Sunday, February 8, 2009

্রানজিট ও টিফা চুক্তি কখনোই দেশের জন্য কল্যাণকর হবে না

০ বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা

০ ফারাক্কা তিন বিঘা করিডোর জলসীমানাসহ

গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো বাদ দিয়ে ট্রানজিট চুক্তি

করা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ

।। ইত্তেফাক রিপোর্ট ।।

ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টিফা চুক্তির বিরোধিতা করে বিভিন্ন সংগঠন গতকাল রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। পৃথক সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ফারাক্কা, তিন বিঘা করিডোর, জলসীমানা পুনঃনির্ধারণসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো বাদ দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তি করা হবে বাংলাদেশের স্বার্থ পরিপন্থী। যা এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। দেশের জনগণ বারবার প্রত্যাখ্যান করলেও টিফা চুক্তি স্বাক্ষরে এ সরকারের তড়িঘড়ি কর্মকাণ্ড দূরভিসন্ধিমূলক মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। এছাড়া টিফা চুক্তি যে দেশের স্বার্থ পরিপন্থী তা অনেক আগেই প্রমাণিত হয়েছে। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে টিফা স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিলেও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবী এবং আপামর জনসাধারণের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সে পথ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত আয়তনের বিশালত্ব ও ক্ষমতার দাপটে কখনোই বাংলাদেশের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেয়নি। বারবার বাংলাদেশের দাবিগুলো তাদের কাছে উপেক্ষিত হয়েছে। ফারাক্কায় বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার বিস্তীর্ণ জমি চাষাবাদের অযোগ্য করে তুলেছে। নদী শাসন করে এদেশের নদ-নদীগুলো পানিশূন্য করে ফেলেছে।

বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখলেও ভারত এ ব্যাপারে বরাবরই উদাসীন মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে। তাই ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তি করার আগে চুক্তির খসড়া প্রকাশ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

ঢাকার মুক্তাঙ্গনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রগতিশীল ছাত্র জোট গতকাল শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। এছাড়া বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় বিপ্লবী ফ্রন্ট, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক ঐক্য, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, জাতীয় গণতান্ত্রিক মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন ট্রানজিট ও টিফা চুক্তি স্বাক্ষরের বিরোধিতা করে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে। মুক্তাঙ্গনের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মনজুরুল আহসান খান। সিপিবি ঢাকা কমিটির সভাপতি আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট আনোয়ার হোসেন, মাকসুদা আক্তার লাইলী ও আলতাফ হোসাইন। সিপিবি সভাপতি বলেন, দেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তির উদ্যোগ নেয়া হলে জনগণকে সাথে নিয়ে তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, বিদেশীদের স্বার্থের কাছে নিজেদেরকে বিকিয়ে দেয়ার জন্য ত্রিশ লাখ শহীদের জীবনের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়নি।

টিফা ও ট্রানজিট চুক্তির উদ্যোগের বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক সংঘের সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইবাদুল হক বাদল, কৃষক সংঘের আহবায়ক মল্লিক সুলতান আহমদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডাঃ এমএ করিম, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, গণতান্ত্রিক গণমোর্চার আহবায়ক শিবলী কাইয়ুম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম। নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি সম্পাদন থেকে সরকারকে এখনই ফিরে আসতে হবে। কারণ জনগণের বিপুল রায় নিয়ে আসা এ সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক।

Friday, February 6, 2009

নির্বাচন কমিশন এখন কী জবাব দেবে?

নির্বাচন কমিশন এখন কী জবাব দেবে?
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
গত ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যা ঘটেছিল অনেকটা নিভৃতে, সুপরিকল্পিত আয়োজনে। ২২ জানুয়ারির উপজেলা নির্বাচনে তা ঘটল একেবারে প্রকাশ্যে। ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জিতিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ২২ জানুয়ারির উপজেলা নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। কোথাও কোথাও ছিল একেবারে ফাঁকা। ভোট কেন্দ্র দখল করে বসেছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তারা বোমা মেরেছে, ব্যালট ও ব্যালট বাক্স ছিনতাই করেছে। প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালিয়েছে, প্রতিপক্ষের এজেন্টদের মেরে বের করে দিয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসারদের মারধর করেছে। শাসক দলের মন্ত্রী-এমপিরা কেন্দ্রে বসে থেকে প্রভাব বিস্তার করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ভরেছে। হামলা, সংঘর্ষ, সহিংসতা ও পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন কয়েক শ’ লোক। ছয়টি উপজেলা ও শতাধিক ভোট কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ৪৭৫টি উপজেলার ৩০০টিতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসন আরো বাড়তে পারে।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশ-বিডিআর-সেনাবাহিনী-আনসার সবই মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু তার কোনো কিছুতেই কোনো ফল হয়নি। ১৯৭৩ সালের কায়দায় সবই ছিনিয়ে নিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ। উপজেলা নির্বাচনে জবরদস্তি করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ কোনো রাখঢাক করেনি। প্রকাশ্যেই ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার ছিনতাই করেছে। প্রকাশ্যেই তাতে সিল মেরেছে। প্রকাশ্যেই তা ব্যালট বাক্সে ঢুকিয়েছে। আবার কোথাও কোথাও সরকারি কর্মকর্তা পোলিং অফিসাররাই আওয়ামী প্রার্থীর পক্ষে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরেছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮৭ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে তাকে সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন সদস্যরা অনেক বগল বাজিয়েছেন। সেটাকে যৌক্তিক প্রমাণের জন্য তারা নানা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন এবং তখন দাবি করেছিলেন যে, উপজেলা নির্বাচনে ১০০ ভাগ ভোট পড়বে। আমরা তখনই প্রমাদ গুনেছিলাম। কল্পনা করে শিহরিত হয়েছিলাম যে, উপজেলা নির্বাচনে তাহলে কী মাত্রায় কারচুপির আশ্রয় নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। কিন্তু নির্বাচনে কারচুপি, জালিয়াতি, ব্যালট ডাকাতি এ পর্যায়ে হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন ১০০ ভাগ ভোটের হিসাব মেলাতে পারেনি। উপজেলা নির্বাচনে ৫০-৬০ ভাগ ভোটারও ভোট দিতে আসেননি।

কেন তারা এলেন না? কারণ তারা দেখেছেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা যাদের ভোট দিয়েছিলেন, তারা কেউ বিজয়ী হয়ে আসতে পারেননি। বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে অন্য কাউকে। নির্বাচনের অবধারিত ফলাফল আগে থেকেই আন্দাজ করে তারা সিদ্ধান্তে উপনীত হন, ভোট দিয়ে কোনো লাভ নেই। উপরন্তু প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ কর্মীরা যে হাঙ্গামা-হামলার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল তাতে ভোট তো দূরের কথা জীবনের নিরাপত্তাই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোট কম পড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘নির্বাচনে দেশের কিছু কিছু জায়গায়, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, ব্যালট পেপার ছিনতাই, ভোটদানে বাধা ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। যে পরিমাণ ভোটারের উপস্থিতি আশা করেছিলাম তেমনটা হয়নি। আমরা ভোটারদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিলাম। তার পরও কেন ভোটাররা ভোট দিতে আসেননি তা অনুসান করা হবে। তারা কি উপজেলা নির্বাচন সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে নাকি কেউ তাদের ভোট দিতে আসতে বাধা দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।’ তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসছে। আমরা এটাই আশা করেছিলাম। মন্ত্রী-এমপিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করবে এমনটা আশা করিনি। একটি উপজেলায় একজন মন্ত্রী ভোট কেন্দ্রে গিয়ে বসে ছিলেন। মন্ত্রীরা যাতে নির্বাচনী এলাকায় না যান, সে জন্য আমরা সরকারকে চিঠিও দিলাম। অথচ মন্ত্রী গিয়ে ভোট কেন্দ্রে বসে থেকে অসুবিধার সৃষ্টি করেছেন। আর এক উপজেলায় একজন এমপি নির্বাচন কর্মকর্তাদের মারধরও করেছেন। তারা সরকারি পদে থেকে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ ও প্রভাব বিস্তার করেছেন।’ নির্বাচনে কম ভোট পড়ার কথা স্বীকার করে সিইসি বলেন, ‘আগের দু’টি উপজেলা নির্বাচনেও ভোটের হার কম ছিল।’
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমি আদৌ সন্তুষ্ট নই। আমাদের প্রত্যাশা ছিল আরো অনেক বেশি।’ তিনি বলেন, ‘যেসব বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেছে তার সবই করেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় করতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অপর নির্বাচন কমিশনার মোঃ ছহুল হুসেইন সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার দারুণ এক তত্ত্ব শোনালেন। তিনি বললেন, আগের দু’টি উপজেলা নির্বাচনে যেহেতু ভোট কম পড়েছিল, তাই এবারের নির্বাচনে ভোট কম পড়াটা যৌক্তিক। তা-ই যদি হয়, তাহলে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮৭ ভাগ ভোট পড়ার যৌক্তিকতা কোথায়? ৮০টিরও বেশি আসনে ৯০-৯৫ ভাগ ভোট পড়ার যৌক্তিকতা কোথায়? আর ১০০-১০৫ শতাংশ ভোট পড়ার যৌক্তিকতা বিষয়ে না হয় প্রশ্ন না-ই তুললাম। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যখন ব্যালট পেপার রাস্তাঘাটে কুড়িয়ে পাওয়া যেতে থাকল তখনো ভোটের কারচুপি জালিয়াতি ধামাচাপা দেয়ার জন্য এবং যারা ব্যালট কুড়িয়ে পেল নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে মামলা দায়ের করতে শুরু করল। কমিশন যদি তখন দোষীদের ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করত তাহলে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না। নির্বাচন কমিশনের লাই পেয়ে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা এতটা বেপরোয়া হয়ে ওঠার সাহস পেল। শুধু কর্মী-সমর্থকরা নয়, তাদের সাথে যোগ দিলো আওয়ামী সমর্থক নির্বাচনী কর্মকর্তারাও। আড়াইহাজারের মারুজাদী স্কুল কেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের পক্ষে ব্যালট পেপারে সিল মারছিল। বেলা দেড়টায় সেখানে সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে ব্যালট বাক্স ও সিল মারা ব্যালট বই রেখেই সেখানকার নির্বাচনী কর্মকর্তারা সটকে পড়েন। এমনি এক ন্যক্কারজনক পরিস্থিতিতে উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। একেবারে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন।
এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া চিরাচরিত। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ দাবি করেছেন ৯৯ ভাগ এলাকায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় কাজ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে বিশেষ কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা আমরা পাইনি। তবে কোথাও যদি আইন ভঙ্গ হয়ে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনে সঙ্ঘাত পরিহারের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তিনি উপজেলা নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় তার দলের লোকদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। নির্দলীয় নির্বাচনে দলীয় হাঙ্গামার প্রশ্নই ওঠে না। সারাদেশে বড় ধরনের সহিংসতার কোনো খবর আমরা পাইনি। এই ছিল মোটামুটি উপজেলা নির্বাচনের চিত্র। সৈয়দ আশরাফ একবার বলেছেন, উন্নত বিশ্বে জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় নির্বাচনেই ভোট বেশি পড়ে। আবার বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে ৩০-৩৫ শতাংশ ভোটারই ভোট দিয়ে থাকেন।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র পনেরো দিনের মাথায় আওয়ামী লীগ প্রশাসনকে দলীয়করণ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দলীয়করণ, ছাত্রাবাসগুলো থেকে প্রতিপক্ষের ছাত্রদের বিতাড়ন প্রভৃতি যে ধারার সূচনা করেছে, তা থেকে বাদ পড়েনি উপজেলাগুলোও। ধারণা করা হয়েছিল, জাতীয় সংসদ সদস্যরা আইন প্রণয়নের কাজে নিয়োজিত থাকবেন। আর উপজেলা চেয়ারম্যানরা এলাকার উন্নয়ন কাজে মনোনিবেশ করবেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অধ্যাদেশ জারি করে এ ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ইতোমধ্যে জানান দিয়েছেন, উপজেলার কর্মকাণ্ড তত্ত্বাবধান করবেন স্থানীয় এমপিরা। কারণ তারাও ওই এলাকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। সে ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদগুলোর কাজ সীমিতই থাকবে।

২২ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাচন আরো একবার প্রমাণ করল, এই নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠানেরই ক্ষমতা রাখে না। সে যোগ্যতাও তাদের নেই। সে সদিচ্ছারও তারা প্রমাণ দিতে পারেনি। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের, হাঙ্গামা রোধে, জালিয়াতি-কারচুপি ব েতারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। বরং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেভাবে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করেছিল, একইভাবে উপজেলা নির্বাচনেও তাদের বিজয় নিশ্চিত করেছে। এই নির্বাচন কমিশনের তবু কি গদি আঁকড়ে বসে থাকতে হবে?
লেখকঃ সাংবাদিক, চেয়ারম্যান, সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড মিডিয়া
ই-মেইলঃ rezwansiddique@yahoo.com