালের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছিল আব্দুর রাজ্জাককে মধ্যমণি করে। রাজ্জাকের মধুর ব্যবহার, অসাধারণ সাংগঠনিক শক্তিতে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়ায়। '৮১ সালে শেখ হাসিনা ঐক্যের প্রতীক হয়ে এলেও দলের ভাঙন তীব্র হয়। আব্দুর রাজ্জাক বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন। আর দলের ভেতর হোঁচট খায় গণতন্ত্র। '৮৩ সালে রাজ্জাক বাঘের গর্জন দিয়ে বের হলেও '৯২ সালে ফিরে এলে তাকে ডানা ঝাপটাতেও দেয়া হয়নি। কথায় কথায় 'বাকশাল' দলের গালি হয়। অন্যদিকে সারাদেশে দলে শেখ হাসিনার নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিসত্দারে নেমেছিলেন আমির হোসেন আমু। এরশাদ জমানায় ১৫ দলের সভায় তাকে বলাই হতো মি. ডিসিশন। আমু তখন ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান মনসুরকে নিয়ে ৬৪ জেলায় সংগঠন করেন। মোহাম্মদ নাসিমও ছিলেন আমুর সঙ্গী। '৯১ সলের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা একদিকে পরাজয়ের দায় নিয়ে পদত্যাগ নাটক করলেও অন্যদিকে নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়েছে ড. কামালের এই মনত্দব্য গ্রহণ করেননি। ওই সময় মিন্টো রোডে দলের পরাজয়ের কারণ চিহ্নিত করে যৌথ মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধানত্দ গ্রহণের দাবিতে ড. কামাল হোসেন বর্ধিত সভায় দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন। সেদিনই ড. কামালের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। ৯৩ সালের কাউন্সিলে ড. কামালকে প্রেসিডিয়ামে না রেখে উপদেষ্টামণ্ডলীতে রাখা হয়। ড. কামাল গণফোরাম গঠন করে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগের যে চিঠি পাঠান তা ছিল বিনয়ী, মার্জিত রুচির একজন উদার গণতন্ত্রী চরিত্রের পরিচয়। ড. কামাল কোনো দিন হাসিনাকে আক্রমণ করে কোনো মনত্দব্য না করলেও শেখ হাসিনা তাকে ছাড়েননি। '৯৩ সালে ড. কামাল হোসেন বেরিয়ে যাওয়ার পর দলীয় গণতন্ত্রের শেষ কফিনে পেরেক ঠুুকে দেয়া হয়। ছাত্রলীগ সম্মেলনে সগীর আনোয়ার আহমদ হোসেন গণতন্ত্রে বিজয়ী হলেও রায় উল্টে যায়। এদিকে ভারতে পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর মৃতু্যর পর কংগ্রেসে তার কন্যা ইন্দিরা গান্ধীর প্রভাব বিসত্দারে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন নেহেরুর বন্ধু কংগ্রেস নেতা কে কামরাজ। ইন্দিরা যেমন ক্ষমতা ও দল হাতের মুঠোয় পেয়ে কামরাজকে ছুড়ে ফেলে দেন তেমনি হাসিনা দল হাতের মুঠোয় পেয়ে আমুকে দেয়া ওয়াদা তো রাখেনইনি বরং তাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেন। তার সঙ্গে শেখ হাসিনা রাজ্জাক, তোফায়েল, সুরঞ্জিতকে অপমান করতে কখনো দ্বিধা করেননি। এরশাদ পতনের নেপথ্যে সাহসী ভূমিকা রাখার কারণে বাদল হত্যার অজুহাতে মোসত্দফা মহসীন মন্টুকে দল থেকে বের করে দেয়া হয়। রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু যে কারণে রাজনৈতিক সচিব করেন '৬৯-র নায়ক তোফায়েলকে শেখ হাসিনা সেখানে তাকে ভাবেন অবিশ্বসত্দ মিত্র। আর ডাকসু তারকা সুলতান- মান্নার মতো সুদর্শন, সুযোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাদের বদলে বিত্তশালী সাবের