একুশের উচ্চারণ যেনো আমাদের বর্ণমালা,শব্দ গঠন এবং ভাষা ব্যবহারের শিষ্টাচারের উপর নির্ভর করে।এদেশের মানুষের কাব্যিক মানসিক প্রকাশ অন্য জাতিস্বত্ত্বা থেকে আলদা করেছে।মনের ভাব প্রকাশ,প্রকাশ্য অনুভূতি জ্ঞাপন,ভাষা ব্যবহার শৈলির মাধুর্যতা এই সমস্ত বিষয়গুলো নিয়ে এই জাতির গর্বের শেষ নেই।মত প্রকাশের ভাষা জ্ঞান একটি নান্দনিক বিষয় হিসাবে শিল্পগুন বহন করে।বাংলা ভাষার যা ইচ্ছে ব্যবিহার আমদের কে আজ শঙ্কিত করে তুলছে।ভাষায় রাজনৈতিক প্রভাব,রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার,বাক্য চয়নে অশ্লিল রুপ আমদেরকে ভাবিয়ে তুলছে।তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে আমরা বাংলাভাষাকে আরও বেশি প্রমুক্ত করতে পারছি বিশ্বের দরবারে।আমাদের ভাষার মার্জিত অনুশীলন জাতি হিসাবে ভদ্রতার মাপকাঠি তৈরি করে দেয়।কম্পিউটারে বাংলা লেখা বাংলা ভাষা চর্চায় নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে।বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তির কল্যানে আমরা ইন্টারনেট ব্রাঊজিং,চ্যাট,নিজের ব্লগ তৈরি করে তাতে নিজের চিন্তাশীল,সৃজনশীল লেখাগুলো রাখা,ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ ইত্যাদি।নিজের মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্লগ সম্প্রতি সময়ে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।বাংলাদেশেও কয়েক বছরে এর ব্যবহার কারির সংখ্যাও কম না।তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলবার জন্য আমরা যারা তথ্য প্রযুক্তি আন্দোলন হিসাবে বিষয়টিকে দেখতাম তারা সবায় এই ধরনের বিকাশে আনন্দিত হবার কথা।লেখার এই পর্যায়ে ব্লগ সম্পর্কে আমি একটা ধারনা দেবার চেস্টা করছি।ইন্টারনেট জগতে 'ব্লগ' এর বয়স দশ পার হয়েছে। ‘Blog’ শব্দটির আবির্ভাব ‘Weblog’ থেকে। ওয়েবলগ শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করা হয় দশ বছর আগে ১৯৯৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর। শব্দটির স্রষ্টা মার্কিন নাগরিক জন বার্জার। এর ঠিক দু’বছর পর ১৯৯৯ সালের এপ্রিল এবং মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে পিটার মহোলজ নামে এক ব্যাক্তি weblog শব্দটিকে ভেঙ্গে দু’ভাগ করেন- ‘We Blog’। এর পরই সারাবিশ্বব্যাপী ব্লগ জনপ্রিয় হতে শুরু করে। তবে মাঝামাঝি সময়ে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে। অনলাইনে দিনলিপি লেখার সুবিধা নিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘ওপেন ডায়েরি’ যা ছিলো অনেকটা এখনকার ব্লগের মতোই।পৃথিবীর দেশে দেশে আজ বিভিন্ন ধরণের ক্যাম্পেইন (মানবাধিকার, পরিবেশবাদী, রাজনৈতিক) ও গণসচেতনতা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ব্লগগুলো। যেমন ইরাকে এখন প্রকৃত অর্থে কী ঘটছে এবং তার প্রভাব কী পড়ছে জনজীবনে তা জানতে সাধারণ ইরাকিদের লেখা ব্লগগুলো পড়লে জীবনযাপনের যে নিবিড় অন্তর্দৃষ্টি লাভ করা যায়, তা আর কিছুতেই পাওয়া যায় না। সাউন্ড, বাইট, এডিটিং, আর মালিকস্বার্থের অধীন করপোরেট মিডিয়াতে তো নয়ই। পাঠক হিসেবে সেখানকার ব্লগ লেখকদের আমরা সরাসরি আমাদের মনের কথাটা, প্রশ্নটা পৌঁছেও দিতে পারছি। পারছি সংহতি কিংবা সহানুভূতির বার্তা পৌঁছে দিতে তাদের এমন সংকটের দিনে। সাম্প্রতিককালে, যতদূর শুনেছি মার্কিন সিনেটর বারাক ওবামার ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্সিয়াল নমিনেশন ক্যাম্পেইনে ব্লগ ছিল প্রধান অস্ত্রগুলোর একটি এভাবে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন অসংখ্য ব্লগ লেখক, সময়ের প্রয়োজনেই। সুতরাং ব্লগ হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ আলোচনার স্পেসগুলো কেমন হবে তার একটি অগ্রিম নমুনা।মত প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে এই দীর্ঘ দশ বছরে ব্লগ আমাদের জীবনযাত্রায় এনেছে নতুন মাত্রা।একেকজন একেক উদ্দেশ্যে ব্লগ লেখেন। আমার সবসময় মনে হয়েছে তার অন্যতম হলো চলমান কিছু বিতর্কের বিষয় যা মনে ঘুরপাক খাচ্ছে তাকে নির্দিষ্ট আবদ্ধ গণ্ডির বাইরে টেনে এনে সকলের আলোকপাতের জন্য মুক্ত এক পরিবেশে উপস্থাপন করা। কিন্তু এর সবই যে মুক্ত আলোচনার জরুরি উপাদান, তা বোধহয় অস্বীকার করার জো নেই।বাংলাদেশে যে সমস্ত ব্লগ সাইটগুলো আছে সেগুলোর একটা তালিকা এখানে আমি উল্ল্যেখ করতে চাই-
বাঁধ ভাঙার আওয়াজ,সচলায়তন - বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম,এভারগ্রীন বাংলা ব্লগ - বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম,প্যাঁচালী - বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম,বাংলা ব্লগস্ - বাংলা ব্লগ ডাইরেক্টরী
বাংলা ইউনিকোড ব্লগ - বাংলা ব্লগ এগ্রেগেটর এছাড়া আরো কিছু ব্লগ আসে যেখানে যে কেউ একাউন্ট খুলে যা খুশি তাই লিখতে পারে এবং এটা সারা পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের মানুষ পড়তে পারবে।ব্লগে একাউন্ট খুলতে কোনো টাকা লাগেনা বলে সবায় এখন ব্লগিং এর দিকে ঝুকছে।বাংলাদেশে ব্লগ সাইট গুলো একটা কমিউনিটি তৈরি করে তারপর সেটা ব্যবহার করার জন্য উন্মুক্ত করে।এই ব্লগ সাইট গুলো সরাসরি একটা নিদ্রিষ্ট দল এবং গনমত তৈরিতে কাজ করে।এই ব্লগ গুলোতে যারা আওয়ামী লীগের সামান্য সমালোচনা করলেই তাকে ব্লগ একাউন্ট থেকে বের করে দেওয়া হয়।বাংলাদেশের ইতিহাসকে মিথ্যাভাবে তুলে ধরে তরুন সমাজকে মটিভেটেড করে বা কৌশলে আকৃষ্ঠ করে।আমার একটা ব্লগ ছিলো somewherein..blog নামে একটা বাংলা ওয়েব সাইটে যারা নিজেদের বাঁধ ভাঙার আওয়াজ বলে জাহির করে।সেখানে সম্প্রতি দিনকালে প্রকাশিত একটা লেখা আমি রাখি।সঙ্গে সঙ্গে আমাকে ব্যান করা হয়।আমি তখন তাদের সাথে যোগাযোগ করবার চেষ্টা করি।একজন নন-বাঙ্গলির সাথে আমার কথা হয়।আমি জানতে চাই আমাকে কেন ব্যান করা হলো।সে জেটা বলার চেষ্টা করলো আমার লেখাতে অন্য সমাজের মানুষ আঘাত প্রাপ্ত হতে পারে।ঠিক আছে মেনে নিলাম।কিন্তু আমি তার কাছে জানতে চাইলাম বি এন পি কিংবা অন্য কোন দলের বা মতের বিরুদ্ধে কিছু লিখলে সেগুলো ডিলিট করেন না কেনো।সে কোনো উত্তর দিতে পারলো না।পাঠক এদের ব্লগটি দেখে বুঝতে পারবেন বিষয়টি কি।তারমানে ইন্টারনেটেও বাক স্বাধীনতার প্রশ্ন যদি আনি তবে সেটা ভুলে যেতে হবে।ডিজিতাল সন্ত্রাসের মাধ্যমে এদেশকে খন্ডিত করার সাহস কিভাবে এরা দেখায় আমি সেটা বুঝতে পারিনা।ইন্টারনেটে যে সমস্ত বাংলা ব্লগ আছে তার একটা পুর্ণাংগ তালিকা প্রকাশ করা জরুরী।এই সমস্ত ব্লগ গুলোর মালিক এবং তাদের সাংঠনিক পরিচয় কি সেটা এদেশের মানুষ জানতে চায়।বর্তমান যুগ ইন্টারনেটের যুগ।এখনকার প্রজন্ম সুধুমাত্র এদের দেয়া তথ্যগুলোকেই সত্যি মনে করছে।গত দুই বছর এরা বাংলাদেশে নানা ধরনের প্রপাগান্ডা চালিয়েছে।এছাড়া আরো কিছু বিষয় সরকার সহ সবাইকে ভাবতে হবে সেটা হলো,
ক।বাংলা ব্লগ পরিচালনা করার সু-নিদ্রিষ্ট নীতিমালা।
খ।ব্লগ ব্যাবহারকারীদের প্রকৃত পরিচয়।কোন ছদ্দ নাম ব্যবহার করলেও আসল নাম উল্ল্যেখ থাকতে হবে।
গ।ব্লগার ট্রাকিং সিস্টেম চালু করতে হবে।
ঘ।কোন সাংগঠনিক উদ্দ্যেশ্যে এটা ব্যবহার করা যায় কিনা এটা ভেবে দেখতে হবে।
ঙ।এই সমস্ত ব্লগ কোন প্রচারনার জন্য ব্যবহার করা নিষিধ করতে হবে।
চ।বাংলাদেশের জাতীয় নানা তথ্য এর মাধ্যমে পাচার হয়ে যাবার একটা সম্ভাবনা আছে সেটার ব্যপারে সচেতন থাকতে হবে।
বর্তমানে ব্লগগুলো আওয়ামী লীগের প্রচার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।সারা পৃথিবীতে ব্লগ যেমন জনপ্রিয় ঠিক তেমনি এর খারাপ ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ব্যবস্থা গ্রহন করেছে।
সিঙ্গাপুরে কিছুদিন আগে মুসলিম বিরোধী প্রপাগান্ডা করার জন্য জেলে পাঠান হয়েছিল একজন চাইনিজকে ।আরেকটি ঘতনা হোলো মিশরে একজন নিজের মত করে সে দেশের ইতিহাস লিখতে গিয়ে ধরা পড়ে।আরেকটি বিষয় ইসলাম বিরোধী প্রচারনার জন্য তাকেও জেলে পাঠান হয়।Jan Pronk নামের এক ইউ এন প্রতিনিধিকে সে দেশ ত্যাগ করতে মাত্র তিন দিন সময় দেয়া হয় এর কারন ছিল সে দেশ সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করেছিলো।আর আমাদের দেশে এই ধরনের মন্তব্য করলে বাহাবা দেয়া হয়।যাহোক সচেতন মহল বিষয়টি চিন্তা করে দেখবেন।
ব্লগ গুলোকে এখনি নিয়ন্ত্রন করতে হবে।যদি সব ব্লগ প্রভাইডার রা ডিজিটাল আওয়ামী লীগারদের হয়ে থাকে তাহলে অন্যান্য মতাদর্শের সমাজকে এই রকম ব্লগ কমুনিটি খোলার জন্য অনুরোধ থাকলো।এই সমস্ত ব্লগ গুল নিজেরদেরকে কিভাবে নিরপেক্ষ হিসাবে জাহির করে সেটা আমি বুঝতে পারিনা।
আবু জুবায়ের
০১১-৯৮০১৬০৮২
No comments:
Post a Comment