কবিতার নাম "সিরাজ সিকদার" / আবু জুবায়ের(আপগ্রেড)
লিখেছেনঃ আবু জুবায়ের (তারিখঃ রবিবার, ০৬/১২/২০০৯ - ০৮:৩৬)
এই বিরাণ তল্লাটে খেটে খাওয়া কিছু মানুষের আবাস ছিলো
সূর্য অস্ত যাবার সাথে সাথে ঘুম রাজ্য সরব হতো
পশ্চিমের আকাশ যখন ক্লান্ত তখন কিছু শব্দ কর্ণে প্রবেশ করতে থাকে
মিচমিচে অন্ধকারের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনার তীব্র রশ্মী দেখতে পাওয়া গেলো
ক্লান্ত শ্রান্ত কিনবা অচল গোত্রীয় কাষ্ঠ হাসি তল্লাটের মানুষের মুখে তখন
পরাজিত হবার শংকা না থাকলেও জয় ছিনিয়ে নেবার সম্ভাবনা দেখে দিচ্ছে
প্রশ্বাসে দাবিয়ে রেখেছে নাসিকা রন্ধের উভয় খাইবার পাস
অচল প্রায় চক্ষুতে পূর্ব আকাশের প্রথম প্রভাতের লাল সূর্য
বিপুল সম্ভাবনার মস্তিস্ক অতিচুলের ভারে অবনমিত
কাব্য ছন্দের মাঝে ভালোবাসা বাড়ন্ত,বিদ্রুপ প্রক্সি দিতে থাকে
প্রতিটি শব্দের গঠনে একেকটি প্রশ্বাসের যাতনা সন্তানের পিতৃ পরিচয় নষ্ট করতে থাকে
দৃষ্টিতে,সৃষ্টিতে,বৃষ্টিতে এবং কৃষ্টিতে তখন মধুমেহ রোগের প্রকোপ
জাতির হাঁটার উপযুক্ত সময়ে নিদ্রাসহ বিশ্রাম শরীরে ক্ষয় হানে
আমদানী কৃত ইন্সুলিন ব্যর্থ হতে থাকে রোগ নিবারনে
তবে নিরাময় কবি বলে---“না হাটিলে এই রোগের কোন আরোগ্য নাই”।
তবুও জাতি হাটলো না,সৃষ্টি হলোনা নতুন কোন প্রনোদনা
তৈরি হলো না গ্লুকোজ ভেঙ্গে শক্তি উৎপাদনের শারিরিক কৌশল
প্রকৃতি বিরুপ হতে থাকলো,শরীর অসাড় এবং ভাঙ্গনশীল
স্মৃতি শক্তি অস্পষ্ট হতে থাকে ,নির্জীব হয় দেহের প্রধান অংগ সমূহ
এই ক্ষত বিক্ষত জাতির শরীরে হাঁতুরে শৈল্য চিকিৎসকের ব্যবসা চলছিলো
উপায়হীন জাতি মাঝে মাঝে বিরক্ত হলেও কোন উপায় ছিলো না
উপায় ছিলো না বললে ভুল হবে
উপায় থাকতে দেয়া হয় নি
উপায় থাকতে দেয়া হয়নি বললে ভুল হবে
উপায় সৃষ্টি করতে দেয়া হয়নি
উপায় সৃষ্টি করতে হয়নি বললে ভুল হবে
উপায়হীনতা সুবিধা প্রাপ্তি হিসাবে দেখেছিলো হাতুড়ে শৈল্য চিকিৎসক।
উদ্ভ্রান্ত চিন্তার নবান্ন তখন ঘরে ঘরে সৃজনশীল
চারিদিকে ক্ষিপ্ত কিছু মানুষের উদ্দ্যেশ্যহীন লুটপাট
শ্রেণীতে শ্রেণীতে অদ্ভুত কিছু জীবের চীরস্থায়ী বন্দোবস্ত
শ্বাস কষ্টের রোগীটি শেষ বারের মত আকাশ দেখতে চেয়েছিলো
ভেঙ্গে পড়া সমাজ অত্যাচারি রুপ কথার দৈত্যের কথা স্মরণ করতে থাকে
দৈত্যকে ইশ্বর মেনে সমাজ শ্রেনীর মানুষরা জড় বস্তু হয়ে ছিলো।
মুখে চোখ আছে,নাক আছে,ঠোট আছে,চোখের পাপড়ি আছে
কিছু কিছু কথা ছিলো,
কিন্তু যেই জিনিসটা ছিলো না সেটা হলো-ভাত
যেই জিনিসটা ছিলো না সেটা হলো-অধিকার
যেই জিনিসটা ছিলো না সেটা হলো-স্বনির্ভরতা
যেই জিনিসটা ছিলো না সেটা হলো-সার্বভৌমত্ব
যেই জিনিসটা ছিলো না সেটা হলো-স্বাধীকার
যেই জিনিসটা ছিলো না সেটা হলো-স্বাধীনতা
আর পরাধীনতায় মানূষদের কি কখনও মানূষ বলা যাবে?
মানূষ তার অস্তিত্বের প্রতিকগুলো হারিয়ে কুকুরের সাথে ভাত খেলো।
আসুন এবার ভাবতে বসি
আমরা......।
জাতি হিসাবে কুকুর বড় না মানূষ বড়
আসুন এইবার এই নিয়ে লড়াই করি
আসুন এইবার বড়াই করি
কুকুরের গায়ে মানূষের ঘ্রাণ
মানূষ নিম্ন কুকুর মহান।
মানুষের মুখের খাবার কেড়ে নিলো কুকুর
যেনো কুকুর “আশরাফুল মাখলুকাত”।
কুকুরের রাজ্য প্রস্ফুটিত হতে থাকে ঐরাবতের ক্লান্ত শরীরের মত
একিয়ে বেকিয়ে,ইনিয়ে বিনিয়ে,কলা গাছ খাওয়া হাতি।
হাতিশালে হাতি ছিলো,ঘোড়া শালে ঘোড়া,কুমির শালে কুমির ছিলো
সব কিছু মিথ্যা প্রমানিত করে নতুন করে নাজিল হলো তারা
কুকুরাজ্যের প্রধান ঘোষনা দিলেন-
রাজা হলেও আমি,প্রজা হলেও আমি
আমি সব,আমি ইশ্বর,আমি অফুরন্ত,আমি আজীবন
আমি স্রষ্টা,আমি জনক,শুনতে হবে আমার ধমক “খামোশ”
আমি ঝঞ্জা আমি অগ্নি,পুড়িয়ে চলি বাপ মা ভাই ভগ্নি
আমার চোখে দারুন খেলা,আমি গ্রাস করি বেলা
আমি রুদ্র।আমি বিনাষ করি ক্ষুদ্র
আমার বাহুতে দ্রাবিড়ের শক্তি, মনে অশোকের ভক্তি
আমি সেইদিন হবো ক্ষান্ত যবে সকল কিছু হবে আমার রপ্ত
সেদিন আমার কথা আকাশে বাতাসে ধ্বনিতে থাকিবে
বলিতে থাকিবে কথা
এবারের সংগ্রাম আমার ক্ষমতার সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম আমার শোষনের সংগ্রাম
সেই থেকে পরাধীনতা শব্দটি আমাদের হয়ে গেলো।
অধিকার,স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব,স্বনির্ভরতা এবং দেশ প্রেম
এই শব্দগুলো প্রতিটি পশ্চিম বাংলার বাংলা অভিধান থেকে লেখা হতে থাকে
বাক্য চয়ন করতে কোথাও ত্রুটি হলো কিনা
বাক্য নিনিময়ে উচ্চারণে বাংলা ভাষা সবল হলো কিনা
বাক্য নিক্ষেপ ক্ষুরধার সম্পন্ন হয়েছে কিনা।
বার বার মিলিয়ে নিচ্ছিলো তারা পাছে ভুল না হয়ে যায়।
স্রোত কিভাবে থেমে যায় সেটা জাতিকে অনুভব করাতে পরিকল্পনা শুরু হয়
তাদের কেউ কেউ মনে করেছিলো বাংলাদেশিরা আর উট একই জাতি গোষ্ঠি
এদের মধ্যে অনেক সমার্থকতা আছে,উটের বেশি পানি লাগে না
অন্যদিকে বেচে থাকার জন্য মানুষেরতো বেশি পানি দরকার নাই।
দরকার নাইতো দরকার নাই,কেউ বুঝলো কি বুঝলো না সেটা কোন বিষয় না,
ফরমান জারি হয়েছে কর্তা বইলে দিয়েছে ,তাছাড়া কর্তার কর্তা আদেশ দিয়েছে।
তাই কিছু করার নাই
কিছু বলার নাই
কিছু বুঝার নাই।
জানার নাই।
এদেশের মানুষকে কিছু জানতে হবে না।
“জানার কোন শেষ নাই জানার চেষ্ঠা বৃথা তাই,
আর বলিতে হইবে দৈত্য রাজা ভগবান”
এর পর শুরু হলো দৈত্যরাজা আর রাজার রানীর উটরাজ্য বানানোর পরিকল্পনা
নির্মান শুরু হলো উট বিকাশ কেন্দ্রের চুড়ান্ত কাজ
অতি আনন্দের সাথে,সৌহার্দপূর্ন পরিবেশে পানিকে “জলে” পরিণত করা শুরু হলো
বিপুল উৎসাহ দেখা দিলো সব কয়টি কলাগাছের মালিকদের মধ্যে
বিপুল উৎসাহ দেখা দিল এন্টার্টিকার পেঙ্গুইনদের মধ্যে।
তারা বলতে শুরু করলো পানি নাই তাতে কি জলতো আছে
আর জলতো পবিত্র স্বত্তা,যা পবিত্র হয়ে যায় সেটা নিয়ে কথা বলা যায় না।
জল নিয়ে কথা বলা বারণ আছে,পবিত্র চুক্তিগ্রন্থে সেটা বলা আছে!
এই তল্লাটে পবিত্র চুক্তিগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয় বাৎসরিকভাবে
ওরস মোবারকে হাজেরানেদের জন্য বিশেষ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়।
অন্যদিকে কয়েকদিন না খেতে পারার জন্য এক নিতান্ত সুবোধ বালক চিল্লায়ে উঠলো
“ভাত দে হারাম জাদা নইলে মানচিত্র খাবো”
এইকথা শুনে দৈত্যরাজা খালি হাসতে থাকলো
তার সভাসদদের ডেকে সে তার হাসির কথা শুনালো।
“এই দেখ শালা... এরা কোন দিন মানুষ হবে না
পেটে ক্ষিদা ব্যাটা মরে যা...তা না করে এখন বলে মানচিত্র খাবে
ওকে কয়েকটা মানচিত্র দে কোনটা খাবে দেখ......
জয় আমি।“
ব্যস সভা শেষ।
এবার আরেক সমস্যা আরেক আবাল বালক চিল্লায়ে উঠলো
“ধরা যাবেন ছোঁয়া যাবেনা বলা যাবে না কথা রক্ত দিয়ে পেলাম শালার মরার স্বাধীনতা”
এইবার দৈত্যরাজা আবার সভা ডাকলো-
“একি হচ্ছে দেশে...স্বাধীনতা নিয়ে সমস্যাতে ভুগছে সবায়
এবার থেকে স্বাধীনতাই রাখব নাতো দেশে”
এই বলাতে সবাই ফেলে হেসে
সভা থেকে একজনতো ভেগে গেলো কেশে।
বলা হলো শিশ্ন যাদের আছে কাটা হবে দিবালোকের আলোয়
শিশ্নধারিদের খুঁজে খুঁজে বের করার ফরমান হলো জারি।
এরপর আবার ঘোষনা হলো,”এই দেশে শিশ্ন থাকতে পারবে না
সাবধান হুশিয়ার,১৫ মিনিটে নোটিশ লেখা হলো”
এই দেশে শিশ্ন বিকাশ ঘটানো যাবে না,এখানে শিশ্ন উত্থিত করা যাবে না
তোমাদের যাহাদের এই বিষয়টি আছে তাহারা এটা কেবল সংসারের প্রয়োজনে এস্তেমাল করো
এখন থেকে এই ফরমানের মাধ্যমে মস্তিস্কের শিশ্ন বিকাশকে নিষিদ্ধ করা হইলো”
দৈত্য রাজা কারো সংবাদ শুনতে নারাজ
নিজেই সংবাদ শিরনাম,ঘটনার শিরোমনী
আর তার আশে পাশের সহযোগী দেহ হতে থাকে ধনী।
ধীরে ধীরে গোপনে গোপনে ঘরে ঘরে নজরুলের সংকল্প কবিতা পাঠ হতে থাকে।
সুভাষ মুখোপ্যাধ্যায়ের “ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত জাগ্রত দ্বারে”
সবার ফুলের অপেক্ষায় থাকার জন্য বসন্তকে বিলীণ করতে দিতে রাজ়ী নয়
ফুলের অপেক্ষায় না থেকে দৈত্য রাজার বসন্ত নাশ চলতে থাকে।
সংগ্রাম, অসহযোগ,প্রতিবাদ,বাকশাল,স্বৈরাচার,শাসক,শোষন,অত্যাচার অবিচার,শ্রেনী বৈষম্য,লুটপাট,হত্যা,ধর্ষণ,আক্রমন,পৈশাচিকতা,দালালী,ইত্যাদি শব্দ নিয়ে
এইদেশে বাংলা নিয়ে নতুন করে বাংলা অভিধান লেখা শুরু হয়
সেই অভিধানের নাম দেয়া হয় “সিরাজ সিকদার”।
সেখান থেকে সকল নিষ্পেষন,নির্যাতন,বঞ্জনার বানান বা শব্দার্থ দেখে নেয়া যাচ্ছিলো।
পানিহীন উটরাজ্যে দেখা দিয়েছিলো কিছুটা বৃষ্টির আয়োজন।
প্রকাশিত অভিধান পছন্দ হলো না দৈত্যরাজার, শুরু করে দিলো অভিধান পোড়ানো অভিযান।
আয়োজন চলছিলো,বিপ্লব চলছিলো,সঙ্ঘ তৈরি হচ্ছিলো।
আর অন্য দিকে
পরোয়ানা জারী হলো
অনেক অনেক কথা হলো
দ্যাশটা হলো ধ্বংশ
ধনী কেবল দৈত্য রাজার বংশ।
এই সেই বিপ্লবী সিরাজ সিকদার যার হাতের শক্তি বাংলাদেশের মানুষের হাতে শক্তি আনলো
এই বিপ্লবির মাথার চুল বাংলার মানূষকে ছায়া দিতে থাকলো
এই বিপ্লবীর মগজের গঠন প্রতিটি যুবকের মগজকে আকার দিলো
এই বিপ্লবীর অনবরত সম্মুখ যাত্রা পথের দু'পাশকে আলোড়িত করলো
এই বিপ্লবী যার তর্জনী এবং বৃদ্ধা আঙ্গুলে চেপে থাকা কলম
কবি হতে শেখালো এদেশের মানুষকে।
এই বিপ্লবি যার চোখের দৃষ্টি বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে পশ্চিমে,পূর্বে,উত্তরে,দক্ষিনে
প্রসারিত হয়ে যাচ্ছিলো,
এই বিপ্লবী যার পদভার দৈত্য রাজার বুকে আঘাত হানে
সেই বিপ্লবী,সেই বাঙ্গালী,সেই বাংলাদেশি ।।যার একমাত্র নাম “সিরাজ সিকদার”।।
(ক্রমশ)

এই বিরাণ তল্লাটে খেটে খাওয়া কিছু মানুষের আবাস ছিলো
সূর্য অস্ত যাবার সাথে সাথে ঘুম রাজ্য সরব হতো
পশ্চিমের আকাশ যখন ক্লান্ত তখন কিছু শব্দ কর্ণে প্রবেশ করতে থাকে
মিচমিচে অন্ধকারের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনার তীব্র রশ্মী দেখতে পাওয়া গেলো
ক্লান্ত শ্রান্ত কিনবা অচল গোত্রীয় কাষ্ঠ হাসি তল্লাটের মানুষের মুখে তখন
পরাজিত হবার শংকা না থাকলেও জয় ছিনিয়ে নেবার সম্ভাবনা দেখে দিচ্ছে
প্রশ্বাসে দাবিয়ে রেখেছে নাসিকা রন্ধের উভয় খাইবার পাস
অচল প্রায় চক্ষুতে পূর্ব আকাশের প্রথম প্রভাতের লাল সূর্য
বিপুল সম্ভাবনার মস্তিস্ক অতিচুলের ভারে অবনমিত
কাব্য ছন্দের মাঝে ভালোবাসা বাড়ন্ত,বিদ্রুপ প্রক্সি দিতে থাকে
প্রতিটি শব্দের গঠনে একেকটি প্রশ্বাসের যাতনা সন্তানের পিতৃ পরিচয় নষ্ট করতে থাকে
দৃষ্টিতে,সৃষ্টিতে,বৃষ্টিতে এবং কৃষ্টিতে তখন মধুমেহ রোগের প্রকোপ
জাতির হাঁটার উপযুক্ত সময়ে নিদ্রাসহ বিশ্রাম শরীরে ক্ষয় হানে
আমদানী কৃত ইন্সুলিন ব্যর্থ হতে থাকে রোগ নিবারনে
তবে নিরাময় কবি বলে---“না হাটিলে এই রোগের কোন আরোগ্য নাই”।
তবুও জাতি হাটলো না,সৃষ্টি হলোনা নতুন কোন প্রনোদনা
তৈরি হলো না গ্লুকোজ ভেঙ্গে শক্তি উৎপাদনের শারিরিক কৌশল
প্রকৃতি বিরুপ হতে থাকলো,শরীর অসাড় এবং ভাঙ্গনশীল
স্মৃতি শক্তি অস্পষ্ট হতে থাকে ,নির্জীব হয় দেহের প্রধান অংগ সমূহ
এই ক্ষত বিক্ষত জাতির শরীরে হাঁতুরে শৈল্য চিকিৎসকের ব্যবসা চলছিলো
উপায়হীন জাতি মাঝে মাঝে বিরক্ত হলেও কোন উপায় ছিলো না
উপায় ছিলো না বললে ভুল হবে
উপায় থাকতে দেয়া হয় নি
উপায় থাকতে দেয়া হয়নি বললে ভুল হবে
উপায় সৃষ্টি করতে দেয়া হয়নি
উপায় সৃষ্টি করতে হয়নি বললে ভুল হবে
উপায়হীনতা সুবিধা প্রাপ্তি হিসাবে দেখেছিলো হাতুড়ে শৈল্য চিকিৎসক।
উদ্ভ্রান্ত চিন্তার নবান্ন তখন ঘরে ঘরে সৃজনশীল
চারিদিকে ক্ষিপ্ত কিছু মানুষের উদ্দ্যেশ্যহীন লুটপাট
শ্রেণীতে শ্রেণীতে অদ্ভুত কিছু জীবের চীরস্থায়ী বন্দোবস্ত
শ্বাস কষ্টের রোগীটি শেষ বারের মত আকাশ দেখতে চেয়েছিলো
ভেঙ্গে পড়া সমাজ অত্যাচারি রুপ কথার দৈত্যের কথা স্মরণ করতে থাকে
দৈত্যকে ইশ্বর মেনে সমাজ শ্রেনীর মানুষরা জড় বস্তু হয়ে ছিলো।
মুখে চোখ আছে,নাক আছে,ঠোট আছে,চোখের পাপড়ি আছে
কিছু কিছু কথা ছিলো,
কিন্তু যেই জিনিসটা ছিলো না সেটা হলো-ভাত
যেই জিনিসটা ছিলো না সেটা হলো-অধিকার
যেই জিনিসটা ছিলো না সেটা হলো-স্বনির্ভরতা
যেই জিনিসটা ছিলো না সেটা হলো-সার্বভৌমত্ব
যেই জিনিসটা ছিলো না সেটা হলো-স্বাধীকার
যেই জিনিসটা ছিলো না সেটা হলো-স্বাধীনতা
আর পরাধীনতায় মানূষদের কি কখনও মানূষ বলা যাবে?
মানূষ তার অস্তিত্বের প্রতিকগুলো হারিয়ে কুকুরের সাথে ভাত খেলো।
আসুন এবার ভাবতে বসি
আমরা......।
জাতি হিসাবে কুকুর বড় না মানূষ বড়
আসুন এইবার এই নিয়ে লড়াই করি
আসুন এইবার বড়াই করি
কুকুরের গায়ে মানূষের ঘ্রাণ
মানূষ নিম্ন কুকুর মহান।
মানুষের মুখের খাবার কেড়ে নিলো কুকুর
যেনো কুকুর “আশরাফুল মাখলুকাত”।
কুকুরের রাজ্য প্রস্ফুটিত হতে থাকে ঐরাবতের ক্লান্ত শরীরের মত
একিয়ে বেকিয়ে,ইনিয়ে বিনিয়ে,কলা গাছ খাওয়া হাতি।
হাতিশালে হাতি ছিলো,ঘোড়া শালে ঘোড়া,কুমির শালে কুমির ছিলো
সব কিছু মিথ্যা প্রমানিত করে নতুন করে নাজিল হলো তারা
কুকুরাজ্যের প্রধান ঘোষনা দিলেন-
রাজা হলেও আমি,প্রজা হলেও আমি
আমি সব,আমি ইশ্বর,আমি অফুরন্ত,আমি আজীবন
আমি স্রষ্টা,আমি জনক,শুনতে হবে আমার ধমক “খামোশ”
আমি ঝঞ্জা আমি অগ্নি,পুড়িয়ে চলি বাপ মা ভাই ভগ্নি
আমার চোখে দারুন খেলা,আমি গ্রাস করি বেলা
আমি রুদ্র।আমি বিনাষ করি ক্ষুদ্র
আমার বাহুতে দ্রাবিড়ের শক্তি, মনে অশোকের ভক্তি
আমি সেইদিন হবো ক্ষান্ত যবে সকল কিছু হবে আমার রপ্ত
সেদিন আমার কথা আকাশে বাতাসে ধ্বনিতে থাকিবে
বলিতে থাকিবে কথা
এবারের সংগ্রাম আমার ক্ষমতার সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম আমার শোষনের সংগ্রাম
সেই থেকে পরাধীনতা শব্দটি আমাদের হয়ে গেলো।
অধিকার,স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব,স্বনির্ভরতা এবং দেশ প্রেম
এই শব্দগুলো প্রতিটি পশ্চিম বাংলার বাংলা অভিধান থেকে লেখা হতে থাকে
বাক্য চয়ন করতে কোথাও ত্রুটি হলো কিনা
বাক্য নিনিময়ে উচ্চারণে বাংলা ভাষা সবল হলো কিনা
বাক্য নিক্ষেপ ক্ষুরধার সম্পন্ন হয়েছে কিনা।
বার বার মিলিয়ে নিচ্ছিলো তারা পাছে ভুল না হয়ে যায়।
স্রোত কিভাবে থেমে যায় সেটা জাতিকে অনুভব করাতে পরিকল্পনা শুরু হয়
তাদের কেউ কেউ মনে করেছিলো বাংলাদেশিরা আর উট একই জাতি গোষ্ঠি
এদের মধ্যে অনেক সমার্থকতা আছে,উটের বেশি পানি লাগে না
অন্যদিকে বেচে থাকার জন্য মানুষেরতো বেশি পানি দরকার নাই।
দরকার নাইতো দরকার নাই,কেউ বুঝলো কি বুঝলো না সেটা কোন বিষয় না,
ফরমান জারি হয়েছে কর্তা বইলে দিয়েছে ,তাছাড়া কর্তার কর্তা আদেশ দিয়েছে।
তাই কিছু করার নাই
কিছু বলার নাই
কিছু বুঝার নাই।
জানার নাই।
এদেশের মানুষকে কিছু জানতে হবে না।
“জানার কোন শেষ নাই জানার চেষ্ঠা বৃথা তাই,
আর বলিতে হইবে দৈত্য রাজা ভগবান”
এর পর শুরু হলো দৈত্যরাজা আর রাজার রানীর উটরাজ্য বানানোর পরিকল্পনা
নির্মান শুরু হলো উট বিকাশ কেন্দ্রের চুড়ান্ত কাজ
অতি আনন্দের সাথে,সৌহার্দপূর্ন পরিবেশে পানিকে “জলে” পরিণত করা শুরু হলো
বিপুল উৎসাহ দেখা দিলো সব কয়টি কলাগাছের মালিকদের মধ্যে
বিপুল উৎসাহ দেখা দিল এন্টার্টিকার পেঙ্গুইনদের মধ্যে।
তারা বলতে শুরু করলো পানি নাই তাতে কি জলতো আছে
আর জলতো পবিত্র স্বত্তা,যা পবিত্র হয়ে যায় সেটা নিয়ে কথা বলা যায় না।
জল নিয়ে কথা বলা বারণ আছে,পবিত্র চুক্তিগ্রন্থে সেটা বলা আছে!
এই তল্লাটে পবিত্র চুক্তিগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয় বাৎসরিকভাবে
ওরস মোবারকে হাজেরানেদের জন্য বিশেষ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়।
অন্যদিকে কয়েকদিন না খেতে পারার জন্য এক নিতান্ত সুবোধ বালক চিল্লায়ে উঠলো
“ভাত দে হারাম জাদা নইলে মানচিত্র খাবো”
এইকথা শুনে দৈত্যরাজা খালি হাসতে থাকলো
তার সভাসদদের ডেকে সে তার হাসির কথা শুনালো।
“এই দেখ শালা... এরা কোন দিন মানুষ হবে না
পেটে ক্ষিদা ব্যাটা মরে যা...তা না করে এখন বলে মানচিত্র খাবে
ওকে কয়েকটা মানচিত্র দে কোনটা খাবে দেখ......
জয় আমি।“
ব্যস সভা শেষ।
এবার আরেক সমস্যা আরেক আবাল বালক চিল্লায়ে উঠলো
“ধরা যাবেন ছোঁয়া যাবেনা বলা যাবে না কথা রক্ত দিয়ে পেলাম শালার মরার স্বাধীনতা”
এইবার দৈত্যরাজা আবার সভা ডাকলো-
“একি হচ্ছে দেশে...স্বাধীনতা নিয়ে সমস্যাতে ভুগছে সবায়
এবার থেকে স্বাধীনতাই রাখব নাতো দেশে”
এই বলাতে সবাই ফেলে হেসে
সভা থেকে একজনতো ভেগে গেলো কেশে।
বলা হলো শিশ্ন যাদের আছে কাটা হবে দিবালোকের আলোয়
শিশ্নধারিদের খুঁজে খুঁজে বের করার ফরমান হলো জারি।
এরপর আবার ঘোষনা হলো,”এই দেশে শিশ্ন থাকতে পারবে না
সাবধান হুশিয়ার,১৫ মিনিটে নোটিশ লেখা হলো”
এই দেশে শিশ্ন বিকাশ ঘটানো যাবে না,এখানে শিশ্ন উত্থিত করা যাবে না
তোমাদের যাহাদের এই বিষয়টি আছে তাহারা এটা কেবল সংসারের প্রয়োজনে এস্তেমাল করো
এখন থেকে এই ফরমানের মাধ্যমে মস্তিস্কের শিশ্ন বিকাশকে নিষিদ্ধ করা হইলো”
দৈত্য রাজা কারো সংবাদ শুনতে নারাজ
নিজেই সংবাদ শিরনাম,ঘটনার শিরোমনী
আর তার আশে পাশের সহযোগী দেহ হতে থাকে ধনী।
ধীরে ধীরে গোপনে গোপনে ঘরে ঘরে নজরুলের সংকল্প কবিতা পাঠ হতে থাকে।
সুভাষ মুখোপ্যাধ্যায়ের “ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত জাগ্রত দ্বারে”
সবার ফুলের অপেক্ষায় থাকার জন্য বসন্তকে বিলীণ করতে দিতে রাজ়ী নয়
ফুলের অপেক্ষায় না থেকে দৈত্য রাজার বসন্ত নাশ চলতে থাকে।
সংগ্রাম, অসহযোগ,প্রতিবাদ,বাকশাল,স্বৈরাচার,শাসক,শোষন,অত্যাচার অবিচার,শ্রেনী বৈষম্য,লুটপাট,হত্যা,ধর্ষণ,আক্রমন,পৈশাচিকতা,দালালী,ইত্যাদি শব্দ নিয়ে
এইদেশে বাংলা নিয়ে নতুন করে বাংলা অভিধান লেখা শুরু হয়
সেই অভিধানের নাম দেয়া হয় “সিরাজ সিকদার”।
সেখান থেকে সকল নিষ্পেষন,নির্যাতন,বঞ্জনার বানান বা শব্দার্থ দেখে নেয়া যাচ্ছিলো।
পানিহীন উটরাজ্যে দেখা দিয়েছিলো কিছুটা বৃষ্টির আয়োজন।
প্রকাশিত অভিধান পছন্দ হলো না দৈত্যরাজার, শুরু করে দিলো অভিধান পোড়ানো অভিযান।
আয়োজন চলছিলো,বিপ্লব চলছিলো,সঙ্ঘ তৈরি হচ্ছিলো।
আর অন্য দিকে
পরোয়ানা জারী হলো
অনেক অনেক কথা হলো
দ্যাশটা হলো ধ্বংশ
ধনী কেবল দৈত্য রাজার বংশ।
এই সেই বিপ্লবী সিরাজ সিকদার যার হাতের শক্তি বাংলাদেশের মানুষের হাতে শক্তি আনলো
এই বিপ্লবির মাথার চুল বাংলার মানূষকে ছায়া দিতে থাকলো
এই বিপ্লবীর মগজের গঠন প্রতিটি যুবকের মগজকে আকার দিলো
এই বিপ্লবীর অনবরত সম্মুখ যাত্রা পথের দু'পাশকে আলোড়িত করলো
এই বিপ্লবী যার তর্জনী এবং বৃদ্ধা আঙ্গুলে চেপে থাকা কলম
কবি হতে শেখালো এদেশের মানুষকে।
এই বিপ্লবি যার চোখের দৃষ্টি বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে পশ্চিমে,পূর্বে,উত্তরে,দক্ষিনে
প্রসারিত হয়ে যাচ্ছিলো,
এই বিপ্লবী যার পদভার দৈত্য রাজার বুকে আঘাত হানে
সেই বিপ্লবী,সেই বাঙ্গালী,সেই বাংলাদেশি ।।যার একমাত্র নাম “সিরাজ সিকদার”।।
(ক্রমশ)
I‡qQ LQi“, wm‡jU †_‡K: mv‡eK †mbvcÖavb †Rbv‡ij gBb D Avn‡g` wm‡j‡Ui Kvbv¸j GjvKvq M‡o †Zvjv eûj Av‡jvwPZ nvDwRs cÖKí cwi`k©‡b G‡j †_‡g hvq ¯’vbxq fy³‡fvMx‡`i KÉ| ZU¯’ n‡q c‡ob G MÖv‡gi 130wU cwiev‡ii K‡qK nvRvi gvbyl| Gici †_‡K Zviv †Kvb K_v ej‡Qb bv| cÖvq `yB eQi a‡i Zviv wm‡j‡Ui eûj Av‡jvwPZ knx` †j. K. Gg Avi †PŠayix AvevwmK cÖK‡íi g‡a¨ c‡o Aei“× Ae¯’vq i‡q‡Qb| Ni †_‡K †ei nIqvi iv¯—v †bB Zv‡`i| G Kvi‡Y N‡ii evB‡i †ei“‡Z bv †c‡i webv wPwKrmvq auy‡K ayu‡K g‡i‡Qb K‡qKRb| GLbI Zv‡`i †mB i“×k¦vm Ae¯’v Kv‡Uwb| Zviv GLbI ew›` Ae¯’vq Rxebhvcb Ki‡Qb| MZKvj g½jevi wm‡j‡Ui G cÖKí GjvKv Ny‡i Rvbv †M‡Q G Ae¯’v| ÔA‡bK K‡ó Avgvi evev GLv‡b 11 kZK Rwg wK‡bwQ‡jb| ¯^cœ †`‡LwQ‡jb ILv‡b evwo evbv‡eb| evwK RxebUv wZwb wm‡j‡UB KvwU‡q †`‡eb| wKš‘ Zv Avi n‡jv bv| K¨v›Ub‡g‡›Ui †`vnvB w`‡q Avgv‡`i RwgUv `Lj K‡i evbv‡bv nq nvDwRs|Õ G K_v¸‡jv hLb ejwQ‡jb Bw`ªm Avjx ZLb Zvi †PvL w`‡q cvwb SiwQj| ïay Bw`ªm Avjx bq Zvi g‡Zv nvRv‡iv gvbyl n‡q‡Qb fy³‡fvMx| n‡q‡Qb gvbwmKfv‡e wbh©vZ‡bi wkKvi| `xN©w`b ci Zv‡`i gyL dz‡U‡Q| Zviv ej‡Qb, wKfv‡e Iqvb B‡j‡f‡bi cieZx© mg‡q wm‡j‡Ui eûj Av‡jvwPZ nvDwRs †Kv¤úvwb knx` †j. K. Gg Avi †PŠayix AvevwmK cÖKí M‡o †Zvjv nq| MZKvj g½jevi cÖKí GjvKvq †M‡j kÕ kÕ gvbyl G‡m GB nvDwRs †Kv¤úvwbi wei“‡× Awf‡hvM †Zv‡jb|