চৌধুরীকে করেন রাজনৈতিক সচিব। ঢাকার নায়ক মোহাম্মদ হানিফের আত্দা কেন কাঁদে? কেন আবুল হাসান চৌধুরীর মতো লোক চলে যায়, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকী বীরোত্তমের মতো সাহসী যোদ্ধা, ফজলুর রহমানের মতো মেধাবী বক্তাকে দল ছাড়তে হয়। বঙ্গবন্ধু যেখানে সৈয়দ নজরুল, তাজউদ্দিন, মোশতাক, মনসুর আলী, কামরুজ্জামানকে নিয়ে সিদ্ধানত্দ নিতেন। বসতেন মণি, সিরাজুল আলম খান, রাজ্জাক, তোফায়েলকে নিয়ে_ হাসিনা সেখানে সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে কাজী জাফর উল্লাহ, সালমান, সাবের, আবুল হোসেন আর তার কচিকাঁচার আসর নিয়ে সিদ্ধানত্দ নিতেন। হাসিনার থিংক ট্যাংকে ফারুক চৌধুরী, আবুল মাল আবদুল মুহিত কতটা ভূমিকা রাখেন তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তবে হাসিনার নাবালক থিংক ট্যাংক দিয়ে খেলাঘর বা কচিকাঁচার আসর করা যায়, আওয়ামী লীগের মতো প্রবীণ রাজনৈতিক দলের ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব নয়। হাসিনা কান পাতলে শুনতে পেতেন এখনও উন্মাদনায় থাকা তার লাখ লাখ কর্মী কী বলে তা তিনি জানেন না। তাদের মনের কথা জানার সুযোগ তার নেই। তবে তিনি যেমন তথ্য ছাড়া বলেন, অমুক ১০২ কোটি কালো টাকা সাদা করেছে, অমুকের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে বাজেয়াপ্ত হয়েছে তখন তার কাছেও বাজারে প্রচলিত প্রশ্ন জানতে ইচ্ছে করে, সত্যি কি ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সালমানরা আইএসআই'র কাছ থেকে ২শ কোটি টাকা গ্রহণ করেছিল তার পক্ষ হয়ে? সত্যি কি এরশাদের '৮৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হাসিনা বসত্দাভর্তি টাকা নিয়েছিলেন? যে যাই বলুক, দলের ত্যাগী কর্মীরাও জানে হাসিনার শত্রু তার মুখ। যদিও তার তোষামোদকারীরা বলেন, ওটাই তার শক্তি। সমালোচকদের ভাষায়, মুখের কারণে খালেদাকে মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন হাসিনা। এমনকি খালেদার আগে তিনি নিজে গ্রেফতার হলেন। সামনের নির্বাচনের পথে দুর্নীতিবাজ বিএনপি যত সুবিধায়, আওয়ামী লীগ ততই অসুবিধায়। হাসিনা দলকে নয়, তিনি দেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ দুটি পরিবারের হাতে থাকুক এটাই চেয়েছেন। কিন্তু পরিবারতন্ত্র থাকলে গণতন্ত্র ভূমিষ্ঠই হবে না। ব্রিটিশ রাজতন্ত্র যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আলো দেয়, ছায়া দেয় - আমাদের দেশে পরিবারতন্ত্র গণতন্ত্রকে ভূমিষ্ঠ হতে দেয় না। বারবার সুযোগ এলেও অকাল গর্ভপাত ঘটায়। ২৭ ও ২৪ বছরের রাজনৈতিক ব্যর্থতা কাঁধে নিয়ে হাসিনা-খালেদা যদি রাজনীতি থেকে অবসর নেন তাহলে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হতে পারে। ওয়ান ইলেভেনের স্বপ্নও সফল হবে। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে তাদের পুত্ররা যদি নিজ যোগ্যতায় রাজনীতিতে উঠে আসতে পারেন তাতে কেউ দ্বিমত করবে না। আমাদের দুই নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারতেন। তারা নেননি বলেই এত বিপর্যয় আর ক্রানত্দিকাল অতিক্রম করছে বাংলাদেশ। ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত প্রিয় স্বদেশ দুটি পরিবারের ইচ্ছায় চলতে পারে না।

মে ১১, ২০০৮

No comments: